মাআসা-বাকা মিন হাছানাতিন ফামিনাল্লা-হি ওয়ামাআসা-বাকা মিন ছাইয়িআতিন ফামিন নাফছিকা ওয়া আরছালনা-কা লিন্না-ছি রছূলাওঁ ওয়া কাফা-বিলা-হি শাহীদা-।উচ্চারণ
হে মানুষ! যে কল্যাণই তুমি লাভ করে থাকো তা আল্লাহর দান এবং যে বিপদ তোমার ওপর এসে পড়ে তা তোমার নিজের উপার্জন ও কাজের বদৌলতেই আসে। হে মুহাম্মাদ! আমি তোমাকে মানব জাতির জন্য রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি এবং এরপর আল্লাহর সাক্ষ্য যথেষ্ট। তাফহীমুল কুরআন
তোমার যা-কিছু কল্যাণ লাভ হয়, তা কেবল আল্লাহরই পক্ষ হতে, আর তোমার যা-কিছু অকল্যাণ ঘটে, তা তোমার নিজেরই কারণে। এবং (হে নবী!) আমি তোমাকে মানুষের কাছে রাসূল করে পাঠিয়েছি। আর (এ বিষয়ের) সাক্ষীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট। #%৫৮%#মুফতী তাকী উসমানী
তোমার নিকট যে কল্যাণ উপস্থিত হয় তা আল্লাহর সন্নিধান হতে এবং তোমার উপর যে অকল্যাণ নিপতিত হয় তা তোমার নিজ হতে হয়ে থাকে, এবং আমি তোমাকে মানবমন্ডলীর জন্য রাসূল রূপে প্রেরণ করেছি; এবং আল্লাহর সাক্ষীই যথেষ্ট।মুজিবুর রহমান
আপনার যে কল্যাণ হয়, তা হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আর আপনার যে অকল্যাণ হয়, সেটা হয় আপনার নিজের কারণে। আর আমি আপনাকে পাঠিয়েছি মানুষের প্রতি আমার পয়গামের বাহক হিসাবে। আর আল্লাহ সব বিষয়েই যথেষ্ট-সববিষয়ই তাঁর সম্মুখে উপস্থিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কল্যাণ যা তোমার হয় তা আল্লাহ্ র নিকট হতে আর অকল্যাণ যা তোমার হয় তা তোমার নিজের কারণে এবং তোমাকে মানুষের জন্যে রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি; সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যে অকল্যাণ তোমার কাছে পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে। আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ যথেষ্ট।আল-বায়ান
তোমার কোন কল্যাণ হলে তা হয় আল্লাহর তরফ হতে এবং তোমার যে কোন অকল্যাণ হলে তা হয় তোমার নিজের কারণে এবং আমি তোমাকে মানুষের জন্য রসূলরূপে প্রেরণ করেছি, (এ কথার) সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।তাইসিরুল
যে কেউ রসূলের আজ্ঞাপালন করে সে অবশ্যই আল্লাহ্র আজ্ঞাপালন করে। আর যে কেউ ফিরে যায় -- আমরা তোমাকে তাদের উপরে রক্ষাকর্ত্তারূপে পাঠাই নি।মাওলানা জহুরুল হক
এ আয়াতসমূহে দুটি সত্য তুলে ধরা হয়েছে। (এক) এ জগতে যা-কিছু হয়, তা আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও হুকুমেই হয়। কারও কোন উপকার লাভ হলে তাও আল্লাহর হুকুমেই হয় এবং কারও কোন ক্ষতি হলে তাও আল্লাহর হুকুমেই হয়। (দুই) দ্বিতীয়ত জানানো হয়েছে, কারও কোন উপকার বা ক্ষতির হুকুম আল্লাহ তাআলা কখন দেন ও কিসের ভিত্তিতে দেন। এ সম্পর্কে ৭৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, কারও কোন উপকার ও কল্যাণ লাভের যে ব্যাপারটা, তা কেবলই আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। কেননা কোন মাখলুকেরই আল্লাহ তাআলার কাছে কোন পাওনা নেই যে, আল্লাহ তাআলার তাকে তা দিতেই হবে। মানুষের কোন কর্মকে যদি আপাতদৃষ্টিতে তার কোন কল্যাণের কারণ বলে মনেও হয়, তবে এটা তো সত্য যে, তার সে কর্ম আল্লাহ তাআলার দেওয়া তাওফীকেরই ফল। কাজেই সে কল্যাণ আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ছাড়া কিছু নয়। সেটা তার প্রাপ্য ও হক নয় কিছুতেই। অন্যদিকে মানুষের যদি কোন অকল্যাণ দেখা দেয়, তবে যদিও তা আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়, কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ হুকুম কেবল তখনই দেন, যখন সে ব্যক্তি নিজ এখতিয়ার ও ইচ্ছাক্রমে কোন অন্যায় বা ভুল করে থাকে। মুনাফিকদের চরিত্র ছিল যে, তাদের কোন কল্যাণ লাভ হলে সেটাকে তো আল্লাহ তাআলার সাথে সম্পৃক্ত করত, কিন্তু কোনও রকম ক্ষতি হয়ে গেলে তার দায়-দায়িত্ব চাপাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর। এর দ্বারা যদি তাদের বোঝানো উদ্দেশ্য হয়, সে ক্ষতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুকুমে হয়েছে, তবে তো এটা বিলকুল গলত। কেননা বিশ্ব জগতের সকল কাজ কেবল আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়। অন্য কারও হুকুমে নয়। আর যদি বোঝানো উদ্দেশ্য হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনও ভুলের কারণে সে ক্ষতি হয়েছে, তবে নিঃসন্দেহে এটাও গলত কথা। কেননা প্রতিটি মানুষের যা-কিছু অকল্যাণ দেখা দেয়, তা তার নিজেরই কর্মফল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তো রাসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছে। কাজেই জগতে লাভ-লোকসান ও সৃষ্টি-লয় সংক্রান্ত যা-কিছু ঘটে তার দায়-দায়িত্ব যেমন তাঁর উপর বর্তায় না, তেমনি রিসালাতের দায়িত্ব পালনেও তাঁর দ্বারা কোনও ত্রুটি ঘটা সম্ভব নয়, যার খেসারত তাঁর উম্মতকে দিতে হবে।
৭৯. যাকিছু কল্যাণ আপনার হয় তা আল্লাহর কাছ থেকে(১) এবং যাকিছু অকল্যাণ আপনার হয় তা আপনার নিজের কারণে(২) এবং আপনাকে আমরা মানুষের জন্য রাসূলরূপে পাঠিয়েছি(৩); আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
(১) আয়াতে ‘হাসানাহ’-এর দ্বারা নেয়ামতকে বোঝানো হয়েছে। এর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মানুষ যে সমস্ত নেয়ামত লাভ করে তা তাদের প্রাপ্য নয়, বরং একান্ত আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহেই প্রাপ্ত হয়। মানুষ যত ইবাদাত-বন্দেগীই করুক না কেন, তাতে সে কোন নেয়ামত লাভের অধিকারী হতে পারে না। কারণ, ইবাদাত করার যে সামর্থ্য, তাও আল্লাহর পক্ষ থেকেই লাভ হয় তদুপরি আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য নেয়ামত তো রয়েছেই। এ সমস্ত নেয়ামত সীমিত ইবাদাত-বন্দেগীর মাধ্যমে কেমন করে সম্ভব? বিশেষ করে আমাদের ইবাদাত-বন্দেগী যদি আল্লাহ্ তা'আলার শান মোতাবেক না হয়? অতএব, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আল্লাহ্ তা'আলার রহমত ব্যতীত কোন একটি লোকও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হল, আপনিও কি যেতে পারবেন না? তিনি বললেন, না আমিও না। (বুখারীঃ ৫৩৪৯, মুসলিমঃ ২৮১৬)
(২) বিপদাপদ যদিও আল্লাহ তা'আলাই সৃষ্টি করেন, কিন্তু তার কারণ হয় মানুষের কৃত অসৎকর্ম। মানুষটি যদি কাফের হয়ে থাকে, তবে তার উপর আপতিত বিপদাপদ তার জন্য সে সমস্ত আযাবের একটা সামান্য নমুনা হয়ে থাকে যা আখেরাতে তার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ আখেরাতের আযাব এর চাইতেও বহুগুণ বেশী। আর যদি লোকটি ঈমানদার হয়, তবে তার উপর আপতিত বিপদাপদ হয় তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত, যা আখেরাতে তার মুক্তির কারণ। অথবা তার জন্য পদমর্যাদা বৃদ্ধির সোপান। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমের উপর যে বিপদই আপতিত হোক না কেন, এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তার গোনাহের কাফফারা করে দেন। এমনকি যে কাটাটি পায়ে ফোটে তাও। (বুখারীঃ ৫৩২৪, মুসলিমঃ ২৫৭২)
(৩) আয়াতের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমগ্র মানবমণ্ডলীর জন্য রাসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি শুধু আরবদের জন্যই রাসূল ছিলেন না, বরং তার রেসালাত ছিল সমগ্র বিশ্বমানবের জন্য ব্যাপক। তারা তখন উপস্থিত থাকুক বা না-ই থাকুক। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সমস্ত মানুষই এর আওতাভুক্ত।
(৭৯) তোমার যা কল্যাণ হয়, তা আল্লাহর নিকট থেকে(1) এবং যা অকল্যাণ হয়, তা নিজের কারণে।(2) আর আমি তোমাকে মানুষের জন্য রসূলরূপে প্রেরণ করেছি। আর সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট।
(1) অর্থাৎ, তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ স্বরূপ। কোন নেকী অথবা আনুগত্যের প্রতিদান স্বরূপ নয়। কেননা, নেকী করার তওফীকদাতাও মহান আল্লাহ। তাছাড়া তাঁর নিয়ামত ও অনুদান এত বেশী যে, কোন মানুষের ইবাদত-আনুগত্য তার তুলনায় কিছুই নয়। এই জন্য একটি হাদীসে রসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘‘জান্নাতে যে-ই যাবে, সে আল্লাহর রহমতে যাবে (অর্থাৎ, নিজের আমলের বিনিময়ে নয়)।’’ জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনিও কি আল্লাহর রহমত ব্যতীত জান্নাতে যেতে পারবেন না?’ তিনি (সাঃ) বললেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করব না, যতক্ষণ না তাঁর রহমতের আঁচল আমাকে আবৃত করে নেবে।’’ (বুখারী ৫৬৭৩নং)
(2) এই অকল্যাণ ও অনিষ্ট যদিও আল্লাহর পক্ষ হতেই আসে যেমন كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللهِ বাক্যের দ্বারা তা পরিষ্কার, কিন্তু যেহেতু এই অকল্যাণ কোন পাপের শাস্তি অথবা তার বদলা হয়, তাই বলা হল, এটা তোমাদের পক্ষ হতে। অর্থাৎ, এটা তোমাদের ভুল, অবহেলা এবং পাপের ফল। যেমন, অন্যত্র বলেছেন, (وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ) ‘‘তোমাদের যেসব বিপদ-আপদ আপতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’’ (শূরাঃ ৩০)