ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূছু ম্মা কাফারু ছু ম্মা আ-মানূছু ম্মা কাফারু ছু ম্মাঝ দা-দূকুফরল লাম ইয়াকুনিল্লা-হু লিইয়াগফিরলাহুম ওয়ালা- লিইয়াহদিয়াহুম ছাবীলা-।উচ্চারণ
অবশ্যি যেসব লোক ঈমান এনেছে তারপর কুফরী করেছে, আবার ঈমান এনেছে আবার কুফরী করেছে, তারপর নিজেদের কুফরীর মধ্যে এগিয়ে যেতে থেকেছে, ১৬৮ আল্লাহ কখনো তাদেরকে মাফ করবেন না এবং কখনো তাদেরকে সত্য-সঠিক পথও দেখাবেন না। তাফহীমুল কুরআন
যারা ঈমান এনেছে, তারপর কাফির হয়ে গেছে, তারপর ঈমান এনেছে, তারপর আবার কাফির হয়ে গেছে, তারপর কুফরে অগ্রগামী হতে থেকেছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করার নন এবং তাদেরকে সঠিক পথে আনয়ন করারও নন। #%৯৭%#মুফতী তাকী উসমানী
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, অতঃপর অবিশ্বাসী হয়, পুনরায় বিশ্বাস স্থা্পন করে এবং আবার অবিশ্বাসী হয়, অনন্তর অবিশ্বাসে পরিবর্ধিত হয়, তাহলে আল্লাহ কখনই তাদেরকে ক্ষমা করবেননা এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেননা।মুজিবুর রহমান
যারা একবার মুসলমান হয়ে পরে পুনরায় কাফের হয়ে গেছে, আবার মুসলমান হয়েছে এবং আবারো কাফের হয়েছে এবং কুফরীতেই উন্নতি লাভ করেছে, আল্লাহ তাদেরকে না কখনও ক্ষমা করবেন, না পথ দেখাবেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে ও পরে কুফরী করে এবং আবার ঈমান আনে, আবার কুফরী করে; এরপর তাদের কুফরী প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ্ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোন পথও দেখাবেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে তারপর কুফরী করেছে, আবার ঈমান এনেছে তারপর কুফরী করেছে, এরপর কুফরীকে বাড়িয়ে দিয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করার নন এবং তাদেরকে পথ প্রদর্শন করার নন।আল-বায়ান
যারা ঈমান আনল, অতঃপর কুফরী করল আবার ঈমান আনল আবার কুফরী করল, অতঃপর কুফরীতে অগ্রসর হতে থাকল, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং পথপ্রদর্শন করবেন না।তাইসিরুল
মূনাফিকদের সুসংবাদ দাও যে তাদের জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি --মাওলানা জহুরুল হক
১৬৮
এখানে সেইসব লোকের কথা বলা হয়েছে যারা দ্বীনকে নিছক একটি হাল্কা প্রমোদ ও চিত্তবিনোদন হিসেবে গ্রহণ করে। যারা দ্বীনকে একটি খেলনা বানিয়ে নিজেদের কল্পনা ও কামনার রশি দিয়ে ইচ্ছেমতো তাকে ঘোরাতে থাকে তাদের কথাই এখানে আলোচিত হয়েছে। চিন্তার জগতে একটা আলোড়ন উঠলো আর অমনি মুসলমান হয়ে গেলো। তারপর আর একটা আলোড়ন উঠলো আর অমনি কাফের হয়ে গেলো। অথবা যখন দেখা গেলো মুসলমান হয়ে গেলে বৈয়ষিক স্বার্থ হাসিল করা যাবে তখন মুসলমান হয়ে গেলো। আবার যখন স্বার্থের খুঁটি ঘুরে গেলো তখন তার পদসেবা করার জন্য নির্দ্বিধায় সেদিকে চলে গেলো। এ ধরনের লোকদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফেরাত বা হিদায়াত কিছুই নেই। “তারপর নিজেদের কুফরীর মধ্যে তারা এগিয়ে যেতেই থাকলো”-এখানে একথা বলার অর্থ হচ্ছেঃকোন ব্যক্তি কেবল কাফের হয়ে গিয়েই ক্ষান্ত হয় না। বরং এরপর সে অন্য লোকদেরকেও ইসলাম থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে। ইসলামের বিরুদ্ধে গোপন চক্রান্ত করে এবং প্রকাশ্যে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে থাকে। কুফরীর শির উন্নত করার এবং তার মোকাবিলায় আল্লাহর দ্বীনের ঝাণ্ডা ধূলায় লুণ্ঠিত করার জন্য নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালায়। এটিকেই বলে কুফরীতে আরো উন্নতি হওয়া, কুফরী আরো বেড়ে যাওয়া এবং একটি অপরাধের পর আর একটি অপরাধ তারপর আর একটি অপরাধ-এভাবে অপরাধের ফিরিস্তি ক্রমাগত বেড়ে যাওয়া। পরিণামে এ শাস্তিও নিছক কুফরী থেকে অনেক বেশী হতে হবে।
যে মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা চলছে এর দ্বারা তাদেরকেও বোঝানো হতে পারে। কেননা তারা মুসলিমদের কাছে এসে নিজেদের ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করত। তারপর নিজেদের মধ্যে গিয়ে কুফরে ফিরে যেত। তারপর আবার কখনও মুসলিমদের সামনে পড়লে পুনরায় ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিত। তারপর আবার নিজেদের লোকদের কাছে গিয়ে তাদেরকে নিজেদের কুফর সম্পর্কে আশ্বস্ত করত এবং নিজেদের কাজ-কর্ম দ্বারা উত্তরোত্তর কুফরের দিকে এগিয়ে যেত। তাছাড়া কোনও কোনও রিওয়ায়াতে এমন কিছু লোকেরও উল্লেখ পাওয়া যায়, যারা ইসলাম গ্রহণের পর মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল। তারপর আবার তাওবা করে ইসলামে ফিরে আসে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পুনরায় মুরতাদ হয়ে কুফর অবস্থায়ই মারা যায়। আয়াতের শব্দাবলীর ভেতর উভয় প্রকার লোকদেরই অবকাশ আছে। তাদের সম্পর্কে যে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে সঠিক পথে আনবেন না’, তার অর্থ এই যে, তারা যখন স্বেচ্ছায় কুফর এবং তার পরিণাম হিসেবে জাহান্নামের পথই বেছে নিল, তখন আল্লাহ জবরদস্তিমূলকভাবে তাদেরকে ঈমান ও জান্নাতের পথে ফিরিয়ে আনবেন না। কেননা দুনিয়া হল পরীক্ষার স্থান। এখানে প্রত্যেকে নিজ এখতিয়ার ও ইচ্ছাক্রমে যে পথ অবলম্বন করবে সে অনুযায়ীই তার পরিণাম স্থির হবে। আল্লাহ তাআলা কাউকে যেমন জোর-জবরদস্তি করে মুসলিম বানান না, তেমনি সেভাবে কাউকে কাফিরও বানান না।
১৩৭. নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও পরে কুফরী করে এবং আবার ঈমান আনে, আবার কুফরী করে, তারপর তাদের কুফরী প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোন পথ দেখাবেন না।(১)
(১) এ আয়াতের তাৎপর্য এই যে, বার বার কুফরীর মধ্যে লিপ্ত হওয়ার ফলে সত্যকে উপলব্ধি করার এবং গ্রহণ করার যোগ্যতা রহিত হয়ে যায়। ভবিষ্যতে তাওবা করা ও ঈমান আনার সৌভাগ্য হয় না। তবে কুরআন-হাদীসের অকাট্য দলীলাদির দ্বারা প্রমাণিত হচ্ছে যে, যত বড় কট্টর কাফের বা মুরতাদই হোক না কেন, যদি সত্যিকারভাবে তাওবা করে, তবে পূর্ববর্তী সমুদয় গোনাহ মাফ হয়ে যায়। অতএব, বার বার কুফরী করার পরও যদি তারা সত্যিকারভাবে তাওবা করে, তবে তাদের জন্য এখনো ক্ষমার আইন উন্মুক্ত রয়েছে। এখানে তাওবাহ কবুল না করার অর্থ এই যে, তারা কোন কোন গোনাহ থেকে তাওবা করলেও মূল গোনাহ অর্থাৎ শির্ক ও কুফর থেকে তাওবাহ করতে সমর্থ হয় না। সুতরাং তাদের তাওবাহ গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
(১৩৭) যারা বিশ্বাস করার পর অবিশ্বাস করে এবং আবার বিশ্বাস করে, অতঃপর আবার অবিশ্বাস করে, অতঃপর তাদের অবিশ্বাস-প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোন পথও দেখাবেন না। (1)
(1) কোন কোন মুফাসসির এ থেকে ইয়াহুদীদের বুঝিয়েছেন। তারা মূসা (আঃ)-এর উপর ঈমান এনেছিল, কিন্তু উযায়ের (আঃ)-কে অস্বীকার করেছিল। আবার উযায়ের (আঃ)-এর উপর ঈমান আনলে ঈসা (আঃ)-কে অস্বীকার করেছিল। এইভাবে তাদের কুফরী ও অবিশ্বাস বাড়তেই থাকল। এমনকি তারা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতকেও অস্বীকার করে বসল। কেউ কেউ এ থেকে মুনাফিকদেরকে বুঝিয়েছেন। কেননা, তাদের কেবল লক্ষ্য ছিল মুসলিমদের ক্ষতি সাধন করা। তাই তারা বারবার ভান করে নিজেদেরকে মুসলিম প্রকাশ করত। পরিশেষে তাদের কুফরী ও ভ্রষ্টতা এত বেড়ে গেল যে, তাদের হিদায়াত লাভের আশাই শেষ হয়ে গেল।