كَمَثَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ إِذۡ قَالَ لِلۡإِنسَٰنِ ٱكۡفُرۡ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيٓءٞ مِّنكَ إِنِّيٓ أَخَافُ ٱللَّهَ رَبَّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

কামাছালিশশাইতা-নি ইযক-লা লিল ইনছা-নিকফুর ফালাম্মা-কাফার কালা ইন্নী বারীউম মিনকা ইন্নীআখা-ফুল্লা-হা রব্বাল ‘আ-লামীন।উচ্চারণ

এদের উদাহরণ হলো শয়তান। সে প্রথমে মানুষকে বলে কুফরী কর। যখন মানুষ কুফরী করে বসে তখন সে বলে, আমি তোমার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। আমি তো আল্লাহ‌ রব্বুল আলামীনকে ভয় পাই। ২৭ তাফহীমুল কুরআন

তাদের তুলনা হল শয়তান। সে মানুষকে বলে, কাফের হয়ে যা। তারপর যখন সে কাফের হয়ে যায়, তখন বলে, তোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি আল্লাহকে ভয় করি, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। #%১৫%#মুফতী তাকী উসমানী

তাদের তুলনা হচ্ছে শাইতান, যখন সে মানুষকে বলে, কুফরী কর। অতঃপর যখন সে কুফরী করে তখন শাইতান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহকে ভয় করি।মুজিবুর রহমান

তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, ‘কুফরী কর’; এরপর যখন সে কুফরী করে তখন সে বলে, ‘তোমার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ্কে ভয় করি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

(এরা) শয়তান-এর ন্যায়, সে মানুষকে বলেছিল, ‘কুফরি কর’, অতঃপর যখন সে কুফরি করল তখন সে বলল, আমি তোমার থেকে মুক্ত; নিশ্চয় আমি সকল সৃষ্টির রব আল্লাহকে ভয় করি।আল-বায়ান

(তাদের মিত্ররা তাদেরকে প্রতারিত করেছে) শয়ত্বানের মত। যখন মানুষকে সে বলে- ‘কুফুরী কর’। অতঃপর মানুষ যখন কুফুরী করে তখন শয়ত্বান বলে- ‘তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’তাইসিরুল

শয়তানের সমতুল্য, দেখো! সে মানুষকে বলে -- "অবিশ্বাস করো", তারপর যখন সে অবিশ্বাস করে তখন সে বলে -- "আমি নিশ্চয়ই তোমার থেকে সম্পর্কচ্যুত, আমি অবশ্যই বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহ্‌কে ভয় করি।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৭

অর্থাৎ এসব মুনাফিক বনী নাযীরের সাথে সেই একই আচরণ করছে, যে আচরণ শয়তান মানুষের সাথে করে থাকে। এখন এসব মুনাফিক তাদের বলছে, তোমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও প্রয়োজনে আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো। কিন্তু তারা যখন সত্যি সত্যি যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়বে তখন এরা তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজেদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি থেকে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে এবং তাদের পরিণতি কি হলো তা দেখার জন্য ফিরেও তাকাবে না। শয়তান প্রত্যেক কাফেরের সাথে এ ধরনের আচরণই করে থাকে। বদর যুদ্ধে কুরাইশ গোত্রের কাফেরদের সাথেও সে এরূপ আচরণ করেছিল। সূরা আনফালের ৪৮ আয়াতে এর উল্লেখ আছে। প্রথমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সে তাদেরকে হিম্মত ও সাহস যুগিয়ে বদর প্রান্তরে এনে হাজির করেছে এবং বলেছেঃ (لَا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَكُمْ ) (আজ কেউই তোমাদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে পারবে না। আর আমি তো তোমাদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগী হিসেবে আছিই)। কিন্তু যখন দুটো সেনাবাহীনি মুখোমুখি হয়েছে তখন সে একথা বলতে বলতে পালিয়েছেঃ

( إِنِّي بَرِيءٌ مِنْكُمْ إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ )

(আমি তোমাদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত। আমি যা দেখতে পাচ্ছি তোমরা তা দেখতে পাও না। আমি তো আল্লাহকে ভয় পাই।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

শয়তানের খাসলত হল প্রথমে মানুষকে কুফর ও গোনাহে লিপ্ত হতে প্ররোচনা দেওয়া। তার দ্বারা প্ররোচিত হয়ে কেউ যখন কোন গোনাহ করে ফেলে এবং সে কারণে তাকে কোন দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়, তখন আর শয়তান তার সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। এরূপ এক ঘটনা সূরা আনফালে (৮ : ৪৮) বদরের যুদ্ধ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। আখেরাতে তো সে কাফেরদের দায়-দায়িত্ব নিতে সরাসরিই অস্বীকার করবে, যেমন সূরা ইবরাহীমে (১৪ : ২২) গত হয়েছে। মুনাফেকদের চরিত্রও ঠিক সে রকমই। শুরুতে তারা ইয়াহুদীদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে থাকে। কিন্তু ইয়াহুদীদের যখন সাহায্যের প্রয়োজন হল, তখন এমনই ডিগবাজি খেল, যেন তাদেরকে চেনেই না।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬. এরা শয়তানের মত, সে মানুষকে বলে, কুফরী কর; তারপর যখন সে কুফরী করে তখন সে বলে, তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহকে ভয় করি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৬) (ওরা) শয়তানের মত, যে মানুষকে বলে, অবিশ্বাস কর। অতঃপর যখন সে অবিশ্বাস করে, তখন শয়তান বলে, ‘তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই, (1) নিশ্চয় আমি বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ (2)

(1) এখানে ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের আর একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। মুনাফিকরা ইয়াহুদীদের কোনই সাহায্য না করে যেমন অসহায় ছেড়ে দিয়েছিল, অনুরূপ আচরণ শয়তানও করে মানুষের সাথে। প্রথমে সে মানুষকে ভ্রষ্ট করে। সুতরাং সে যখন তার অনুসরণ করে কুফরী করে বসে, তখন সে (শয়তান) তার সাথে সম্পর্ক-ছিন্নতার কথা ঘোষণা করে।

(2) শয়তান তার এই কথায় সত্যবাদী নয়। উদ্দেশ্য কেবল সেই কুফরী থেকে স্বতন্ত্রতা ও সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দেওয়া, যা মানুষ তার চক্রান্তে করে থাকে।