আল্লাযীনা ইয়াতারব্বাসূনা বিকুম ফাইন ক-না লাকুম ফাতহুমমিনাল্লা-হি ক-লূ-আলাম নাকুম মা‘আকুম ওয়া ইন ক-না লিলক-ফিরীনা নাসীবুন ক-লূআলাম নাছতাহবিয‘আলাইকুম ওয়া নামনা‘কুম মিনাল মু’মিনীনা ফাল্লা-হু ইয়াহকুমু বাইনাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়ালাইঁ ইয়াজ‘আলাল্লা-হু লিলক-ফিরীনা ‘আলাল মু’মিনীনা ছাবীলা-।উচ্চারণ
এই মুনাফিকরা তোমাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করছে। তারা দেখছে পানি কোন্ দিকে গড়ায়। যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের বিজয় সূচিত হয় তাহলে তারা এসে বলবে, আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? আর যদি কাফেরদের পাল্লা ভারী থাকে তাহলে তাদেরকে বলবে, আমরা কি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সক্ষম ছিলাম না? এরপরও আমরা মুসলমানদের হাত থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করেছি। ১৭১ কাজেই কিয়ামতের দিন তোমাদের ও তাদের ব্যাপারে ফায়সালা আল্লাহই করে দেবেন। আর (এই ফায়সালায়) আল্লাহ কাফেরদের জন্য মুসলমানদের ওপর বিজয় লাভ করার কোন পথই রাখেননি। তাফহীমুল কুরআন
(হে মুসলিমগণ! এরা) সেই সব লোক, যারা তোমাদের (অশুভ পরিণামের) অপেক্ষায় থাকে। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের বিজয় অর্জিত হলে, তারা (তোমাদেরকে) বলে, আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না। আর যদি কাফিরদের (বিজয়) নসীব হয়, তবে (তাদেরকে) বলে, আমরা কি তোমাদেরকে বাগে পেয়েছিলাম না এবং (তা সত্ত্বেও) আমরা কি মুসলিমদের হাত থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করিনি? #%৯৮%# সুতরাং আল্লাহই কিয়ামতের দিন তোমাদের ও তাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন এবং আল্লাহ মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের (চূড়ান্ত বিজয়ের) কোনও পথ রাখবেন না।মুফতী তাকী উসমানী
ওরা এমন যারা তোমাদের সম্বন্ধে প্রতীক্ষা করছে; এবং যদি তোমরা আল্লাহর পক্ষ হতে জয়লাভ কর তাহলে তারা বলেঃ আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলামনা? এবং যদি ওটা অবিশ্বাসীদের ভাগ্যে ঘটে তাহলে বলে- আমরা কি তোমাদের নেতৃত্ব করিনি এবং বিশ্বাসীগণ হতে তোমাদেরকে রক্ষা করিনি? অতঃপর আল্লাহ উত্থান দিবসে তোমাদের মধ্যে বিচার করবেন; এবং আল্লাহ কখনও মু’মিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে বিজয়ী করবেননা।মুজিবুর রহমান
এরা এমনি মুনাফেক যারা তোমাদের কল্যাণ-অকল্যাণের প্রতীক্ষায় ওঁৎপেতে থাকে। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তোমাদের যদি কোন বিজয় অর্জিত হয়, তবে তারা বলে, আমরাও কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? পক্ষান্তরে কাফেরদের যদি আংশিক বিজয় হয়, তবে বলে, আমরা কি তোমাদেরকে ঘিরে রাখিনি এবং মুসলমানদের কবল থেকে রক্ষা করিনি? সুতরাং আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কেয়ামতের দিন মীমাংসা করবেন এবং কিছুতেই আল্লাহ কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় দান করবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা তোমাদের অমঙ্গলের প্রতীক্ষায় থাকে তারা আল্লাহ্ র পক্ষ হতে তোমাদের জয় হলে বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না ?’ আর যদি কাফিরদের কিছু বিজয় হয়, তবে তারা বলে, ‘আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছিলাম না আর আমরা কি তোমাদেরকে মু’মিনদের হাত হতে রক্ষা করি নাই ?’ আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করবেন আর আল্লাহ্ কখনই মু’মিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদের জন্যে কোন পথ রাখবেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যারা তোমাদের ব্যাপারে (অকল্যাণের) অপেক্ষায় থাকে, অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি তোমাদের বিজয় হয় তবে তারা বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না’? আর যদি কাফিরদের আংশিক বিজয় হয়, তবে তারা বলে, ‘আমরা কি তোমাদের উপর কর্তৃত্ব করিনি এবং মুমিনদের কবল থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করিনি’? সুতরাং আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে বিচার করবেন। আর আল্লাহ কখনো মুমিনদের বিপক্ষে কাফিরদের জন্য পথ রাখবেন না।আল-বায়ান
তারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) তোমাদের ব্যাপারে ওঁৎ পেতে থাকে, তারা আল্লাহর তরফ হতে তোমাদের জয়লাভ হলে বলে আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? আর যদি কাফিরদের কিছু বিজয় ঘটে তখন তারা বলে, আমরা কি তোমাদের উপর বিজয়ী ছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে মু’মিনদের হতে রক্ষা করিনি? এমতাবস্থায় আল্লাহ ক্বিয়ামাত দিবসে তোমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন এবং আল্লাহ কক্ষনো মু’মিনদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে (জয়লাভের) পথ করে দেবেন না।তাইসিরুল
নিঃসন্দেহ মূনাফিকরা চায় আল্লাহ্কে ফাঁকি দিতে, কিন্তু তিনিই তাদের ফাঁকি প্রতিদানকারী। আর যখন তারা নামাযে দাঁড়ায়, তারা দাঁড়ায় অমনোযোগের সাথে, লোককে তারা দেখাতে যায়; আর তারা আল্লাহ্কে স্মরণ করে না অল্প পরিমাণে ছাড়া,মাওলানা জহুরুল হক
১৭১
এটিই প্রত্যেক যুগের মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। মৌখিক স্বীকারোক্তি ও ইসলামের গণ্ডীর মধ্যে নামমাত্র প্রবেশের মাধ্যমে মুসলমান হিসেবে যতটুকু স্বার্থ ভোগ করা যায় তা তারা ভোগ করে। আবার অন্যদিকে কাফের হিসেবে যে স্বার্থটুকু ভোগ করা সম্ভব তা ভোগ করার জন্য তারা কাফেরদের সাথে যোগ দেয়। তারা সর্বোতভাবে কাফেরদের বিশ্বাসভাজন হবার চেষ্টা করে। তাদেরকে বলেঃ আমরা মোটেই “গোঁড়া ও বিদ্বেষপরায়ণ” মুসলমান নই। মুসলমাদের সাথে আমাদের অবশ্যি নামের সম্পর্ক আছে কিন্তু আমাদের মানসিক ঝোক, আগ্রহ ও বিশ্বস্ততা রয়েছে তোমাদের প্রতি। চিন্তা –ভাবনা, আচার-ব্যবহার, রুচি-প্রকৃতি ইত্যাদি সবদিক দিয়ে তোমাদের সাথে আমাদের গভীর মিল। তাছাড়া ইসলাম ও কুফরীর সংঘর্ষে আমরা তোমাদের পক্ষই অবলম্বন করবো।
অর্থাৎ তাদের আসল উদ্দেশ্য হল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা। যদি মুসলিমগণ জয়লাভ করে এবং গনীমতের মালামাল তাদের হস্তগত হয়, তবে নিজেদেরকে তাদের সাথী হিসেবে দাবী করে। এবং কিভাবে সে মালে ভাগ বসানো যায়, সেই ধান্ধায় থাকে। পক্ষান্তরে জয় যদি কাফিরদের হাতে চলে যায়, তবে এই বলে তাদেরকে খোঁটা দেয় যে, আমরা সাহায্য-সহযোগিতা না করলে তোমরা জয়লাভ করতে পারতে না। সুতরাং আমাদের সে অবদানের আর্থিক প্রতিদান দাও।
১৪১. যারা তোমাদের অমঙ্গলের প্রতীক্ষায় থাকে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জয় হলে বলে, আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না। আর যদি কাফেরদের কিছু বিজয় হয়, তবে তারা বলে, আমরা কি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রবল ছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে মুমিনদের হাত থেকে রক্ষা করিনি(১)? আল্লাহ কেয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে বিচার মীমাংসা করবেন এবং আল্লাহ কখনই মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফেরদের জন্য কোন পথ রাখবেন না।(২)
(১) এটিই প্রত্যেক যুগের মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। মৌখিক স্বীকারোক্তি ও ইসলামের গণ্ডীর মধ্যে নামমাত্র প্রবেশের মাধ্যমে মুসলিম হিসাবে যতটুকু স্বার্থ ভোগ করা যায় তা তারা ভোগ করে। আবার অন্যদিকে কাফের হিসাবে যে স্বার্থটুকু ভোগ করা সম্ভব তা ভোগ করার জন্য তারা কাফেরদের সাথে যোগ দেয়। তাদেরকে বলেঃ আমরা মোটেই গোড়া বা প্রতিক্রিয়াশীল অথবা মৌলবাদী-বিদ্বেষপরায়ণ মুসলিম নই। মুসলিমদের সাথে আমাদের নামের সম্পর্ক আছে কিন্তু আমাদের মানসিক ঝোঁক, আগ্রহ ও বিশ্বস্ততা রয়েছে তোমাদের প্রতি। চিন্তা-ভাবনা, আচার-ব্যবহার, রুচি-প্রকৃতি ইত্যাদি সবদিক দিয়ে তোমাদের সাথে আমাদের গভীর মিল। তাছাড়া ইসলাম ও কুফরীর সংঘর্ষে আমরা তোমাদের পক্ষই অবলম্বন করব।
(২) এ আয়াতের অর্থ এ নয় যে, দুনিয়াতে কোন কাফের ঈমানদারদের উপর বিজয়ী হবে না কারণ, এটার মূলকথা আখেরাতের সাথে সম্পৃক্ত। আয়াতের শুরুতেই কিয়ামতের দিন উল্লেখ করার মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এক লোক এসে বলল যে, এ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহ কখনই মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফেরদের জন্য কোন পথ রাখবেন না” অথচ কাফেররা মুমিনদের উপর বিজয়ী হচ্ছে। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আয়াতের প্রথমাংশের দিকে তাকাও। সেখানে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন। সুতরাং কিয়ামতের দিন আল্লাহ কখনই মুমিনদের বিরুদ্ধে কাফেরদের জন্য কোন পথ রাখবেন না। (মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৩০৯; দ্বিয়া আল-মাকদেসী, আল-আহাদিসুল মুখতারাহ ২/৪০৬-৪০৭, হাদীস নং ৭৯৩) তবে ইমামগণ এ আয়াত থেকে দুনিয়াতে এ মাসআলা নিয়েছেন যে, কোন কাফের কোন মুমিনের ওয়ারিশ হয় না। (আত-তা’লিকুল মুমাজ্জাদ আলা মুওয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ)
(১৪১) যারা তোমাদের (শুভাশুভ পরিণতির) প্রতীক্ষায় থাকে; সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহে তোমাদের বিজয় লাভ হলে তারা (তোমাদেরকে) বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ আর যদি অবিশ্বাসীদের আংশিক বিজয় লাভ হয়, তাহলে তারা (তাদেরকে) বলে, ‘আমরা কি তোমাদের বিরুদ্ধে জয়ী ছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে বিশ্বাসীদের হাত থেকে রক্ষা করিনি?’(1) অতএব আল্লাহই কিয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করবেন(2) এবং আল্লাহ কখনই বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসীদের জন্য কোন পথ রাখবেন না। (3)
(1) অর্থাৎ, আমরা তোমাদের উপর বিজয় লাভ করতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আমরা তোমাদেরকে নিজেদের সাথী মনে করে ছেড়ে দিলাম এবং মুসলিমদের সঙ্গ ত্যাগ করে তোমাদেরকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করলাম। অর্থাৎ, তোমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে কেবল আমাদের দ্বিমুখী সেই কৌশলের ফলে; যে কৌশল আমরা মুসলিমদের সাথে বাহ্যিকভাবে শরীক হয়ে অবলম্বন করেছিলাম। আর সেই সাথে গোপনে তাদের ক্ষতি করতে কোন প্রকার ত্রুটি ও অবহেলা আমরা করিনি। আর এইভাবেই তোমরা তাদের উপর জয়লাভ করলে। --এ ছিল মুনাফিকদের কথা, যা তারা কাফেরদেরকে বলেছিল।
(2) অর্থাৎ, দুনিয়াতে ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে সাময়িকভাবে কিঞ্চিৎ বিজয় লাভ করেছ বটে, কিন্তু কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তোমাদের বিচার করবেন সেই সব গুপ্ত অভিপ্রায় ও অবস্থাসমূহের আলোকে, যা তোমরা নিজেদের মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিলে। কেননা, তিনি তো মনের মধ্যে লুক্কায়িত বিষয়সমূহের ব্যাপারে খুব ভালোভাবেই অবহিত। যখন তিনি এর জন্য শাস্তি দেবেন, তখন তারা অবগত হয়ে যাবে যে, দুনিয়ায় মুনাফিক্বী স্বভাব অবলম্বন করে ক্ষতিকর সামগ্রী ক্রয় করেছিল। যার কারণে তাদেরকে জাহান্নামের চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে পানাহ দিন।
(3) অর্থাৎ, বিজয় দান করবেন না। এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, (ক) মুসলিমদের এ জয় কিয়ামতের দিন লাভ হবে। (খ) হুজ্জত ও প্রমাণাদির দিক দিয়ে কাফেররা মুসলিমদের উপর জয়লাভ করতে পারবে না। (গ) কাফেরদের এমন বিজয় আসবে না, যাতে মুসলিমদের রাজ্য ও প্রতিপত্তি একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং তাদেরকে মুদ্রিত ভুল শব্দের মত বিশ্বের মানচিত্র থেকে মিটিয়ে দেওয়া হবে। একটি সহীহ হাদীস থেকেও এই অর্থের সমর্থন পাওয়া যায়। (ঘ) যতদিন পর্যন্ত মুসলিমরা নিজেদের দ্বীন অনুযায়ী আমল করবে, বাতিলের প্রতি অসন্তুষ্ট থাকবে এবং অন্যায় কাজে বাধা দেবে, ততদিন পর্যন্ত কাফেররা তাদের উপর জয়লাভ করতে পারবে না। ইমাম ইবনুল আরাবী বলেন, ‘এটি সবার থেকে উত্তম অর্থ।’ কারণ, মহান আল্লাহ বলেন,(وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ) অর্থাৎ, যে বিপদই তোমাদের উপর আপতিত হয়, তা সবই তোমাদের কৃতকর্মের ফল। (সূরা শূরাঃ ৩০) (ফাতহুল ক্বাদীর) অর্থাৎ, মুসলিমদের পরাজয় তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিরই অনিবার্য কুফল।