وَإِذۡ ءَاتَيۡنَا مُوسَى ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡفُرۡقَانَ لَعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ

ওয়া ইযআ-তাইনা- মূছাল কিতা-বা ওয়াল ফুরক-না লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।উচ্চারণ

স্মরণ করো (ঠিক যখন তোমরা এই যুলুম করছিলে সে সময়) আমরা মূসাকে কিতাব ও ফুরকান ৬৯ দিয়েছিলাম, যাতে তার মাধ্যমে তোমরা সোজা পথ পেতে পারো। তাফহীমুল কুরআন

এবং (স্মরণ কর) যখন আমি মূসাকে দিলাম কিতাব এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকরণের মাপকাঠি, যাতে তোমরা সঠিক পথে চলে আস।মুফতী তাকী উসমানী

আর যখন আমি মূসাকে গ্রন্থ এবং সত্য ও মিথ্যার প্রভেদকারী নির্দেশ দিয়েছিলাম, যেন তোমরা সুপথ প্রাপ্ত হও।মুজিবুর রহমান

আর (স্মরণ কর) যখন আমি মূসাকে কিতাব এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর যখন আমি মূসাকে কিতাব ও ‘ফুরকান’ দান করেছিলাম যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখন আমি মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব ও ফুরকান* যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও।আল-বায়ান

স্মরণ কর, যখন আমি মূসাকে কিতাব ও ফুরকান দিয়েছিলাম, যাতে তোমরা সৎপথ অবলম্বন কর।তাইসিরুল

আর স্মরণ করো! আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম ধর্মগ্রন্থ তথা ফুরকান যাতে তোমরা সুপথগামী হতে পার।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৯

ফুরকান হচ্ছে এমন একটি জিনিস যার মাধ্যমে হক ও বাতিলের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট করে তোলা হয়। আমাদের ভাষায় এই অর্থটিকে সুস্পষ্ট করার জন্য সবচাইতে কাছাকাছি শব্দ হচ্ছে ‘মানদণ্ড। এখানে ফুরকানের মানে হচ্ছে দ্বীনের এমন জ্ঞান, বোধ ও উপলব্ধি যার মাধ্যমে মানুষ হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৩. আর স্মরণ কর, যখন আমরা মূসাকে কিতাব ও ‘ফুরকান(১) দান করেছিলাম; যাতে তোমরা হিদায়াত লাভ করতে পার।

১.  ফুরকান’ দ্বারা হয়ত তাওরাতের অন্তর্ভুক্ত শরীআতী বিধানমালাকে বুঝানো হয়েছে। কেননা, শরীআতের মাধ্যমে যাবতীয় বিশ্বাসগত ও কর্মগত মতবিরোধের মীমাংসা হয়ে যায়। অথবা মু'জিযা বা অলৌকিক ঘটনাকে বুঝানো হয়েছে- যা দ্বারা সত্য ও মিথ্যার দাবীর ফয়সালা হয়। অথবা ফুরকানের মানে হচ্ছে দ্বীনের এমন জ্ঞান, বোধ ও উপলব্ধি, যার মাধ্যমে মানুষ হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। অথবা স্বয়ং তাওরাতই এর অর্থ। কেননা, এর মধ্যেও মীমাংসাকারীর জন্য প্রয়োজনীয় উভয় গুণ ও বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ রয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৫৩। (স্মরণ কর,) যখন আমি মূসাকে কিতাব ও (সত্যকে মিথ্যা হতে) পৃথককারী বস্তু দান করেছিলাম; যাতে তোমরা সৎপথে পরিচালিত হও। (1)

(1) এটাও লোহিত সাগর অতিক্রম করার পরের ঘটনা। (ইবনে কাসীর) হতে পারে তাওরাত গ্রন্থকেই 'ফুরক্বান'(সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী বস্তু) বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কেননা, প্রত্যেক আসমানী কিতাব সত্য ও মিথ্যার মাঝে পৃথককারী হয়। অথবা মুজিযাকে 'ফুরক্বান' বলা হয়েছে। কারণ, মুজিযাও হক ও বাতিল জানার ব্যাপারে বড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।