قُلۡ هُوَ ٱلَّذِيٓ أَنشَأَكُمۡ وَجَعَلَ لَكُمُ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡأَبۡصَٰرَ وَٱلۡأَفۡـِٔدَةَۚ قَلِيلٗا مَّا تَشۡكُرُونَ

কুল হুওয়াল্লাযীআনশাআকুম ওয়া জা‘আলা লাকুমুছছাম‘আ ওয়াল আবসা-র ওয়াল আফইদাতা কালীলাম মা-তাশকুরূন।উচ্চারণ

এদেরকে বলো, আল্লাহই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনিই তোমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন। তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। ৩৩ তাফহীমুল কুরআন

বলে দাও, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য কান, চোখ ও হৃদয় বানিয়েছেন। (কিন্তু) তোমরা শোকর আদায় কর অল্পই।মুফতী তাকী উসমানী

বলঃ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।মুজিবুর রহমান

বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর’।আল-বায়ান

বলে দাও, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদেরকে দিয়েছেন শোনার ও দেখার শক্তি আর অন্তঃকরণ; তোমরা শোকর আদায় খুব অল্পই করে থাক।’তাইসিরুল

বলো -- "তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের বিকশিত করেছেন, আর তোমাদের জন্য বানিয়ে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা যা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর সে তো যৎসামান্য!"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৩

অর্থাৎ আল্লাহ‌ তোমাদের মানুষ হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, জন্তু-জানোয়ার করে পাঠাননি। তোমাদের কাজ তো এ ছিল না যে, দুনিয়ায় যে গোমরাহী বিস্তার লাভ করে আছে তোমরা চোখ বন্ধ করে তাই মেনে চলবে, ভেবেও দেখবে না, যে পথে তোমরা চলছো তা সঠিক কিনা। কেউ যদি তোমাদের সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝাতে চেষ্টা করে, তার কথা তোমরা কানেই তুলবে না এবং তোমাদের মন-মস্তিষ্কে আগে জেঁকে বসা অসত্য ও অন্যায়কে আঁকড়ে থাকবে এ উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে এ কান দেয়া হয়নি। এ চোখ তো এজন্য দেয়া হয়নি যে, তোমরা অন্ধের মতো অন্যের অনুসরণ করবে। যমীন থেকে আসমান পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা নিদর্শনসমূহ আল্লাহর রসূলের পেশকৃত তাওহীদের সাক্ষ্য দিচ্ছে কি না এ বিশ্ব-জাহানের ব্যবস্থাপনা খোদাহীন বা বহু খোদার পরিচালনাধীন হওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে কিনা নিজের দৃষ্টিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তোমরা তা দেখবে না এজন্য এ চোখ তোমাদেরকে দেয়া হয়নি। এ মন-মস্তিস্কও তোমাদের এজন্য দেয়া হয়নি যে, তোমরা চিন্তা-ভাবনা ও বিচার-বিবেচনার কাজ অন্যদের হাতে ছেড়ে দিয়ে দুনিয়াতে এমন সব নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে চলবে যা অন্য কেউ চালু করেছে। তোমরা বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে এতোটুকুও ভেবে দেখবে না যে, তা সঠিক না ভ্রান্ত। জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধি এবং শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির এ নিয়ামত আল্লাহ‌ তোমাদের দিয়েছিলেন ন্যায় ও সত্যকে চিনার জন্য। কিন্তু তোমরা অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছো। এসব উপকরণের মাধ্যমে তোমরা সব কাজই করছো। কিন্তু যে জন্য তা তোমাদের দেয়া হয়েছিলো সে একটি কাজই মাত্র করছো না। (অধিক ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আল নাহল, টীকা ৭২-৭৩; আল মু'মিনূন, টীকা ৭৫-৭৬ ; আস সাজদা, টীকা ১৭-১৮; আল আহকাফ, টীকা ৩১)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৩. বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবনশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরন। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৩) বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন(1) এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ।(2) তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।’(3)

(1) অর্থাৎ, প্রথমবার সৃষ্টিকারী হলেন আল্লাহই।

(2) যা দিয়ে তোমরা শুনতে পার, দেখতে পার এবং আল্লাহর সৃষ্টিকুল সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে পার। মহান আল্লাহ তিনটি (ইন্দ্রিয়) শক্তির কথা উল্লেখ করেছেন; যার দ্বারা মানুষ শ্রাব্য, দৃশ্য ও অনুভবযোগ্য সকল বস্তুর জ্ঞান লাভ করতে পারে। এতে এক দিক দিয়ে হুজ্জত কায়েম করাও হয়েছে এবং আল্লাহ প্রদত্ত এই নিয়ামতগুলোর উপর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করার নিন্দাও করা হয়েছে। এই জন্য আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘‘তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।’’

(3) অর্থাৎ, অল্প পরিমাণ অথবা অল্প সময়ব্যাপী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক। কিংবা কৃতজ্ঞতার স্বল্পতা উল্লেখ করে তাদের তরফ থেকে পূর্ণ কৃতঘ্নতাকেই বুঝানো হয়েছে।