وَٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ رِئَآءَ ٱلنَّاسِ وَلَا يُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِ وَلَا بِٱلۡيَوۡمِ ٱلۡأٓخِرِۗ وَمَن يَكُنِ ٱلشَّيۡطَٰنُ لَهُۥ قَرِينٗا فَسَآءَ قَرِينٗا

ওয়াল্লাযীনা ইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম রিআআন্না-ছি ওয়ালা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়ালা-বিলইয়াওমিল আ-খিরি ওয়ামাইঁ ইয়াকুনিশশাইতা-নুলাহু কারীনান ফাছাআ কারীনা-।উচ্চারণ

আর আল্লাহ‌ তাদেরকেও অপছন্দ করেন, যারা নিজেদের ধন-সম্পদ কেবল মাত্র লোকদেরকে দেখাবার জন্য ব্যয় করে এবং আসলে না আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে আর না আখেরাতের দিনের প্রতি। সত্য বলতে কি, শয়তান যার সাথী হয়েছে তার ভাগ্যে বড় খারাপ সাথীই জুটেছে। তাফহীমুল কুরআন

এবং যারা নিজেদের অর্থ-সম্পদ খরচ করে মানুষকে দেখানোর জন্য, না আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং না আখিরাত দিবসের প্রতি। বস্তুত শয়তান কারও সঙ্গী হয়ে গেলে সঙ্গীরূপে সে বড়ই নিকৃষ্ট।মুফতী তাকী উসমানী

এবং যারা লোকদের দেখানোর জন্য স্বীয় ধন সম্পদ ব্যয় করে এবং আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেনা, আর যাদের সহচর শাইতান - সে নিকৃষ্ট সঙ্গীই বটে।মুজিবুর রহমান

আর সে সমস্ত লোক যারা ব্যয় করে স্বীয় ধন-সম্পদ লোক-দেখানোর উদ্দেশে এবং যারা আল্লাহর উপর ঈমান আনে না, ঈমান আনে না কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং শয়তান যার সাথী হয় সে হল নিকৃষ্টতর সাথী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং যারা মানুষকে দেখানোর জন্যে তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং আল্লাহ্ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে না আল্লাহ্ তাদেরকে ভালবাসেন না। আর শয়তান কারও সঙ্গী হলে সে সঙ্গী কত মন্দ!ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা নিজ ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং ঈমান আনে না আল্লাহর প্রতি এবং না শেষ দিনের প্রতি। আর শয়তান যার সঙ্গী হয়, সঙ্গী হিসেবে কতইনা নিকৃষ্ট সে!আল-বায়ান

(আর সেসব লোককেও আল্লাহ পছন্দ করেন না) যারা মানুষকে দেখানোর জন্য নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে এবং আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে না। শয়ত্বান কারো সঙ্গী হলে সে সঙ্গী কতই না জঘন্য!তাইসিরুল

আর যারা তাদের ধনসম্পত্তি খরচ করে লোকদের দেখাবার জন্য, অথচ তারা বিশ্বাস করে না আল্লাহ্‌তে, আর আখেরাতের দিনেও না। আর যার জন্য সঙ্গী হয়েছে শয়তান, -- সে তবে মন্দ সাথী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৮. আর যারা মানুষকে দেখাবার জন্য(১) তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান আনে না। আর শয়তান কারো সঙ্গী হলে সে সঙ্গী কত মন্দ!(২)

(১) এর দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ওয়াজিব হকের ক্ষেত্রে শৈথিল্য ও কার্পণ্য প্রদর্শন করা যেমন দূষণীয়, তেমনিভাবে লোক দেখানোর জন্য এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে ব্যয় করাও নিতান্ত মন্দ কাজ। যারা একান্তভাবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ব্যয় না করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে, তাদের আমল আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না। হাদীসে এমন কাজকে শির্ক বলেও অভিহিত করা হয়েছে। শাদ্দাদ ইবন আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করল সে শির্ক করল। যে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সিয়াম পালন করল সে শির্ক করল এবং যে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে দান সদকা করল সে শির্ক করল। (মুসনাদে ত্বায়ালেসীঃ ১১২০, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ৪/৩৬৫)

(২) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তাদের ভালবাসেন না। অথবা যারা উপযুক্ত কাজগুলো করবে, শয়তান তাদের সাথী হবে। আর যারা আল্লাহ তা'আলার ভালবাসা পায় না তারা শয়তানের সঙ্গী হবে এটাই স্বাভাবিক। যারা শয়তানের সঙ্গী হবে তারা সবচেয়ে নিকৃষ্ট সংগীই পেল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৮) আর যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে তাদের ধনসম্পদ খরচ করে এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না, (আল্লাহ তাদেরকেও ভালবাসেন না।) (1) আর শয়তান কারো সঙ্গী হলে, সে সঙ্গী কত মন্দ!

(1) কৃপণতা (অর্থাৎ, আল্লাহর পথে ব্যয় না করা) অথবা লোক দেখানো ও সুনাম লাভের জন্য ব্যয় করা; এই উভয় কাজই আল্লাহর নিকট অতি ঘৃণিত। আর এ কাজ নিন্দিত হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, এখানে কুরআনের আয়াতে এই উভয় কাজকে কাফেরদের অভ্যাস এবং এমন লোকদের স্বভাব বলা হয়েছে, যারা আখেরাতে বিশ্বাসী নয় ও যারা শয়তানের সাথী।