يَـٰٓأَيُّهَا ٱلۡمُدَّثِّرُ

ইয়াআইয়ুহাল মুদ্দাছছির।উচ্চারণ

হে বস্ত্র মুড়ি দিয়ে শয়নকারী, তাফহীমুল কুরআন

হে বস্ত্রাবৃত! মুফতী তাকী উসমানী

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!মুজিবুর রহমান

হে চাদরাবৃত!মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে বস্ত্রাবৃত!আল-বায়ান

ওহে বস্ত্র আবৃত (ব্যক্তি)!তাইসিরুল

হে প্রিয় পোশাক-পরিহিত!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

ওপরে ভূমিকায় আমরা এসব আয়াত নাযিলের যে পটভূমি বর্ণনা করেছি সে সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করলে একথাটি ভালভাবেই উপলব্ধি করা যায় যে, এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে يَاَيُّهَا الرَّسُوْلُ ইয়া আয়্যুহাল রাসূল বা يَاَيُّهَا النَّبِىُّ (ইয়া আয়্যুহান্নাবীয়ু) বলে সম্বোধন করার পরিবর্তে يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (ইয়া আয়্যুহাল মুদ্দাস্সির) বলে সম্বোধন কেন করা হয়েছে। নবী (সা.) যেহেতু হঠাৎ জিবরাঈলকে আসমান ও পৃথিবীর মাঝখানে একটি আসনে উপবিষ্ট দেখে ভীত হয়ে পড়েছিলেন এবং সে অবস্থায় বাড়ীতে পৌঁছে বাড়ীর লোকদের বলেছিলেনঃ আমাকে চাদর দিয়ে আচ্ছাদিত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আচ্ছাদিত করো। তাই আল্লাহ তাঁকে يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ বলে সম্বোধন করেছেন। সম্বোধনের এ সূক্ষ্ম ভংগী থেকে আপনা আপনি এ অর্থ পরিস্ফূটিত হয়ে ওঠে যে, হে আমার প্রিয় বান্দা, তুমি চাদর জড়িয়ে শুয়ে আছো কেন? তোমার ওপরে তো একটি মহৎ কাজের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এ দায়িত্ব পালন করার জন্য তোমাকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উঠে দাঁড়াতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আগের সূরার শুরুতে যেমন গেছে এটাও সে রকমই এক প্রিয়-সম্ভাষণ। পার্থক্য কেবল এই যে, সেখানে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছিল ‘মুযযাম্মিল’ আর এখানে ‘মুদ্দাচ্ছির’। উভয়ের অর্থ কাছাকাছি। এর ব্যাখ্যার জন্য পূর্বের সূরার ১নং টীকা দেখুন। সহীহ হাদীসে আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সর্বপ্রথম ওহী হিসেবে সূরা ‘আলাক’-এর প্রথম পাঁচটি আয়াত নাযিল হওয়ার পর কিছুকাল যাবৎ ওহী নাযিলের ধারা বন্ধ ছিল। তারপর সর্বপ্রথম সূরা মুদ্দাচ্ছিরের এ আয়াতগুলিই নাযিল হয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. হে বস্ত্ৰাচ্ছাদিত!(১)

(১) হাদীসে এসেছে, সর্বপ্রথম হেরা গিরি গুহায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফেরেশতা জিবরীল আগমন করে ইকরা সূরার প্রাথমিক আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনান। ফেরেশতার এই অবতরণ ও ওহীর তীব্ৰতা প্রথম পর্যায়ে ছিল। ফলে এর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট গমন করলেন এবং তার কাছে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর বেশ কিছুদিন পর্যন্ত ওহীর আগমন বন্ধ থাকে। বিরতির এই সময়কালকে “ফাতরাতুল ওহী” বলা হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে এই সময়কালের উল্লেখ করে বলেন, একদিন আমি পথ চলা অবস্থায় হঠাৎ একটি আওয়াজ শুনে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, হেরা গিরিগুহার সেই ফেরেশতা আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে এক জায়গায় একটি ঝুলন্ত চেয়ারে উপবিষ্ট রয়েছেন। তাকে এই আকৃতিতে দেখে আমি প্রথম সাক্ষাতের ন্যায় আবার ভীত ও আতংকিত হয়ে পড়লাম। আমি গৃহে ফিরে এলাম এবং গৃহের লোকজনকে বললাম, আমাকে বস্ত্ৰাবৃত করে দাও। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত নাযিল হল। (বুখারী: ৪, মুসলিম: ১৬১)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১) হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! (1)

(1) সর্বপ্রথম যে অহী নাযিল হয় তা হল {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} এরপর অহী আসা কিছু দিন বন্ধ থাকে। ফলে নবী (সাঃ) খুবই অস্থির ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। এক দিন আবারও তিনি প্রথমবার হিরা গুহায় অহী নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতাকে আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলে একটি কুরসীর উপর বসা অবস্থায় দেখেন। এ থেকে রসূল (সাঃ)-এর মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। তাই তিনি ঘরে গিয়ে ঘরের লোকদেরকে বললেন, ‘‘আমাকে কোন কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কোন চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।’’ ফলে তাঁরা রসূল (সাঃ)-এর শরীরে একটি কাপড় চাপিয়ে দিলেন। ঠিক এই অবস্থাতেই এই অহী অবতীর্ণ হয়। (বুখারী ও মুসলিম, সূরা মুদ্দাসসির ও ঈমান অধ্যায়ঃ) এই দিক দিয়ে এটা দ্বিতীয় অহী এবং অহী আসা বন্ধ থাকার পর এটা হল প্রথম অহী।