নূন ওয়াল কালামি ওয়ামা- ইয়াছতুরূন।উচ্চারণ
নূন, শপথ কলমের এবং লেখকরা যা লিখে চলেছে তার। ১ তাফহীমুল কুরআন
নূন। (হে রাসূল!) শপথ কলমের এবং তারা যা লিখছে তার। মুফতী তাকী উসমানী
নুন, শপথ কলমের এবং ওরা যা লিপিবদ্ধ করে তার।মুজিবুর রহমান
নূন। শপথ কলমের এবং সেই বিষয়ের যা তারা লিপিবদ্ধ করে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নূন-শপথ কলমের এবং এরা যা লিপিবদ্ধ করে তার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নূন; কলমের কসম এবং তারা যা লিখে তার কসম!আল-বায়ান
নূন, কলমের শপথ আর লেখকেরা যা লেখে তার শপথ।তাইসিরুল
নূন! ভাবো কলম ও যা তারা লেখে।মাওলানা জহুরুল হক
১
তাফসীরের ইমাম মুজাহিদ বলেনঃ কলম মানে যে কলম দিয়ে যিকর অর্থাৎ কুরআন মজীদ লেখা হচ্ছিলো। এ থেকে বুঝা যায়, যা লেখা হচ্ছিলো তা ছিল কুরআন মজীদ।
মক্কা মুকাররমার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাগল বলত (নাউযুবিল্লাহ)। ২নং আয়াতে তা রদ করা হয়েছে। তার আগে এ আয়াতে এভাবে শপথ করা হয়েছে। বহু মুফাসসিরের মতে এখানে ‘কলম’ দ্বারা তাকদীর লেখার কলম বোঝানো হয়েছে আর ‘তারা’ সর্বনাম দ্বারা বোঝানো হয়েছে ফেরেশতাদেরকে। অর্থাৎ শপথ তাকদীর লেখার কলমের এবং ফেরেশতাগণ তাকদীরের যে সিদ্ধান্তসমূহ লেখে তার, তুমি উন্মাদ নও। বোঝানো হচ্ছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নবী হবেন এবং মক্কা মুকাররমায় প্রেরিত হবেন, তা তাকদীরে পূর্বেই লিখে রাখা হয়েছে। সুতরাং তিনি যদি দুনিয়াবাসীর কাছে আল্লাহ তাআলার বার্তা পৌঁছিয়ে থাকেন, তা অস্বাভাবিক ও আশ্চর্যজনক কোন ব্যাপার নয়। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এখানে যে কলমের শপথ করা হয়েছে, তা সাধারণ কলমই আর ‘যা তারা লিখছে’ বলেও মানুষ সাধারণভাবে যা লেখে তাই বোঝানো হয়েছে। এ হিসেবে এর ব্যাখ্যা হল, কলম দ্বারা যারা লিখতে পারে, তাদের পক্ষেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন মাজীদের মাধ্যমে মানুষের কাছে যে উচ্চ মানের বিষয়বস্তু পেশ করছেন তার মত কিছু লেখা সম্ভব নয়। অথচ তিনি একজন উম্মী, নিরক্ষর। তিনি লেখাপড়া জানেন না। একজন উম্মীর মুখে এ রকম উচ্চ মানের বাণী উচ্চারিত হওয়াটা একথার সমুজ্জ্বল প্রমাণ যে, তাঁর কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহী আসে। সুতরাং তাকে যে উন্মাদ বলে সে নিজেই মহা উন্মাদ।
১. নূন—শপথ কলমের(১) এবং তারা যা লিপিবদ্ধ করে তাঁর,
(১) মুজাহিদ বলেন, কলম মানে যে কলম দিয়ে যিকর অর্থাৎ কুরআন মজীদ লেখা হচ্ছিলো। (কুরতুবী) কলম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “সর্বপ্রথম আল্লাহ তা’আলা কলম সৃষ্টি করে তাকে লেখার আদেশ করেন। কলম বলল, কী লিখব? তখন আল্লাহ বললেন, যা হয়েছে এবং যা হবে তা সবই লিখ। কলম আদেশ অনুযায়ী অনন্তকাল পর্যন্ত সম্ভাব্য সকল ঘটনা ও অবস্থা লিখে দিল।” (মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩১৭) অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তা'আলা সমগ্র সৃষ্টির তাকদীর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে লিখে দিয়েছিলেন।” (মুসলিম: ২৬৫৩, তিরমিযী: ২১৫৬, মুসনাদে আহমাদ: ২/১৬৯) কুরআনের অন্যত্রও এ কলমের উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, “তিনি (আল্লাহ) কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন”। (সূরা আল-আলাক: ৪)
(১) নূন,(1) শপথ কলমের(2) এবং ওরা (ফিরিশতাগণ) যা লিপিবদ্ধ করে তার।(3)
(1) نَ অক্ষরটি ঐ শ্রেণীর বিচ্ছিন্ন অক্ষরমালার অন্তর্ভুক্ত যা পূর্বে বহু সূরায় অতিবাহিত হয়েছে। যেমন, ص، ق (স্বাদ, ক্বাফ) ইত্যাদি।
(2) আল্লাহ তাআলা কলমের কসম খেয়েছেন। আর কলমের একটি গুরুত্ব এই কারণে রয়েছে যে, তার দ্বারা বর্ণনা ও মনের ভাবপ্রকাশের কাজ সম্পাদিত হয়। কেউ কেউ বলেন, এ থেকে সেই নির্দিষ্ট কলমকে বুঝানো হয়েছে, যেটাকে মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম সৃষ্টি করে ভাগ্য লেখার আদেশ করেছিলেন এবং সে শেষ পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে, তা সবই লিখেছিল। (তিরমিযী, তাফসীর সূরা নূন)
(3) يَسْطُرُوْنَ ক্রিয়ার কর্তা হল সেই কলমওলারা, যা কলম শব্দ দ্বারা প্রমাণিত হয়। কেননা, লেখনীর উল্লেখ স্বাভাবিকভাবে লেখকের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। অর্থ হল, তারও শপথ যা লেখকরা লিখে। অথবা ঐ ক্রিয়ার কর্তা হলেন ফিরিশতাগণ, যেমন অনুবাদে ফুটে উঠেছে।