فَقَالُوٓاْ أَبَشَرٗا مِّنَّا وَٰحِدٗا نَّتَّبِعُهُۥٓ إِنَّآ إِذٗا لَّفِي ضَلَٰلٖ وَسُعُرٍ

ফাক-লূআবাশারম মিন্না-ওয়া-হিদান নাত্তাবি‘উহূ ইন্নাইযাল্লাফী দালা-লিওঁ ওয়াছু‘উর।উচ্চারণ

এবং বলতে লাগলো “এখন কি আমরা আমাদেরই মধ্যকার এক ব্যক্তিকে এককভাবে মেনে চলবো? ১৭ আমরা যদি তার আনুগত্য গ্রহণ করি তাহলে তার অর্থ হবে আমরা বিপথগামী হয়েছি এবং আমাদের বিবেক-বুদ্ধির মাথা খেয়েছি। তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং তারা বলতে লাগল, আমরা কি আমাদেরই মধ্যকার একা এক ব্যক্তির অনুগামী হব? এরূপ করলে নিঃসন্দেহে আমরা ঘোর বিভ্রান্তি ও উন্মাদগ্রস্ততায় নিপতিত হব।মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলেছিলঃ আমরা কি আমাদেরই সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির অনুসরণ করব? তাহলে তো আমরা বিপথগামী এবং উন্মাদরূপে গন্য হব।মুজিবুর রহমান

তারা বলেছিলঃ আমরা কি আমাদেরই একজনের অনুসরণ করব? তবে তো আমরা বিপথগামী ও বিকার গ্রস্থরূপে গণ্য হব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তারা বলেছিল, ‘আমরা কি আমাদেরই এক ব্যক্তির অনুসরণ করব ? তবে তো আমরা পথভ্রষ্টতায় এবং উন্মত্ততায় পতিত হব। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর তারা বলেছিল, ‘আমরা কি আমাদেরই মধ্য থেকে এক ব্যক্তির অনুসরণ করব? তাহলে নিশ্চয় আমরা পথভ্রষ্টতা ও উম্মত্ততার মধ্যে পড়ব’।আল-বায়ান

তারা বলেছিল, ‘আমরা কি আমাদেরই মধ্যেকার মাত্র একটা লোকের অনুসরণ করব? তাহলে তো আমরা গুমরাহী আর পাগলামিতে পড়ে যাব।তাইসিরুল

কাজেই তারা বলেছিল -- "কী! আমাদের মধ্যেকার মানুষই একজন, তাকেই কি আমরা অনুসরণ করব? সেক্ষেত্রে আমরা তো নিশ্চয়ই বিপথগামী হব ও পাগলামিতে পড়ব।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৭

অন্য কথায় তিনটি কারণে তারা হযরত সালেহ (আঃ) এর অনুসরণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। প্রথম কারণ, তিনি মানুষ, মানব সত্ত্বার ঊর্ধ্বে নন যে, আমরা তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেব। দ্বিতীয় কারণ, তিনি আমাদের কওমেরই একজন মানুষ। আমাদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কোন কারণ নেই, তৃতীয় কারণ, তিনি একা, এক ব্যক্তি। আমাদের সাধারণ মানুষদেরই একজন। তিনি কোন নেতা নন। তাঁর সাথে কোন বড় দল বা সৈন্য সামন্ত নেই, সেবক সেবিকাও নেই। তাই আমরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে পারি না। তাদের মনে নবী হবে মানব সত্ত্বার ঊর্ধ্বে। আর তিনি যদি মানুষ হন তাহলে আমাদের নিজের দেশ ও জাতির মধ্যে জন্মগ্রহণ করবেন না, উপর থেকে নেমে আসবেন অথবা বাইরে থেকে পাঠানো হবে। তাও যদি না হয় তাহলে অন্তত তিনি হবেন নেতা। তাঁর অস্বাভাবিক শান-শওকত ও জাঁকজমক থাকবে। এ কারণে মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ‌ তা’আলা তাঁকে মনোনীত করেছেন বলে মেনে নেয়া হবে। মক্কার কাফেররাও এই মূর্খতার মধ্যেই নিমজ্জিত ছিল। মুহাম্মাদ ﷺ মানুষ। সাধারণ লোকদের মতই তিনি বাজারে চলাফেরা করেন। কাল আমাদের মাঝেই তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং আজ দাবী করেছেন যে, আল্লাহ‌ আমাকে নবী বানিয়েছেন। মক্কার কাফেররা এ যুক্তির ভিত্তিতেই তাঁর রিসালাত মানতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৪. অতঃপর তারা বলেছিল, আমরা কি আমাদেরই এক ব্যক্তির অনুসরণ করব? তবে তো আমরা পথভ্ৰষ্টতায় এবং উন্মত্ততায় পতিত হব।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৪) তারা বলেছিল, ‘আমরা কি আমাদেরই মধ্যকার এক ব্যক্তির অনুসরণ করব? তাহলে তো নিশ্চয় আমরা ভ্রষ্ট ও পাগলরূপে গণ্য হব। (1)

(1) অর্থাৎ, একজন মানুষকে রসূল বলে স্বীকার করে নেওয়া তাদের নিকট ভ্রষ্টতা ও পাগলামি ছিল। سُعُرٌ হল سَعِيْرٌ এর বহুবচন। যার অর্থ, আগুনের শিখা। এখানে তা পাগলামি বা শাস্তি ও কঠোরতা অর্থে ব্যবহার হয়েছ