ওয়া লাওলা-ফাদলুল্লা-হি ‘আলাইকা ওয়া রহমাতুহূলাহাম্মাত তাইফাতুম মিনহুম আইঁ ইউদিললূকা ওয়ামা-ইউদিললূনা ইলাআনফুছাহুম ওয়ামা-ইয়াদুররূনাকা মিন শাইইওঁ ওয়া আনঝালাল্লা-হু ‘আলাইকাল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়া ‘আল্লামাকা মা-লাম তাকুন তা‘লামু ওয়াক-না ফাদলুল্লা-হি ‘আল্লাইকা ‘আজীমা-।উচ্চারণ
হে নবী! তোমার প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ না হতো এবং তার রহমত যদি তোমার সাথে সংযুক্ত না থাকতো, তাহলে তাদের মধ্য থেকে একটি দলতো তোমাকে বিভ্রান্ত করার ফায়সালা করেই ফেলেছিল। অথচ প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকে বিভ্রান্ত করছিল না এবং তারা তোমার কোন ক্ষতি করতে পারতো না। ১৪২ আল্লাহ তোমার ওপর কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন, এমন সব বিষয় তোমাকে শিখিয়েছেন যা তোমার জানা ছিল না এবং তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ অনেক বেশী। তাফহীমুল কুরআন
এবং (হে নবী!) তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকলে তাদের একটি দল তো তোমাকে সরল পথ হতে বিচ্যুত করার ইচ্ছা করেই ফেলত। #%৭৮%# (প্রকৃতপক্ষে) তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করছে না। তারা তোমার কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং তোমাকে এমন সব বিষয়ে জ্ঞান দিয়েছেন, যা তুমি জানতে না। বস্তুত তোমার প্রতি সর্বদাই আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।মুফতী তাকী উসমানী
আর যদি তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হত তাহলে তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে ইচ্ছুক হয়েছিল, এবং তারা নিজেদেরকে ছাড়া বিপদগামী করেনি ও তারা তোমাকে কোন বিষয়ে ক্লেশ দিতে পারবেনা; এবং আল্লাহ তোমার প্রতি গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতেনা তিনি তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন; এবং তোমার প্রতি আল্লাহর অসীম করুণা রয়েছে।মুজিবুর রহমান
যদি আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হত, তবে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল। তারা পথভ্রান্ত করতে পারে না কিন্তু নিজেদেরকেই এবং আপনার কোন অনিষ্ট করতে পারে না। আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশী গ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুণা অসীম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমার প্রতি আল্লাহ্ র অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে চাইতই। কিন্তু তারা নিজেদেরকে ব্যতীত আর কাউকেও পথভ্রষ্ট করে না এবং তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহ্ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতে না তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন; তোমার প্রতি আল্লাহ্ র মহা অনুগ্রহ রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তোমার উপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া না হত তবে তাদের মধ্য থেকে একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেই ফেলেছিল! আর তারা নিজদের ছাড়া কাউকে পথভ্রষ্ট করে না এবং তারা তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ তোমার প্রতি নাযিল করেছেন কিতাব ও হিকমাত এবং তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। আর তোমার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ রয়েছে মহান।আল-বায়ান
যদি তোমার প্রতি আল্লাহর করুণা এবং দয়া না হত, তবে তাদের একদল তো তোমাকে পথভ্রষ্ট করতেই চেয়েছিল; বস্তুতঃ তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করে না আর তারা তোমার কিছুই অনিষ্ট করতে পারবে না, কারণ আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমাত নাযিল করেছেন এবং তুমি যা জানতে না তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন এবং তোমার উপর রয়েছে আল্লাহর অপরিসীম অনুগ্রহ।তাইসিরুল
তাদের বেশির ভাগ গোপন পরামর্শে ভালো কিছু নেই তার ক্ষেত্রে ছাড়া যে নির্দেশ দেয় দানখয়রাতের অথবা শুভকাজের অথবা মানুষের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠার। আর যে কেউ এরকম করে আল্লাহ্র সন্তষ্টি কামনা ক’রে, তাহলে তাকে আমরা দেবো বিরাট পুরস্কার।মাওলানা জহুরুল হক
১৪২
অর্থাৎ যদি তারা মিথ্যা বিবরণী পেশ করে তোমার মনে ভুল ধারণা সৃষ্টিতে সক্ষমও হতো এবং নিজেদের পক্ষে প্রকৃত সত্য ও ইনসাফ বিরোধী ফয়সালা করিয়ে নিতে পারতো তাহলে তাতে প্রকৃত ক্ষতি তাদেরই হতো। তোমার কোন ক্ষতি হতো না। কারণ আল্লাহর কাছে তুমি নও, তারাই হতো অপরাধী। যে ব্যক্তি বিচারককে ধোঁকা দিয়ে নিজের পক্ষে সত্যের বিপরীত ফয়সালা করিয়ে নেয় সে আসলে নিজেকে এই ভুল ধারণার শিকার করে যে, এই ধরনের কলা-কৌশল অবলম্বন করার ফলে সত্য তার পক্ষে এসে গেছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দৃষ্টিতে সত্য যার দিকে মূলত তার দিকেই থেকে যায়। এক্ষেত্রে প্রতারিত বিচারপতির ফায়সালার কারণে আসল সত্যের ওপর কোন প্রভাবপড়ে না। (সূরা-বাকারার ১৯৭ নম্বর টীকা দেখুন)
এর দ্বারা বিশর ও তার সমর্থকদের বোঝানো হয়েছে, যারা নিরপরাধ ইয়াহুদীকে ফাঁসাতে চেয়েছিল।
১১৩. আর আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে বদ্ধপরিকর ছিল। কিন্তু তারা নিজেদের ছাড়া আর কাউকেও পথভ্রষ্ট করে না এবং আপনার কোনই ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন(১) এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।
(১) এ আয়াতে ‘কিতাব’-এর সাথে ‘হেকমত’ শব্দটি উল্লেখ করে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ও শিক্ষার নাম যে হেকমত তাও আল্লাহ্ তা'আলারই নাযিলকৃত। পার্থক্য এই যে, সুন্নাহর শব্দাবলী আল্লাহর পক্ষ থেকে নয়। এ কারণেই তা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়। অবশ্য কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টিরই তথ্যসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। তাই উভয়ের বাস্তবায়নই ওয়াজিব। সে জন্যই আলেমগণ বলেন, ওহী দুই প্রকারঃ (১) مَتْلُوّ যা তিলাওয়াত করা হয় এবং (২) غَيْرُ مَتْلُوّ যা তিলাওয়াত করা হয় না। প্রথম প্রকার ওহী কুরআনকে বলা হয়, যার অর্থ ও শব্দাবলী উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। দ্বিতীয় প্রকার ওহী হাদীস বা সুন্নাহ। এর শব্দাবলী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এবং মৰ্ম আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে।
(১১৩) আর যদি তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তবে তাদের একদল তো তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে চেষ্টাই করেছিল। (1) কিন্তু তারা নিজেদেরকে ছাড়া আর কাউকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না এবং তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং তুমি যা জানতে না, তা তোমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। (2) আর তোমার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে।
(1) এখানে আল্লাহ তাআলার বিশেষ হিফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, যা তিনি কেবল নবীদের জন্য প্রয়োগ করেছেন। আর এটা ছিল তাঁর নবীদের উপর বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া স্বরূপ। طَائِفَةٌ (দল) বলতে সেই লোক, যারা বানী উবাইরিকের সমর্থনে রসূল (সাঃ)-এর নিকট তাদের নির্দোষ হওয়ার বার্তা পেশ করছিল। যার ভিত্তিতে আশঙ্কা ছিল যে, নবী করীম (সাঃ) তাকে চুরির অপবাদ থেকে মুক্ত ঘোষণা করবেন, যে প্রকৃতপক্ষে চোর ছিল।
(2) এ হল দ্বিতীয় অনুগ্রহের কথা, যা কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) অবতীর্ণ করে এবং জরুরী বিষয়ের জ্ঞান দান করে রসূল (সাঃ)-এর প্রতি করা হয়েছিল। যেমন তিনি অন্যত্র বলেছেন, (وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الْأِيمَانُ) অর্থাৎ, এভাবে আমি নিজ নির্দেশে তোমার প্রতি অহী (প্রত্যাদেশ) করেছি রূহ। তুমি তো জানতে না গ্রন্থ কি, ঈমান (বিশ্বাস) কি। (শূরাঃ ৫২) (وَمَا كُنْتَ تَرْجُو أَنْ يُلْقَى إِلَيْكَ الْكِتَابُ إِلَّا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ) ‘‘তুমি আশা করতে না যে, তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হবে। এটা কেবল তোমার পালনকর্তার রহমত।’’ (ক্বাস্বাসঃ ৮৬) এই সমস্ত আয়াত দ্বারা জানা গেল যে, মহান আল্লাহ রসূল (সাঃ)-এর উপর দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁকে কিতাব ও হিকমতও দান করেছেন। এ ছাড়াও আরো অনেক বিষয়ের জ্ঞান (আল্লাহর পক্ষ হতে) তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, যে ব্যাপারে তিনি অবহিত ছিলেন না। এ থেকেও প্রমাণিত হয় যে, তিনি গায়েব জানতেন না। কেননা, তিনি নিজেই যদি অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাত হতেন, তাহলে অন্য কারো কাছে জ্ঞানার্জন করার প্রয়োজন হত না। যিনি অপরের থেকে জানতে পারেন, অহী অথবা অন্য কোন মাধ্যমে, তিনি অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাতা হতে পারেন না।