লাইছা বিআমা-নিইইয়ুকুম ওয়ালাআমা-নিইয়ি আহলিল কিতাবি মাইঁ ইয়া‘মাল ছূআইঁ ইউজঝা বিহী ওয়ালা-ইয়াজিদ লাহু মিন দূ নিল্লা-হি ওয়ালিইইয়াওঁ ওয়ালা-নাসীর-।উচ্চারণ
চূড়ান্ত পরিণতি না তোমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ওপর নির্ভর করছে, না আহলি কিতাবদের আশা- আকাঙ্ক্ষার ওপর। অসৎকাজ যে করবে সে তার ফল ভোগ করবে এবং আল্লাহর মোকাবিলায় সে নিজের কোন সমর্থক ও সাহায্যকারী পাবে না। তাফহীমুল কুরআন
(জান্নাতে যাওয়ার জন্য) না তোমাদের আকাঙ্ক্ষাসমূহ যথেষ্ট এবং না কিতাবীদের আকাঙ্ক্ষাসমূহ। যে-কেউ মন্দ কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে এবং সে নিজের জন্য আল্লাহ ছাড়া কোনও বন্ধু ও সাহায্যকারী পাবে না। #%৮৬%#মুফতী তাকী উসমানী
না তোমাদের বৃথা আশায় কাজ হবে, আর না আহলে কিতাবের বৃথা আশায়; যে অসৎ কাজ করবে সে তার প্রতিফল পাবে এবং সে আল্লাহর পরিবর্তে কেহকে বন্ধু অথবা সাহায্যকারী প্রাপ্ত হবেনা।মুজিবুর রহমান
তোমাদের আশার উপর ও ভিত্তি নয় এবং আহলে-কিতাবদের আশার উপরও না। যে কেউ মন্দ কাজ করবে, সে তার শাস্তি পাবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া নিজের কোন সমর্থক বা সাহায্যকারী পাবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমাদের খেয়াল-খুশি ও কিতাবীদের খেয়াল-খুশি অনুসারে কাজ হবে না; কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে পাবে আর আল্লাহ্ ব্যতীত তার জন্যে সে কোন অভিভাবক ও সহায় পাবে না।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
না তোমাদের আশায় এবং না কিতাবীদের আশায় (কাজ হবে)। যে মন্দকাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।আল-বায়ান
তোমাদের বাসনা আর আহলে কিতাবদের বাসনা কোন কাজে আসবে না। যে ব্যক্তি কোন কুকর্ম করবে, সে তার বিনিময় প্রাপ্ত হবে, সে আল্লাহ ছাড়া তার জন্য কোন অভিভাবক পাবে না, কোন সাহায্যকারীও না।তাইসিরুল
আর যে কেউ ভালো ভালো কাজ করে, পুরুষ হোক বা নারী, আর সে মূমিন হয়, -- এরাই তবে বেহেশতে প্রবেশ করবে, আর তাদের অন্যায় করা হবে না খেজুর-বিচির-খোসা-পরিমাণে।মাওলানা জহুরুল হক
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আখিরাতের যে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তা হে মুসলিমগণ! তোমাদের আশা দ্বারাও লাভ হবে না এবং কিতাবীদের আশা দ্বারাও নয়। তা লাভ হতে পারে কেবল ঈমান ও সৎকর্ম দ্বারা। যেমনটা পরের আয়াতসমূহে জানানো হয়েছে এবং তাতে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যে দীনের প্রচলন দিয়ে গেছেন, যার সারবস্তু হল আল্লাহর প্রতি চরম আনুগত্য, তার অনুসরণ দ্বারাই আখিরাতের নাজাত ও পুরস্কার লাভ হতে পারে। তিনিই সে দীনের নাম দিয়েছেন ইসলাম এবং তারই পূর্ণতাবিধান হয়েছে শেষনবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে। সুতরাং এখন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেরই কর্তব্য কেবল তাঁরই অনুসরণ করা। -অনুবাদক
১২৩. তোমাদের খেয়াল-খুশী ও কিতাবীদের খেয়াল-খুশী অনুসারে কাজ হবে না(১); কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে পাবে(২) এবং আল্লাহ ছাড়া তার জন্য সে কোন অভিভাবক ও সহায় পাবে না।
(১) আয়াতে মুসলিম ও আহলে-কিতাবদের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি কথোপকথন উল্লেখিত হয়েছে। এরপর কথোপকথন বিচার করে উভয় পক্ষকে বিশুদ্ধ হেদায়াত দেয়া হয়েছে। অবশেষে আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় ও শ্রেষ্ঠ হওয়ার একটি মানদণ্ড ব্যক্ত করা হয়েছে, যা সামনে রাখলে মানুষ কখনো ভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার শিকার হবে না। এতে বলা হয়েছে যে, এ গর্ব ও অহংকার কারো জন্য শোভা পায় না। শুধু কল্পনা, বাসনা ও দাবী দ্বারা কেউ কারো চাইতে শ্রেষ্ঠ হয় না; বরং প্রত্যেকের কাজকর্মই শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তি। কারো নবী ও গ্রন্থ যতই শ্রেষ্ঠ হোক না কেন, যদি সে ভ্রান্ত কাজ করে, তবে সেই কাজের শাস্তি পাবে। এ শাস্তির কবল থেকে রেহাই দিতে পারে- এরূপ কাউকে সে খুঁজে পাবে না।
(২) এ আয়াত নাযিল হলে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ “যে কেউ কোন অসৎকাজ করবে, সে জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হবে”। আয়াতটি যখন নাযিল হল, তখন আমরা খুব দুঃখিত ও চিন্তাযুক্ত হয়ে পড়লাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে বললামঃ এ আয়াতটি তো কোন কিছুই ছাড়েনি। সামান্য মন্দ কাজ হলেও তার সাজা দেয়া হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ চিন্তা করো না, সাধ্যমত কাজ করে যাও।
কেননা, (উল্লেখিত শাস্তি যে জাহান্নামই হবে, তা জরুরী নয়) তোমরা দুনিয়াতে যে কোন কষ্ট বা বিপদাপদে পড়, তাতে তোমাদের গোনাহর কাফফারা এবং মন্দ কাজের শাস্তি হয়ে থাকে। এমনকি যদি কারো পায়ে কাটা ফুটে, তাও গোনাহর কাফফারা বৈ নয়।’ (মুসলিমঃ ২৫৭৪) অন্য এক বর্ণনায় আছে, মুসলিম দুনিয়াতে যে কোন দুঃখ-কষ্ট, অসুখ-বিসুখ অথবা ভাবনা-চিন্তার সম্মুখীন হয়, তা তার গোনাহর কাফফারা হয়ে যায়। (বুখারীঃ ৫৬৪১, মুসলিমঃ ২৫৭৩) অন্য হাদীসে এসেছে, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে কিছু বিপদাপদ দিয়ে থাকেন। (বুখারী ৫৬৪৫)
মোটকথা, আলোচ্য আয়াতে মুসলিমদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, শুধু দাবী ও বাসনায় লিপ্ত হয়ো না; বরং কাজের চিন্তা কর। কেননা, তোমরা অমুক নবী কিংবা গ্রন্থের অনুসারী শুধু এ বিষয় দ্বারাই তোমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। বরং এ গ্রন্থের প্রতি বিশুদ্ধ ঈমান এবং তদনুযায়ী সৎকার্য সম্পাদনের মধ্যেই প্রকৃত সাফল্য নিহিত রয়েছে।
(১২৩) (শেষ পরিণতি) তোমাদের আশার উপর, আর না ঐশীগ্রন্থধারীদের মনস্কামনার উপর নির্ভর করে। (বরং) যে মন্দ কাজ করবে, সে তার প্রতিফল পাবে এবং আল্লাহ ভিন্ন সে তার জন্য কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।