لِّئَلَّا يَعۡلَمَ أَهۡلُ ٱلۡكِتَٰبِ أَلَّا يَقۡدِرُونَ عَلَىٰ شَيۡءٖ مِّن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَأَنَّ ٱلۡفَضۡلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤۡتِيهِ مَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ ذُو ٱلۡفَضۡلِ ٱلۡعَظِيمِ

লিয়াল্লা-ইয়া‘লামা আহলুল কিতা-বি আল্লা-ইয়াকদিরূনা ‘আলা-শাইয়িম মিন ফাদলিল্লা-হি ওয়া আন্নাল ফাদলা বিয়াদিল্লা-হি ইউ’তীহি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু যুল ফাদলিল ‘আজীম।উচ্চারণ

(তোমাদের এ নীতি অবলম্বন করা উচিত) যাতে কিতাবধারীরা জানতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর তাদের একচেটিয়া অধিকার নেই, বরং আল্লাহর অনুগ্রহ নিরংকুশভাবে আল্লাহরই হাতে নিবদ্ধ। তিনি যাকে চান তা দেন। তিনি বড়ই অনুগ্রহশীল। তাফহীমুল কুরআন

তা এজন্য যে, যাতে কিতাবীগণ জানতে পারে, #%৩১%# আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে তাদের কিছুমাত্র এখতিয়ার নেই #%৩২%# এবং সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।মুফতী তাকী উসমানী

এটা এ জন্য যে, কিতাবীরা যেন জানতে পারে যে, আল্লাহর সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও তাদের কোন অধিকার নেই; অনুগ্রহ আল্লাহরই এখতিয়ারে, যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি তা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।মুজিবুর রহমান

যাতে কিতাবধারীরা জানে যে, আল্লাহর সামান্য অনুগ্রহের উপর ও তাদের কোন ক্ষমতা নেই, দয়া আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা, তা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা এইজন্যে যে, কিতাবীগণ যেন জানতে পারে, আল্লাহ্ র সামান্যতম অনুগ্রহের ওপরও এদের কোন অধিকার নেই। অনুগ্রহ আল্লাহ্ র ই ইখ্তিয়ারে, যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি তা দান করেন। আল্লাহ্ মহাঅনুগ্রহশীল।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

(তা এজন্য যে,) আহলে কিতাবগণ যেন জেনে নিতে পারে, আল্লাহর অনুগ্রহের কোন বস্তুতেই তারা ক্ষমতা রাখে না। আর নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহর হাতেই, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দেন। আর আল্লাহ মহাঅনুগ্রহের অধিকারী।আল-বায়ান

(আমি আহলে কিতাব ছাড়া অন্যত্র নুবুওয়াত দিলাম) এ জন্য যে, আহলে কিতাবগণ যেন জেনে নিতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের কোন কিছুকেই তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কোন ক্ষমতা নেই, আর (তারা যেন আরো জেনে নিতে পারে যে) অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর হাতেই, যাকে ইচ্ছে তিনিই তা দেন। আল্লাহ বিশাল অনুগ্রহের অধিকারী।তাইসিরুল

গ্রন্থধারীরা হয়ত নাও জানতে পারে যে তারা আল্লাহ্‌র করুণাভান্ডারের মধ্যের কোনো কিছুতেই ক্ষমতা রাখে না, আর এই যে করুণাভান্ডার তো আল্লাহ্‌রই হাতে রয়েছে, তিনি এটি প্রদান করেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। বস্তুত আল্লাহ্ বিরাট করুণাভান্ডারের অধিকারী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কিতাবীদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে এ বাক্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। (এক) যে সকল ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনেনি, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশের ঈমান না আনার কারণ ছিল কেবলই ঈর্ষাকাতরতা। তাদের কথা ছিল শেষ নবী বনী ইসরাঈলদের মধ্যে না এসে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশে কেন আসবেন? তাদেরকে বলা হচ্ছে, নবুওয়াত আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। এ অনুগ্রহ তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। এটা তোমাদের এখতিয়ারাধীন বিষয় নয় যে, তোমরা যাকে ইচ্ছা কর তাকেই দিতে হবে। (দুই) খ্রিস্টানদের মধ্যে এক সময় রেওয়াজ হয়ে গিয়েছিল যে, তাদের পাদ্রী অর্থের বিনিময়ে পাপ থেকে মানুষের মুক্তিপত্র লিখে দিত। মৃত্যুর পর সেই ব্যক্তির সঙ্গে তা কবরে দাফন করে দেওয়া হত। মনে করা হত, পাদ্রীর দেওয়া মুক্তিপত্রের কারণে সেই ব্যক্তির পাপ মোচন হয়ে গেছে। কাজেই আল্লাহ তাআলার কাছে সে ক্ষমা পাবে। এ আয়াত বলছে, আল্লাহ তাআলার করুণা কেবলই তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। এতে কোন বান্দার কিছুমাত্র এখতিয়ার নেই। আল্লাহ তাআলা কাকে ক্ষমা করবেন, কে তাঁর রহমত-øাত হবে আর কে তার ক্ষমা ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়ে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে একচ্ছত্রভাবে সে ফায়সালা তিনিই করবেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৯. এটা এজন্যে যে, কিতাবীগণ যেন জানতে পারে, আল্লাহর সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও ওদের কোন অধিকার নেই।(১) আর নিশ্চয় অনুগ্রহ আল্লাহরই ইখতিয়ারে, যাকে ইচ্ছে তাকে তিনি তা দান করেন। আর আল্লাহ্ মহাঅনুগ্রহশীল।

(১) আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, উল্লেখিত বিধানাবলী এজন্যে বর্ণনা করা হলো, যাতে কিতাবধারীরা জেনে নেয় যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ঈমান না এনে কেবল ঈসা আলাইহিস সালাম-এর প্রতি ঈমান স্থাপন করেই আল্লাহ তা'আলার কৃপা লাভের যোগ্য নয়। (দেখুন: মুয়াস্‌সার)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৯) এটা এ জন্য যে,(1) আহলে কিতাবগণ যেন জানতে পারে, আল্লাহর সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও তাদের কোন অধিকার নেই এবং অনুগ্রহ আল্লাহরই হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করে থাকেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

(1) لِئَلاَّ এতে ‘লা’ অক্ষরটি অতিরিক্ত এবং অর্থ হল, (لِيَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَنَّهُمْ لاَ يَقْدِرُوْنَ عَلَى أَن يَّنَالُوْا شَيْئًا مِّنْ فَضْلِ اللهِ) (ফাতহুল ক্বাদীর)