আলাম তার ইলাল্লাযীনা না-ফাকূইয়াকূলূনা লিইখওয়া-নিহিমুল্লাযীনা কাফারূ মিন আহলিল কিতা-বি লাইন উখরিজতুম লানাখরুজান্না মা‘আকুম ওয়ালা-নুতী‘উ ফীকুম আহাদান আবাদওঁ ওয়া ইন কুতিলতুম লানানসুরন্নাকুম ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদুইন্নাহুম লাক-যিবুন।উচ্চারণ
তোমরা ২২ কি সেই সব লোকদের দেখনি যারা মুনাফিকীর আচরণ গ্রহণ করেছে? তারা তাদের কাফের আহলে কিতাব ভাইদের বলেঃ যদি তোমাদের বহিষ্কার করা হয়, তাহলে আমরাও তোমাদের সাথে বেরিয়ে যাবো। তোমাদের ব্যাপারে কারো কথাই আমরা শুনবো না। আর যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয় তাহলে আমরা তোমাদের সাহায্য করবো। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষী, তারা পাকা মিথ্যাবাদী। তাফহীমুল কুরআন
তুমি কি দেখনি মুনাফেকদেরকে যারা কিতাবীদের মধ্যকার তাদের কাফের ভাইদেরকে বলে, তোমাদেরকে যদি বহিষ্কার করা হয়, তবে আমরাও তোমাদের সাথে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের সম্পর্কে কখনও অন্য কারও কথা মানব না আর তোমাদের সাথে যদি যুদ্ধ করা হয়, তবে আমরা তোমাদের সাহায্য করব। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তারা বিলকুল মিথ্যুক।মুফতী তাকী উসমানী
তুমি কি মুনাফিকদেরকে দেখনি? তারা কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের ঐ সব সঙ্গীকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশত্যাগী হব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনও কারও কথা মানবো না এবং যদি তোমরা আক্রান্ত হও তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।মুজিবুর রহমান
আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেন নি? তারা তাদের কিতাবধারী কাফের ভাইদেরকে বলেঃ তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশ থেকে বের হয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনও কারও কথা মানব না। আর যদি তোমরা আক্রান্ত হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি কি মুনাফিকদেরকে দেখ নাই ? এরা কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে এদের সেই সব সঙ্গীকে বলে, ‘তোমরা যদি বহিষ্কৃত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে দেশত্যাগী হব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনও কারও কথা মানব না এবং যদি তোমরা আক্রান্ত হও আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব।’ কিন্তু আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, এরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি কি মুনাফিকদেরকে দেখনি যারা আহলে কিতাবের মধ্য হতে তাদের কাফির ভাইদেরকে বলে, ‘তোমাদেরকে বের করে দেয়া হলে আমরাও তোমাদের সাথে অবশ্য বেরিয়ে যাব এবং তোমাদের ব্যাপারে আমরা কখনোই কারো আনুগত্য করব না। আর তোমাদের সাথে যুদ্ধ করা হলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব।’ আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা মিথ্যাবাদী।আল-বায়ান
তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা মুনাফিকী করেছিল? আহলে কিতাবের মধ্যে যারা কুফুরী করেছিল তাদের সেই ভাইদেরকে তারা (অর্থাৎ মুনাফিকরা) বলেছিল- ‘তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, তাহলে অবশ্য অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে বেরিয়ে যাব, আর তোমাদের ব্যাপারে আমরা কক্ষনো কারো কথা মেনে নেব না। আর যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়, তাহলে আমরা অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তারা অবশ্যই মিথ্যেবাদী।তাইসিরুল
তুমি কি তাদের দেখ নি যারা কপটাচরণ করছে, -- তারা গ্রন্থধারীদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের তেমন ভাই- বন্ধুদের বলে -- "তোমাদের যদি বের করে দেওয়া হয় তাহলে আমরাও নিশ্চয়ই তোমাদের সঙ্গে বেরিয়ে যাব, আর তোমাদের ব্যাপারে আমরা কারোর তাবেদারি কখনো করব না, আর তোমাদের সঙ্গে যদি যুদ্ধ করা হয় তাহলে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের সাহায্য করব"? আর আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।মাওলানা জহুরুল হক
২২
পুরো এই রুকূ’র আয়াতসমূহের বাচনভঙ্গি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, রসূলুল্লাহ ﷺ যে সময় বনু নাযীরকে মদীনা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য দশদিন সময় দিয়ে নোটিশ দিয়েছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ শুরু হতে এখনো কয়েকদিন দেরী ছিল সেই সময় এ রুকূ’র আয়াতগুলো নাযিল হয়েছিলো। আমরা পূর্বেই বর্ণনা করেছি, রসূলুল্লাহ ﷺ বনু নাযীরকে এই নোটিশ দিলে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং মদীনার অন্যান্য মুনাফিক নেতারা তাদের বলে পাঠালো যে, আমরা দুই হাজার লোক নিয়ে তোমাদের সাহায্য করার জন্য আসবো। আর বনী কুরায়যা এবং বনী গাতফানও তোমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। অতএব তোমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও এবং কোন অবস্থায় তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করো না। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলে আমরাও তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আর তোমরা এখান থেকে বহিষ্কৃত হলে আমরাও চলে যাব। এই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াতগুলো নাযিল করেছেন। তাই নাযিল হওয়ার পরম্পরার দিক দিয়ে এ রুকূ’টা প্রথমে নাযিল হয়েছে। আর বনী নাযীরকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করার পর প্রথম রুকূ’র আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে। তবে কুরআন মজীদে সন্নিবেশ করার ক্ষেত্রে প্রথম রুকূ’র আগে এবং দ্বিতীয় রুকূ’ পরে রাখার কারণ হলো অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রথম রুকূ’তে বর্ণিত হয়েছে।
১১. আপনি কি মুনাফিকদেরকে দেখেননি? তারা কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের সেসব ভাইকে বলে, তোমরা যদি বহিস্কৃত হও, আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশত্যাগী হব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনো কারো কথা মানবো না এবং যদি তোমরা আক্রান্ত হও আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
(১১) তুমি কি মুনাফিকদেরকে দেখনি? তারা আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদের সেই ভাইদেরকে বলে, ‘তোমরা যদি বহিষ্কৃত হও, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদের সাথে দেশত্যাগী হব এবং আমরা তোমাদের ব্যাপারে কখনো কারো কথা মানব না এবং যদি তোমরা আক্রান্ত হও তবে আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে সাহায্য করব।’(1) কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী। (2)
(1) যেমন পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে যে, মুনাফিকরা বানু-নায্বীরের কাছে এই বার্তা পাঠিয়েছিল।
(2) তাদের মিথ্যাবাদিতা পরিষ্কার হয়ে সামনে এসে গেল। বানু-নায্বীর দেশত্যাগ করতে বাধ্য হল। এরা না তাদের সাহায্যে এগিয়ে এল, আর না তাদের সমর্থনে মদীনা ছাড়ার আগ্রহ দেখাল।