أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ ٱلۡقُرۡءَانَۚ وَلَوۡ كَانَ مِنۡ عِندِ غَيۡرِ ٱللَّهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ ٱخۡتِلَٰفٗا كَثِيرٗا

আফালা-ইয়াতাদাব্বারূনাল কুরআ-না ওয়া লাও ক-না মিন ‘ইনদি গাইরিল্লা-হি লাওয়াজাদূফীহিখতিলা-ফান কাছীর-।উচ্চারণ

তারা কি কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? যদি এটি আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারো পক্ষ থেকে হতো, তাহলে তারা এর মধ্যে বহু বর্ণনাগত অসঙ্গতি খুঁজে পেতো। ১১১ তাফহীমুল কুরআন

তারা কি কুরআন সম্বন্ধে চিন্তা করে না? এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ হতে হত তবে এর মধ্য বহু অসঙ্গতি পেত। #%৫৯%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা কেন কুরআন সম্বন্ধে গবেষনা করেনা? আর যদি ওটা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট হতে হত তাহলে তারা ওতে বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।মুজিবুর রহমান

এরা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তবে কি তারা কুরআন সম্বন্ধে অনুধাবন করে না ? এটা যদি আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারও নিকট হতে আসত তবে তারা তাতে অনেক অসংগতি পেত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কি কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হত, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।আল-বায়ান

তারা কি কুরআনের মর্ম বিষয়ে চিন্তে-ভাবনা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট হতে আসত, তবে তাতে তারা অবশ্যই বহু অসঙ্গতি পেত।তাইসিরুল

আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তার অথবা ভয়ের কোনো বিষয় আসে, তারা তা ছড়িয়ে দেয়। আর যদি তারা তা রসূলের ও তাদের মধ্যেকার কর্তৃপক্ষের গোচরে আনতো তবে তাঁদের মধ্যের যাঁদের এ তদন্ত করার কথা তাঁরা তা জানতে পারতেন। আর যদি আল্লাহ্‌র কল্যাণ ও তাঁর রহ্‌মত তোমাদের উপরে না থাকতো তাহলে তোমরা অবশ্যই শয়তানের তাবেদারি করতে -- অল্প ছাড়া।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১১

মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানদার লোকদের যে আচরণ সম্পর্কে ওপরের আয়াতগুলোতে সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে তার প্রধান ও আসল কারণ ছিল এই যে, কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হবার ব্যাপারে তাদের মনে সন্দেহ ছিল। তারা একথা বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, সত্যি সত্যিই রসূলের ওপর অহী নাযিল হয় এবং এই যে হিদায়াতগুলো আসছে, এগুলো সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে আসছে। তাই তাদের মুনাফেকী আচরণের নিন্দা করার পর এখন বলা হচ্ছে, তারা কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনাই করে না। কেননা এই গ্রন্থ নিজেই সাক্ষী দিচ্ছে যে, এটি আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারও বাণী হতেই পারে না। কোন মানুষের ক্ষমতা নেই বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয়ে ভাষণ দিতে থাকবে এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তার সমস্ত ভাষণ একটি সুসামঞ্জস্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও এক বর্ণের মোতির মালায় পরিণত হবে। এর কোন অংশ অন্য অংশের সাথে সংঘর্ষশীল হবে না। এর মধ্যে মত পরিবর্তনের কোথাও কোন নাম নিশানাও পাওয়া যাবে না। ভাষণদাতার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানসিক অবস্থার কোন প্রতিফলনও সেখানে দেখা যাবে না। এই ভাষণের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করার কোন প্রশ্নই কখনো উত্থাপিত হবে না। এই ধরনের ভাষণ দেয়া কোন মানুষের জন্য কোন কালেই সম্ভবপর নয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এমনিতে তো মানুষের কোনও প্রচেষ্টাই দুর্বলতামুক্ত নয় এবং সে কারণেই মানব-রচিত বই-পুস্তকে প্রচুর স্ববিরোধিতা ও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি নিজে কোনও পুস্তক রচনা করে দাবী করে এটা আল্লাহর কিতাব, তবে তাতে অবশ্যই প্রচুর গরমিল ও সাংঘর্ষিক কথাবার্তা থাকবে। যারা পূর্ববর্তী নবী-রাসূলের আনীত কিতাবে প্রক্ষেপণ ও বিকৃতি সাধন করেছে, তাদের সে দুষ্কর্মের কারণে সে সব কিতাবে নানা রকম গরমিল সৃষ্টি হয়ে গেছে। সেটাও এ কথার সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, মানব রচনায়, বিশেষত তা যদি আল্লাহর নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাতে অসঙ্গতি থাকা অবধারিত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মাওলানা রহমাতুল্লাহ কিরানবী (রহ.) রচিত ‘ইজহারুল হক’ গ্রন্থখানি পড়ুন। তার উর্দূ তরজমাও হয়েছে, যা ‘বাইবেল সে কুরআন তাক্’ নামে প্রকাশিত হয়েছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এর বাংলা অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছে।)

তাফসীরে জাকারিয়া

৮২. তবে কি তারা কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট হতে আসত, তবে তারা এতে অনেক অসঙ্গতি পেত।(১)

(১) পবিত্র কুরআনে কোন একটি বিষয়েও অসংগতি নেই। অতএব, এটা একান্তভাবেই আল্লাহর কালাম। মানুষের কালামে এমন অপূর্ব সামঞ্জস্য হতেই পারে না। এর কোথাও না আছে ভাষালঙ্কারের কোন ক্রটি, না আছে তাওহীদ, কুফর, কিংবা হালাল-হারামের বিবরণে কোন স্ববিরোধিতা ও পার্থক্য। তাছাড়া গায়েবী বিষয়সমূহের মাঝেও এমন কোন সংবাদ নেই, যা প্রকৃত বিষয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তদুপরি না আছে কুরআনের ধারাবাহিকতার কোন পার্থক্য যে, একটি হবে অলঙ্কারপূর্ণ আরেকটি হবে অলঙ্কারহীন। প্রত্যেক মানুষের ভাষা-বিবৃতি ও রচনা-সংকলনে পরিবেশের কমবেশী প্রভাব অবশ্যই থাকে - আনন্দের সময় তা এক ধরণের হয়, আবার বিষাদে হয় অন্যরকম। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয় এক রকম, আবার অশান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয় অন্য রকম। কিন্তু কুরআন এ ধরণের যাবতীয় ক্রটি, পার্থক্য ও স্ববিরোধিতা থেকে পবিত্র ও উর্ধ্বে। আর এটাই হলো কালামে-ইলাহী হওয়ার প্রকৃষ্ট প্রমাণ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮২) তারা কি কুরআন সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করে না? এ (কুরআন) যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো তরফ থেকে (অবতীর্ণ) হত, তাহলে নিশ্চয় তারা তাতে অনেক পরস্পর-বিরোধী কথা পেত। (1)

(1) কুরআন থেকে হিদায়াত পাওয়ার জন্য এ ব্যাপারে চিন্তা ও গবেষণা করার তাকীদ করা হচ্ছে এবং এর (কুরআনের) সত্যতা জানার মানদন্ডও বলে দেওয়া হচ্ছে। যদি এটা কোন মানুষ রচিত গ্রন্থ হত (যা কাফেররা মনে করে), তাহলে তার বিষয়-বস্তুসমূহে এবং তাতে বর্ণিত ঘটনাদির মধ্যে বড়ই পরস্পর-বিরোধিতা দেখা যেত। কারণ, প্রথমতঃ এটা কোন ক্ষুদ্র পুস্তিকা নয়, এটা এমন এক বিশাল ও বিস্তৃত গ্রন্থ; যার প্রতিটি অংশ চমৎকারিত্বে এবং সাহিত্য-শব্দালংকারে পরিপূর্ণ। অথচ মানুষের রচিত কোন বড় গ্রন্থে ভাষার মান এবং সাহিত্যময় চমৎকারিত্ব বজায় থাকে না। দ্বিতীয়তঃ এতে অতীত জাতির এমন ঘটনাবলীও বর্ণিত হয়েছে, যা অদৃশ্য বিষয়ে মহাজ্ঞানী আল্লাহ ব্যতীত কেউ বর্ণনা করতে পারে না। তৃতীয়তঃ এই ঘটনাবলীর মধ্যে না পারস্পরিক কোন বিরোধ আছে, আর না এ সবের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর কোন অংশ কুরআনের কোন মূল বিষয়ের পরিপন্থী। অথচ কোন মানুষ অতীত ঘটনাবলী বর্ণনা করলে, তার ধারাবাহিকতার শৃঙ্খল ছিন্ন হয়ে যায় এবং তার বিশদ বর্ণনার মধ্যে বড়ই স্ববিরোধিতা সৃষ্টি হয়। কুরআন কারীমের সমূহ এই মানবিক দোষ থেকে মুক্ত হওয়ার স্পষ্ট অর্থ এই যে, অবশ্যই এটা আল্লাহর কালাম, যা তিনি ফিরিশতার মাধ্যমে তাঁর শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর উপর অবতীর্ণ করেছেন।

(সতর্কতার বিষয় যে, অনেকে রহিত আয়াত দেখে পরস্পর-বিরোধী কথার উল্লেখ করতে পারে। কিন্তু রহিত যা তার সাথে পরবর্তী নির্দেশের পরস্পরবিরোধিতা থাকতে পারে না। যেমন আম-খাস বাক্য বাহ্যতঃ পরস্পরবিরোধী মনে হলেও, বিস্তারিত বিবরণে সে ভুল বুঝ দূর হয়ে যায়। -সম্পাদক)