فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُمۡ وَٱسۡمَعُواْ وَأَطِيعُواْ وَأَنفِقُواْ خَيۡرٗا لِّأَنفُسِكُمۡۗ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ

ফাত্তাকুল্লা-হা মাছতাতা‘তুম ওয়াছমা‘উ ওয়া আতী‘ঊ ওয়া আনফিকূখাইরল লিআনফুছিকুম ওয়া মাইঁ ইঊকা শুহহা নাফছিহী ফাউলাইকা হুমুল মুফলিহূন।উচ্চারণ

তাই যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করে চলো। ৩১ শোন, আনুগত্য করো এবং নিজেদের সম্পদ ব্যয় করো। এটা তোমাদের জন্যই ভালো। যে মনের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত থাকলো সেই সফলতা লাভ করবে। ৩২ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করে চলো এবং শোন ও মান। আর (আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী) অর্থ ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্য উত্তম। যারা তাদের অন্তরের লোভ-লালসা থেকে মুক্তি লাভ করেছে তারাই সফলকাম।মুফতী তাকী উসমানী

তোমরা আল্লাহকে যথাযথ ভয় কর, শোন, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণে; যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত তারাই সফলকাম।মুজিবুর রহমান

অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শুন, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর। এটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। যারা মনের কার্পন্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমরা আল্লাহ্কে যথাসাধ্য ভয় কর, এবং শোন, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্যে ; যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত ; তারাই সফলকাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং তোমাদের নিজদের কল্যাণে ব্যয় কর, আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়, তারাই মূলত সফলকাম।আল-বায়ান

কাজেই তোমরা আল্লাহকে তোমাদের সাধ্যমত ভয় কর, তোমরা (তাঁর বাণী) শুন, তোমরা (তাঁর) আনুগত্য কর এবং (তাঁর পথে) ব্যয় কর, এটা তোমাদের নিজেদেরই জন্য কল্যাণকর। যারা অন্তরের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা পেল, তারাই সফলকাম।তাইসিরুল

অতএব আল্লাহ্‌কে ভয়ভক্তি করো যতটা তোমরা সক্ষম হও, আর শোনো, আর আজ্ঞাপালন করো, আর ব্যয় করো, -- এ তোমাদের নিজেদের জন্য কল্যাণময়। আর যে কেউ তার অন্তরের লোভ-লালসা থেকে সংযত রাখে তারাই তবে খোদ সফলকাম হয়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩১

কুরআন মজীদে এক স্থানে বলা হয়েছে اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ “আল্লাহকে ভয় করার মত ভয় করো।” (আলে ইমরান, ১০২) অন্য এক স্থানে বলা হয়েছে لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا “আল্লাহ কারো ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।” (আল বাকারাহ, ২৮৬) এখানে বলা হচ্ছে, সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। এ তিনটি আয়াতের বিষয়বস্তু এক সাথে মিলিয়ে চিন্তা করলে বুঝা যায়, প্রথম আয়াতে আমাদের সামনে একটি মানদণ্ড পেশ করা হয়েছে সেখানে পৌঁছার জন্য প্রত্যেক মু’মিনের চেষ্টা করা উচিত। দ্বিতীয় আয়াত আমাদেরকে এই মৌলিক নীতি অবহিত করছে যে, কোন ব্যক্তির নিকট থেকেই তার সাধ্যাতীত কোন কাজ দাবী করা হয়নি। বরং আল্লাহর দ্বীনের অধীনে মানুষ ততটুকুই করার জন্য আদিষ্ট যা করার সামর্থ তার আছে। আর এ আয়াতটি প্রত্যেক ঈমানদারকে এ মর্মে পথনির্দেশনা দিচ্ছে যে, সে যেন সাধ্যানুসারে তাকওয়ার পথ অনুসরণে কোন ত্রুটি না করে। তার পক্ষে যতটা সম্ভব আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করা এবং তাঁর নাফরমানী থেকে দূরে থাকা কর্তব্য। এক্ষেত্রে সে যদি অলসতা করে তাহলে পাকড়াও থেকে বাঁচতে পারবেনা। তবে যে জিনিস তার সাধ্যের অতীত (অবশ্য কোন্ জিনিস তার সাধ্যের অতীত তার ফায়সালা আল্লাহই ভালভাবে করতে পারেন) সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।

৩২

ব্যাখ্যার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আল হাশর, টীকা ১৯।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, মানুষকে যে তাকওয়া ও আল্লাহভীতির আদেশ করা হয়েছে, তা তার সাধ্যানুপাতেই করা হয়েছে। অর্থাৎ কারও উপর তার সাধ্যাতীত কোন বিধান চাপানো হয়নি। এই একই বিষয় গত হয়েছে সূরা বাকারায় (২ : ২২৩, ২৮৬); সূরা আনআমে (৬ : ১৫২); সূরা আরাফে (৭ : ৪২) ও সূরা মুমিনুনে (২৩ : ৬২)।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬. সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, শ্রবণ কর, আনুগত্য কর এবং ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্য; আর যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য হতে রক্ষা করা হয়; তারাই তো সফলকাম।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৬) তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর এবং শোনো, আনুগত্য কর(1) ও ব্যয় কর, তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণ হবে।(2) আর যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত, তারাই সফলকাম।

(1) অর্থাৎ, আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের কথাগুলোকে মনোযোগ ও ধ্যান দিয়ে শোনো এবং তার উপর আমল কর। কেননা, কেবল শুনে নেওয়া কোন উপকারে আসবে না, যতক্ষণ না আমল হবে।

(2) خَيْرًا أَيْ: إِنْفَاقًا خَيْرًا، يَكُن الإِنْفَاقُ خَيْرًا ‘ব্যয় কর’ শব্দটি ব্যাপকার্থবোধক শব্দ, যা ওয়াজেব ও নফল উভয় প্রকার সাদাকাই শামিল।