هُوَ ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ ذَلُولٗا فَٱمۡشُواْ فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُواْ مِن رِّزۡقِهِۦۖ وَإِلَيۡهِ ٱلنُّشُورُ

হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা যালূলান ফামশূফী মানা-কিবিহা- ওয়া কুলূমির রিঝকিহী ওয়া ইলাইহিন নুশূর।উচ্চারণ

তিনিই তো সেই মহান সত্তা যিনি ভূপৃষ্ঠকে তোমাদের জন্য অনুগত করে দিয়েছেন। তোমরা এর বুকের ওপর চলাফেরা করো এবং আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও। ২৩ আবার জীবিত হয়ে তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। ২৪ তাফহীমুল কুরআন

তিনিই তোমাদের জন্য ভূমিকে বশ্য করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তার কাঁধে চলাফেরা কর ও তাঁর (দেওয়া) রিযক খাও। তাঁরই কাছে তোমাদেরকে পুনর্জীবিত হয়ে যেতে হবে। মুফতী তাকী উসমানী

তিনিইতো তোমাদের জন্য ভূমিকে সুগম করে দিয়েছেন; অতএব তোমরা দিক-দিগন্তে বিচরণ কর এবং তাঁর প্রদত্ত জীবনোপকরণ হতে আহার্য গ্রহণ কর; পুনরুত্থানতো তাঁরই নিকট।মুজিবুর রহমান

তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তিনিই তো তোমাদের জন্যে ভ‚মিকে সুগম করে দিয়েছেন ; অতএব তোমরা এর দিগ-দিগন্তে বিচরণ কর এবং তাঁর প্রদত্ত জীবনোপকরণ হতে আহার্য গ্রহণ কর; পুনরুত্থান তো তাঁরই নিকট। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিয্ক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।আল-বায়ান

তিনি তোমাদের জন্য যমীনকে (তোমাদের ইচ্ছার) অধীন করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা তার বুকের উপর দিয়ে চলাচল কর, আর আল্লাহর দেয়া রিযক হতে আহার কর, পুনরায় জীবিত হয়ে তাঁর কাছেই যেতে হবে।তাইসিরুল

তিনিই সেইজন যিনি পৃথিবীটাকে তোমাদের জন্য করে দিয়েছেন শান্ত, ফলে তোমরা এর দিগদিগন্তে বিচরণ করছ এবং তার জীবিকা থেকে আহার করছ। আর তাঁরই কাছে পুনরুত্থান।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৩

অর্থাৎ ভুপৃষ্ঠ নিজে থেকেই তোমাদের অনুগত হয়ে যায়নি। আর যে খাবার তোমরা লাভ করছো তাও আপনা থেকেই এখানে সৃষ্টি হয়নি। বরং আল্লাহ‌ তাঁর হিকমত ও কুদরত দ্বারা এ পৃথিবীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, এখানে তোমাদের জীবন ধারণ সম্ভব হচ্ছে এবং বিশাল গ্রহটি এমন শান্তিময় হয়ে উঠেছে যে, তোমরা নিশ্চিন্তে এখানে চলাফেরা করছো। তোমাদের জন্য এটি এমন একটি নিয়ামতের ভাণ্ডার হয়ে উঠেছে যে, তোমাদের জীবন যাপনের জন্য এখানে অসংখ্য উপকরণ বর্তমান আছে। যদি তোমরা গাফিল না হয়ে থাকো এবং কিছু বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে দেখো তাহলে জানতে পারবে, ভূ পৃষ্ঠকে তোমাদের জীবন ধারণের উপযোগী বানাতে এবং সেখানে রিযিকের অফুরন্ত ভাণ্ডার সৃষ্টি করতে কি পরিমাণ বুদ্ধি ও কৌশল কাজে লাগানো হয়েছে। (দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আন নামল, টীকা, ৭৩, ৭৪ ও ৮১; ইয়াসীন, টিকা ২৯, ৩২; আল মু’মিন, টীকা ৯০, ৯১; আয্ যুখরুফ, টীকা ৭; আল জাসিয়া, টীকা ৭; ক্বাফ, টীকা ১৮)

২৪

অর্থাৎ এ পৃথিবীর বুকে বিচরণ করো এবং আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও। কিন্তু একথা ভুলে যেও না যে, একদিন তোমাদের আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ ভূমির সমস্ত জিনিস তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। তবে এসব ব্যবহার কালে ভুলে যেও না, এখানে তোমরা চিরকাল থাকতে পারবে না। একদিন এখান থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে চলে যেতে হবে। তখন তাঁর কাছে এসব নি‘আমতের হিসাব দিতে হবে। সুতরাং এখানকার প্রতিটি জিনিস আল্লাহ তাআলার হুকুম অনুযায়ী ব্যবহার কর।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫. তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন; অতএব তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক থেকে তোমরা আহার কর; আর পুনরুত্থান তো তাঁরই কাছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৫) তিনিই তো তোমাদের জন্য ভূমিকে সুগম করে দিয়েছেন;(1) অতএব তোমরা ওর দিক-দিগন্তে বিচরণ কর(2) এবং তাঁর দেওয়া রুযী হতে আহার্য গ্রহণ কর। (3) আর পুনরুত্থান তো তাঁরই নিকট।

(1) ذَلُوْلٌ শব্দের অর্থ হল, এমন অনুগত, যে সামনে অবনত হয়ে যায় এবং কোন প্রকার অবাধ্যতা করে না। অর্থাৎ, যমীনকে তোমাদের জন্য নরম ও মোলায়েম করে দেওয়া হয়েছে। তাকে এমন শক্ত বানানো হয়নি যে, তাতে তোমাদের বসবাস ও চলা-ফেরা কষ্টকর হতে পারে।

(2) مَنَاكِبَ শব্দটি مَنْكِبٌ এর বহুবচন। এর অর্থ, দিক। এখানে এর অর্থ হল, যমীনের রাস্তা ও তার দিক-দিগন্ত। এখানে আদেশ ‘মুবাহ’ তথা বৈধ অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, তার রাস্তায় বিচরণ কর।

(3) যমীনের উৎপন্ন ফসলাদি আহার কর।