ফামা-লাকুম ফিল মুনা-ফিকীনা ফিআতাইনি ওয়াল্লা-হু আরকাছা-হুম বিমা-কাছাবূ আতুরীদূ না আন তাহদূমান আদাল্লাল্লা-হু ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু ফালান তাজিদালাহূছাবীলা-।উচ্চারণ
তারপর তোমাদের কী হয়েছে, মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমাদের মধ্যে দ্বিমত পাওয়া যাচ্ছে? ১১৬ অথচ যে দুষ্কৃতি তারা উপার্জন করেছে তার বদৌলতে আল্লাহ তাদেরকে উল্টো দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে। ১১৭ তোমরা কি চাও, আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেননি তোমরা তাকে হিদায়াত করবে? অথচ আল্লাহ যাকে পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন তার জন্য তুমি কোন পথ পাবে না। তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? #%৬৩%# অথচ তারা যে কাজ করেছে তার দরুণ আল্লাহ তাদেরকে উল্টিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে (তার ইচ্ছা অনুযায়ী) গোমরাহীতে লিপ্ত করেছেন, তোমরা কি তাকে হিদায়াতের উপর আনতে চাও? আল্লাহ যাকে গোমরাহীতে লিপ্ত করেন, তার জন্য তুমি কখনই কোন (কল্যাণের) পথ পাবে না।মুফতী তাকী উসমানী
অনন্তর তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দুই দল হলে? এবং তারা যা অর্জন করেছে তজ্জন্য আল্লাহ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছেন; আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি কি তাকে পথ প্রদর্শন করতে চাও? এবং আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন বস্তুতঃ তুমি তার জন্য কোনই পথ পাবেনা।মুজিবুর রহমান
অতঃপর তোমাদের কি হল যে, মুনাফিকদের সম্পর্কে তোমরা দু’দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন তাদের মন্দ কাজের কারনে! তোমরা কি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে চাও, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন? আল্লাহ যাকে পথভ্রান্ত করেন, তুমি তার জন্য কোন পথ পাবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তোমাদের কী হল যে, তোমরা মুনাফিকদের সম্বন্ধে দুই দল হয়ে গেলে, যখন আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন! আল্লাহ্ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাও ? এবং আল্লাহ্ কাউকেও পথভ্রষ্ট করলে তুমি তার জন্যে কখনও কোন পথ পাবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুতরাং মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমাদের কী হল যে, তোমরা দু’ দল হয়ে গেলে? অথচ আল্লাহ তারা যা কামাই করেছে তার জন্য তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন তোমরা কি তাকে হিদায়াত করতে চাও? আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তুমি কখনো তার জন্য কোন পথ পাবে না।আল-বায়ান
তোমাদের কী হল যে, মুনাফিকদের ব্যাপারে (কী নীতি অবলম্বন করা হবে সে বিষয়ে) তোমরা দু’ দলে বিভক্ত হয়ে গেলে? বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের এ কার্যকলাপের কারণে তাদেরকে উল্টা মুখে ফিরিয়ে দিয়েছেন (ইসলাম থেকে আবার কুফরের দিকে)। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তোমরা কি তাকে সুপথ দেখাতে চাও? বস্তুতঃ আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কক্ষনো পথ খুঁজে পাবে না।তাইসিরুল
তারা চায় যে তোমরা যেন অবিশ্বাস পোষণ করো যেমন তারা অবিশ্বাস করে, যাতে তোমরা সবাই এক রকমের হতে পারো। কাজেই তাদের মধ্যে থেকে কাউকে বন্ধু হিসেবে নিও না যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহ্র পথে গৃহত্যাগ করে। কিন্তু তারা যদি ফিরে যায় তবে তাদের ধরো আর তাদের বধ করো যেখানেই তাদের পাও, আর তাদের থেকে কাউকেও বন্ধুরূপে নিও না এবং সাহায্যকারীরূপেও নয়, --মাওলানা জহুরুল হক
১১৬
এখানে এমন সব মুনাফিক মুসলমানদের কথা আলোচনা করা হয়েছে যারা মক্কায় ও আরবের অন্যান্য এলাকায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল কিন্তু হিজরত করে দারুল ইসলামে না এসে যথারীতি নিজেদের কাফের গোত্রের মধ্যে অবস্থান করছিল। তাদের কাফের গোত্র ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেসব কাজ করতো তারাও তাদের সাথে কমবেশী এসব কাজে কার্যত অংশ নিতো। তাদের সাথে কোন্ ধরনের ব্যবহার করা যায়, এ বিষয়টি মুসলমানদের জন্য আসলে অত্যন্ত জটিল ছিল। কেউ কেউ বলছিল, যাই হোক না কেন, তারা তো মুসলমান, কালেমা পড়ে, নামায পড়ে, রোযা রাখে, কুরআন তেলাওয়াত করে। তাদের সাথে কাফেরদের মতো ব্যবহার কেমন করে করা যেতে পারে? এই রুকূ’তে মহান আল্লাহ মুসলমানদের মতবিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসা করে দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে একটি কথা সুস্পষ্টভাবে বুঝে নিতে হবে। অন্যথায় কুরআনের কেবল এই জায়গায় নয় আরো বিভিন্ন জায়গায়, যেখানে হিজরত না করার কারণে মুসলমানদেরকে মুনাফিকদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে, সেখানে কুরআন মজীদের আসল বক্তব্য অনুধাবন করা সম্ভব হবে না। আসলে নবী ﷺ যখন মদীনা তাইয়েবায় হিজরত করে আসেন এবং যখন আরব দেশে এমন একটি ছোট্ট ভূখণ্ড পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে একজন মু’মিন বান্দার জন্য তার দ্বীন ও ঈমানের দাবী পুরণ করা সম্ভবপর ছিল তখন যেখানে, যে এলাকায় ও যেসব গোত্রের মধ্যে ঈমানদারগণ কাফেরদের অধীনে ইসলামী জীবন যাপনের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিল, সেখান থেকে তাদের জন্য হিজরত করার ও মদীনার দারুল ইসলামে চলে আসার সাধারণ হুকুমনামা জারী করে দেয়া হয়েছিল। সে সময় তাদের হিজরত করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র এজন্য হিজরত করছিল না যে, তাদের নিজেদের ঘর-বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন ও নিজেদের বৈষয়িক স্বার্থ তাদের কাছে ইসলামের তুলনায় বেশী প্রিয় ছিল, তাদের সবাইকে মুনাফিক গণ্য করা হয়। আর যারা যথার্থই একেবারে অক্ষম ছিল তাদেরকে ‘মুসতাদআফীন’ (দুর্বল) গণ্য করা হয়। যেমন পরবর্তী ১৪ রুকূ’তে বলা হয়েছে।
এখন একথা সুস্পষ্ট যে, দারুল কুফরে অবস্থানকারী কোন মুসলমানকে নিছক হিজরত না করার কারণে মুনাফিক কেবলমাত্র তখনি বলা যেতে পারে যখন দারুল ইসলামের পক্ষ থেকে এ ধরনের মুসলমানদেরকে সেখানে বসবাস করার আহবান জানানো হবে অথবা কমপক্ষে তাদের জন্য দারুল ইসলামের দরজা উন্মুক্ত থাকবে। এ অবস্থায় অবশ্যি যেসব মুসলমান দারুল কুফরকে দারুল ইসলামে পরিণত করার জন্য প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালাবে না আবার অন্য দিকে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হিজরাতও করবে না তারা সবাই মুনাফিক বলে গণ্য হবে। কিন্তু দারুল ইসলামের পক্ষ থেকে যদি আমন্ত্রণই না জানানো হয় এবং মুহাজিরদের জন্য তাদের দরজা যদি উন্মুক্তই না থাকে, তাহলে এ অবস্থায় শুধুমাত্র হিজরত না করলে কোন মুসলমান মুনাফিক হয়ে যাবে না। বরং এ অবস্থায় যখন সে কোন মুনাফিক সুলভ কাজ করবে কেবলমাত্র তখনই মুনাফিক গণ্য হবে।
১১৭
অর্থাৎ যে দ্বিমুখী নীতি, সুবিধাবাদিতা এবং আখেরাতের ওপর দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেবার কর্মনীতি তারা অবলম্বন করেছে, তার বদৌলতে আল্লাহ তাদেরকে আবার সেদিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন যেদিক থেকে তারা এসেছিল। তারা কুফরী থেকে বের হয়ে ইসলামের দিকে এগিয়ে এসেছিল ঠিকই কিন্তু এই এলাকায় এসে অবস্থান করার এবং একমুখী ও একাগ্র হবার প্রয়োজন ছিল, ঈমান ও ইসলামের স্বার্থের সাথে সংঘর্ষশীল প্রতিটি স্বার্থ পরিহার করার প্রয়োজন ছিল এবং আখেরাতের ওপর এমন দৃঢ় বিশ্বাসের প্রয়োজন ছিল যার ভিত্তিতে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের দুনিয়ার স্বার্থ পরিহার করতে পারে। কিন্তু তা তারা অর্জন করতে পারেনি। তাই তারা যেদিক থেকে এসেছিল পেছন ফিরে আবার সেদিকেই চলে গেছে। কাজেই এখন তাদের ব্যাপারে মতবিরোধ করার আর কোন অবকাশ নেই।
এসব আয়াতে চার প্রকার মুনাফিকের অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক প্রকার সম্পর্কে আলাদা-আলাদা নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। ৮৮নং আয়াতে মুনাফিকদের প্রথম প্রকার সম্পর্কে আলোচনা। এরা ছিল মক্কা মুকাররমার কতিপয় লোক। তারা মদীনায় এসে বাহ্যত মুসলিম হয়ে গেল এবং মুসলিমদের সহানুভূতি লাভ করল। কিছু কাল পর তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট থেকে ব্যবসার ছলে মক্কায় যাওয়ার অনুমতি নিয়ে নিল এবং চলেও গেল। তাদের সম্পর্কে কতক মুসলিমের রায় ছিল যে, তারা খাঁটি মুসলিম, আবার অন্যরা তাদের মুনাফিক মনে করত। কিন্তু তারা মক্কা মুকাররামা যাওয়ার পর যখন আর ফিরে আসল না, তখন তাদের কুফর জাহির হয়ে গেল। কেননা তখন মক্কা মুকাররমা থেকে হিজরত করা ঈমানের অপরিহার্য অঙ্গ ছিল। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ হিজরত না করলে তাকে মুসলিম গণ্য করা হত না। সুতরাং এ আয়াতের অর্থ এই যে, যখন তাদের মুনাফিকী উন্মোচিত হয়ে গেল, তখন তাদের সম্পর্কে মতভিন্নতার কোনও অবকাশ নেই।
৮৮. অতঃপর তোমাদের কি হল যে, তোমরা মুনাফেকদের ব্যাপারে দু’দল হয়ে গেলে? যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন(১)। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তোমরা কি তাকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাও? আর আল্লাহ কাউকেও পথভ্রষ্ট করলে আপনি তার জন্য কখনো কোন পথ পাবেন না।(২)
(১) যায়েদ ইবন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওহুদের যুদ্ধে বের হলেন তখন তার সাথীদের মধ্য থেকে কিছু লোক ফিরে চলে আসলেন। তাদের ব্যাপারে সাহাবাগণ দ্বিমত পোষণ করলেন। কেউ বললেন হত্যা করব, কেউ বললেন হত্যা করব না। তখন এ আয়াত নাযিল হয় এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই মদীনা নগরী কিছু মানুষকে দেশান্তর করে যেমনিভাবে আগুন দূর করে লোহার ময়লাকে। (বুখারীঃ ১৮৮৪, ৪০৫০, ৪৫৮৯, মুসলিমঃ ১৩৮৪, ২৭৭৬)
(২) এ আয়াতে যেভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে যে, যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা পথভ্রষ্ট করেছেন, তাদের জন্য পথের দিশা পাওয়ার কোন উপায়ই অবশিষ্ট নেই। অন্য আয়াতেও আল্লাহ্ তা'আলা তা স্পষ্ট বলেছেন। আল্লাহ বলেন, “আর আল্লাহ যাকে ফিতনায় ফেলতে চান তার জন্য আল্লাহর কাছে আপনার কিছুই করার নেই। এরাই হচ্ছে তারা যাদের হৃদয়কে আল্লাহ বিশুদ্ধ করতে চান না; তাদের জন্য আছে দুনিয়ায় লাঞ্ছনা আর আখেরাতে রয়েছে তাদের জন্য মহাশাস্তি (সূরা আল-মায়িদাহ ৪১) অন্য আয়াতে এসেছে, “আল্লাহ যাদেরকে বিপথগামী করেন তাদের কোন পথপ্রদর্শক নেই। (সূরা আল-আরাফ: ১৮৬)
(৮৮) তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কপটদের সম্বন্ধে দু’ দলে বিভক্ত হয়ে গেলে? (1) যখন আল্লাহ তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন! (2) আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তোমরা কি তাকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাও? বস্তুতঃ আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি তার জন্য কখনও কোন পথ পাবে না। (3)
(1) এখানে জিজ্ঞাসা অস্বীকৃতি সূচক। অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে এই মুনাফিকদের ব্যাপারে কোন মতবিরোধ হওয়া উচিত ছিল না। আর মুনাফিকদের বলতে সেই মুনাফিকদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা উহুদ যুদ্ধে মদীনা থেকে কিছু দূর গিয়ে এই বলে ফিরে চলে এসেছিল যে, আমাদের কথা গ্রহণ করা হয় নি। (বুখারীঃ সূরা নিসা, মুসলিমঃ মুনাফ্বীকীন অধ্যায়) এর বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে হয়েছে। সে সময় এই মুনাফিকদের নিয়ে মুসলিমদের দু’টি দল হয়েছিল। একটি দলের বক্তব্য ছিল, আমাদেরকে এই মুনাফিকদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করা দরকার। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় দল এটাকে বৃহত্তর স্বার্থের পরিপন্থী মনে করত।
(2) كَسَبُوا (কৃতকর্ম) বলতে রসূল (সাঃ)-এর বিরোধিতা এবং জিহাদ থেকে বিমুখতা অবলম্বন করা। أَرْكَسَهُمْ (বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন বা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন) অর্থাৎ, যে কুফরী ও ভ্রষ্টতা থেকে বের হওয়ার কথা, তার দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন অথবা তার কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
(3) যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন অর্থাৎ, অব্যাহত কুফরী ও ঔদ্ধত্যের কারণে যাদের অন্তঃকরণ মোহর করে দেন, তাদেরকে কেউ সুপথে আনতে পারবে না।