মাআসা-বা মিমমুসীবাতিন ফিল আরদিওয়ালা-ফীআনফুছিকুম ইল্লা-ফী কিতা-বিম মিন কাবলি আন্নাবরআহা- ইন্না যা-লিকা ‘আলাল্লা-হি ইয়াছীর।উচ্চারণ
পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের ওপর যেসব মুসিবত আসে তার একটিও এমন নয় যে, তাকে আমি সৃষ্টি করার পূর্বে ৩৯ একটি গ্রন্থে লিখে রাখিনি। ৪০ এমনটি করা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ কাজ। ৪১ তাফহীমুল কুরআন
পৃথিবীতে অথবা তোমাদের প্রাণের উপর যে মুসিবত দেখা দেয়, #%১৯%# তার মধ্যে এমন কোনওটিই নেই, যা সেই সময় থেকে এক কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই, যখন আমি সেই প্রাণসমূহ সৃষ্টিও করিনি। #%২০%# নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষে এটা অতি সহজ।মুফতী তাকী উসমানী
পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে, আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ।মুজিবুর রহমান
পৃথিবীতে এবং ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর কোন বিপদ আসে না; কিন্তু তা জগত সৃষ্টির পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
পৃথিবীতে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে; আল্লাহ্ র পক্ষে এটা খুবই সহজ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যমীনে এবং তোমাদের নিজদের মধ্যে এমন কোন মুসীবত আপতিত হয় না, যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। নিশ্চয় এটা আল্লাহর পক্ষে খুবই সহজ।আল-বায়ান
পৃথিবীতে অথবা তোমাদের নিজেদের উপর এমন কোন মুসীবত আসে না যা আমি সংঘটিত করার পূর্বে কিতাবে লিপিবদ্ধ রাখি না। এটা (করা) আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।তাইসিরুল
এমন কোনো বিপর্যয় পৃথিবীতে পতিত হয় না আর তোমাদের নিজেদের উপরেও নয় যা আমরা ঘটাবার আগে একটি কিতাবে না রয়েছে। নিঃসন্দেহ এটি আল্লাহ্র জন্যে সহজ।মাওলানা জহুরুল হক
৩৯
’তাকে’ কথাটি দ্বারা মুসিবতের প্রতিও ইঙ্গিত করা হতে পারে, পৃথিবীর প্রতিও ইঙ্গিত করা হতে পারে, নিজেদের কথাটির প্রতিও ইঙ্গিত করা হতে পারে এবং বাক্যের ধারা অনুসারে সৃষ্টিকূলের প্রতিও ইঙ্গিত করা হতে পারে।
৪০
কিতাব অর্থ ভাগ্য লিপি।
৪১
অর্থাৎ নিজের সৃষ্টিকূলের মধ্যে প্রত্যেকের ভাগ্য আগেই লিখে দেয়া আল্লাহর জন্য কোন কঠিন কাজ নয়।
‘কিতাব’ দ্বারা লাওহে মাহফুজ বোঝানো উদ্দেশ্য। কিয়ামত পর্যন্ত যা-কিছু ঘটবে সবই তাতে পূর্ব থেকেই লিপিবদ্ধ আছে।
২২. যমীনে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপৰ্যয়ই আসে তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আমরা তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রেখেছি(১) নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে এটা খুব সহজ।
(১) আলোচ্য আয়াতসমূহে এ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, যমীনের বুকে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের উপর যে বিপদাপদ আসে, তা সবই আমি কিতাবে অর্থাৎ লওহে-মাহফুযে জগত সৃষ্টির পূর্বেই লিখে দিয়েছিলাম। যমীনের বুকে সংঘটিত বিপদাপদ বলে দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, ফসলহানি, বাণিজ্যে ঘাটতি, ধন-সম্পদ বিনষ্ট হওয়া, বন্ধু-বান্ধবের মৃত্যু ইত্যাদি এবং ব্যক্তিগত বিপদাপদ বলে সর্বপ্রকার রোগব্যাধি, ক্ষত, আঘাত ইত্যাদি বোঝানো হয়েছে। (কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর)
(২২) পৃথিবীতে(1) অথবা ব্যক্তিগতভাবে(2) তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আসে, আমার তা সংঘটিত করার পূর্বেই তা লিপিবদ্ধ থাকে,(3) নিশ্চয় আল্লাহর পক্ষে তা খুবই সহজ।
(1) যেমন দুর্ভিক্ষ, প্লাবন, ঝড়-তুফান এবং অন্যান্য আকাশ ও পৃথিবীর বিপদাপদ।
(2) যেমন, রোগ-ব্যাধি, কষ্ট-ক্লেশ এবং অভাব-অনটন ইত্যাদি।
(3) অর্থাৎ, মহান আল্লাহ তাঁর জ্ঞানানুসারে সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার পূর্বেই যাবতীয় বিষয়াদি লিখে দিয়েছেন। যেমন, হাদীসে আছে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘‘মহান আল্লাহ আকাশ-পৃথিবী সৃষ্টি করার পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই সৃষ্টি ভাগ্য লিখে দিয়েছেন।’’ (মুসলিমঃ তাকদীর অধ্যায়)