লা-ইয়াছতাবিলক-‘ইদূ না মিনাল মু’মিনীনা গাইরু উলিদ্দাররি ওয়াল মুজা-হিদূ না ফী ছাবীলিল্লা-হি বিআমওয়া-লিহিম ওয়া আনফুছিহিম ফাদ্দালাল্লা-হুল মুজা-হিদীনা বিআমওয়া-লিহিম ওয়া আনফুসিহিম ‘আলাল ক-‘ইদীনা দারজাতাওঁ ওয়াকুল্লাওঁ ওয়া‘আদাল্লা-হুল হুছনা- ওয়াফাদ্দালাল্লা-হুল মুজা-হিদীনা ‘আলাল ক-‘ইদীনা আজরন ‘আজীমা-।উচ্চারণ
যেসব মুসলমান কোনো প্রকার অক্ষমতা ছাড়াই ঘরে বসে থাকে আর যারা ধন-প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তাদের উভয়ের মর্যাদা সমান নয়। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের তুলনায় জানমাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের মর্যাদা আল্লাহ বুলন্দ করেছেন। যদিও সবার জন্য আল্লাহ কল্যাণ ও নেকীর ওয়াদা করেছেন তবুও তাঁর কাছে মুজাহিদদের কাজের বিনিময় বসে থাকা লোকদের তুলনায় অনেক বেশী। ১২৮ তাফহীমুল কুরআন
যে মুসলিমগণ কোনও ওযর না থাকা সত্ত্বেও (যুদ্ধে যোগদান না করে বরং ঘরে) বসে থাকে, তারা ও আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দ্বারা জিহাদকারীগণ সমান নয়। যারা নিজেদের মাল ও জান দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তবে আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। #%৭১%# আর যারা ঘরে বসে থাকে আল্লাহ তাদের উপর মুজাহিদদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে মহা পুরস্কার দান করেছেন।মুফতী তাকী উসমানী
মু’মিনদের মধ্যে যারা কোন দুঃখ পীড়া ব্যতীতই গৃহে বসে থাকে, আর যারা স্বীয় ধন ও প্রাণ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়; যারা ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে গৃহে অবস্থানকারীদের উপর উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন; এবং সকলকেই আল্লাহ কল্যাণপ্রদ প্রতিশ্রুতি দান করেছেন। এবং উপবিষ্টদের উপর ধর্মযোদ্ধাগণকে মহান প্রতিদানে গৌরবান্বিত করেছেন।মুজিবুর রহমান
গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মু’মিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহ্ র পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করে আল্লাহ্ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন ; আল্লাহ্ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ্ মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বসে থাকা মুমিনগণ, যারা ওযরগ্রস্ত নয় এবং নিজদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীগণ এক সমান নয়। নিজদের জান ও মাল দ্বারা জিহাদকারীদের মর্যাদা আল্লাহ বসে থাকাদের উপর অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহ প্রত্যেককেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আল্লাহ জিহাদকারীদেরকে বসে থাকাদের উপর মহা পুরস্কার দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।আল-বায়ান
অক্ষম নয় এমন বসে-থাকা মু’মিনরা আর জান-মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদকারীগণ সমান নয়; নিজেদের ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদকারীদেরকে বসে-থাকা লোকেদের উপর আল্লাহ মর্যাদা দিয়েছেন। আল্লাহ সকলের জন্যই কল্যাণের ওয়াদা করেছেন এবং মুজাহিদদেরকে বসে-থাকা লোকেদের তুলনায় আল্লাহ মহাপুরস্কার দিয়ে মর্যাদা দান করেছেন।তাইসিরুল
তাঁর কাছ থেকে বহু পদমর্যাদায় আর পরিত্রাণে এবং করুণাধারায়। আর আল্লাহ্ হচ্ছেন পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক
১২৮
জিহাদের নির্দেশ জারী করার পর যারা টালবাহানা করে বসে থাকে অথবা জিহাদের জন্য সাধারণভাবে ঘোষণা দেবার এবং জিহাদ করা ‘ফরযে আইন’ হয়ে যাবার পরও যারা লড়াই করতে গড়িমসি করে তাদের কথা এখানে বলা হয়নি। বরং এমন সব লোকের কথা বলা হয়েছে যারা জিহাদ করা যখন ‘ফরযে কিফায়া’ সে অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে যাবার পরিবর্তে অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকে। প্রথম দু’টি অবস্থায় জিহাদের উদ্দেশ্যে যুদ্ধের ময়দানে যেতে বিরত থাকলে একজন মুসলমান কেবল মুনাফিকই হতে পারে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য কল্যাণ ও নেকীর কোন ওয়াদা নেই। তবে যদি সে কোন যথার্থ অক্ষমতার শিকার হয়ে থাকে তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা। বিপরীত পক্ষে শেষোক্ত অবস্থায় ইসলামী জামায়াতের সমগ্র সমর শক্তির প্রয়োজন হয় না। বরং তার একটি অংশের প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় যদি ইমামের পক্ষ থেকে এই মর্মে ঘোষণা দেয়া হয় যে, উমুক অভিযানে যারা অংশ গ্রহণ করতে চায় তারা অন্যান্য কল্যাণকর কাজে যারা ব্যস্ত থাকবে তাদের তুলনায় অবশ্যি উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হবে।
জিহাদ যখন সকলের উপর ফরযে আইন থাকে না, এটা সেই অবস্থার কথা। সে ক্ষেত্রে যারা জিহাদে না গিয়ে ঘরে বসে থাকে, যদিও তাদের কোনও গুনাহ নেই এবং ঈমান ও অন্যান্য সৎকর্মের কারণে আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের জন্য জান্নাতের ওয়াদাও রয়েছে, কিন্তু তাদের চেয়ে যারা জিহাদে যোগদান করে তাদের মর্যাদা অনেক বেশি। তবে জিহাদ যখন ‘ফরযে আইন’ হয়ে যায় অর্থাৎ মুসলিমদের নেতা যখন সকল মুসলিমকে জিহাদে যোগদানের হুকুম দেয় কিংবা শত্রু বাহিনী যখন মুসলিমদের উপর চড়াও হয়, তখন ঘরে বসে থাকা হারাম হয়ে যায়।
৯৫. মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়।(১) যারা স্বীয় ধন-প্ৰাণ দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন(২); তাদের প্রত্যেকের জন্য আল্লাহ জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
(১) বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ যখন নাযিল হল “মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়” তখন আব্দুল্লাহ ইবন উম্মে মাকতুম এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো অন্ধ। তখন নাযিল হল “যারা অক্ষম নয়”-এ অংশটুকু। (বুখারীঃ ২৮৩১, ৪৫৯৩, মুসলিমঃ ১৮৯৮)
(২) আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আবু সাঈদ! যে আল্লাহকে রব হিসাবে মেনে সন্তুষ্ট, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসাবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট তার জন্য জান্নাত অবধারিত। আবু সাঈদ এটা শুনে আশ্চর্য হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আবার বলুন। রাসূল তাই করলেন। তারপর বললেনঃ “আরো কিছু কাজ রয়েছে, যার দ্বারা জান্নাতে বান্দার মর্যাদা উন্নত করা হয়, দু’স্তরের মাঝখানের দূরত্ব আসমান ও যমীনের মাঝখানের দূরত্বের মত। তিনি বললেন, সেটা কি? হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। (মুসলিমঃ ১৮৮৪) অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ 'জান্নাতের একশত স্তর রয়েছে, দু’স্তরের মাঝখানের দূরত্ব শত বৎসরের। (তিরমিযীঃ ২৫২৯)
(৯৫) বিশ্বাসীদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে তারা এবং যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়। (1) যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদেরকে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন; আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।(2) আর যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর, যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহা পুরস্কার দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
(1) যখন এই আয়াত নাযিল হল যে, ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে তারা এবং যারা বাড়ীতে অবস্থান করে তারা পরস্পর সমান নয়’, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) (অন্ধ সাহাবী) প্রভৃতিরা অভিযোগ করলেন যে, আমরা তো অক্ষম, যার কারণে আমরা জিহাদে অংশ গ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত। উদ্দেশ্য ছিল, ঘরে অবস্থান করার কারণে জিহাদে অংশ গ্রহণকারীদের সমান আমরা নেকী ও সওয়াব অর্জন করতে পারব না, অথচ আমাদের ঘরে অবস্থান স্বেচ্ছায় এবং জান বাঁচানোর জন্য নয়, বরং শরয়ী কারণেই। তাই মহান আল্লাহ (غَيْرُ اُولى الضَّرَرِ) (যারা অক্ষম নয়) কথাটি নাযিল করলেন। অর্থাৎ, যারা সঙ্গত ওজরের কারণে বাড়ীতে অবস্থান করে, তারাও মুজাহিদদের মত নেকীতে সমান সমান শরীক থাকবে। কারণ, (حَبَسَهُمُ العُذْرُ) ‘‘ওজরই তাদের পথে বাধা হয়েছে।’’ (সহীহ বুখারী, জিহাদ অধ্যায়ঃ)
(2) অর্থাৎ, জান ও মাল সহ জিহাদে অংশ গ্রহণকারীরা বৈশিষ্ট্য লাভের অধিকারী হবে। আর জিহাদে যারা অংশগ্রহণ করতে পারে না, তারা এই বৈশিষ্ট্য লাভ থেকে বঞ্চিত হলেও মহান আল্লাহ উভয়কেই উত্তম প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এটাকেই দলীল হিসাবে গ্রহণ করে উলামারা বলেছেন যে, সাধারণ অবস্থায় জিহাদ ‘ফারযে আ’ইন’(যা করা সকলের উপর ফরয) নয়, বরং ‘ফারযে কিফায়াহ’ (যা উম্মতের যথেষ্ট পরিমাণ লোক করলেই হয়)। অর্থাৎ, যে পরিমাণ লোকের প্রয়োজন সে পরিমাণ লোক জিহাদে অংশ গ্রহণ করলেই মনে করে নেওয়া হবে যে, সেই অঞ্চলের অন্য লোকদের পক্ষ হতে এই ফরয আদায় হয়ে গেছে।