وَكَذَّبُواْ وَٱتَّبَعُوٓاْ أَهۡوَآءَهُمۡۚ وَكُلُّ أَمۡرٖ مُّسۡتَقِرّٞ

ওয়াকাযযাবূওয়াত্তাবা‘ঊআহওয়াআহুম ওয়াকুল্লুআমরিম মুছতাকির।উচ্চারণ

এরা (একেও) অস্বীকার করলো এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করলো। প্রত্যেক বিষয়কে শেষ পর্যন্ত একটা পরিণতি লাভ করতে হয়। তাফহীমুল কুরআন

তারা প্রত্যাখ্যান করল এবং নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুগামী হল। প্রতিটি বিষয় শেষ পর্যন্ত এক পরিণতিতে পৌঁছবেই। মুফতী তাকী উসমানী

তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, আর প্রত্যেক ব্যাপারই যথাসময়ে লক্ষ্যে পৌঁছবে।মুজিবুর রহমান

তারা মিথ্যারোপ করছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করছে। প্রত্যেক কাজ যথাসময়ে স্থিরীকৃত হয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে, আর প্রত্যেক ব্যাপারই লক্ষ্যে পৌঁছিবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা অস্বীকার করে এবং নিজ নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। অথচ প্রতিটি বিষয় (শেষ সীমায়) স্থির হবে।আল-বায়ান

তারা সত্যকে অস্বীকার করে, আর নিজেদের কামনা বাসনার অনুসরণ করে। প্রতিটি বিষয়েরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে (সময় আসলেই বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে)।তাইসিরুল

আর তারা প্রত্যাখ্যান করে এবং তারা তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করে, অথচ প্রত্যেক বিষয়েরই নিস্পত্তি হয়েই গেছে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ কিয়ামত বিশ্বাস না করার যে সিদ্ধান্ত তারা নিয়ে রেখেছে এ নিদর্শন দেখার পরও তারা সেটিকেই আঁকড়ে ধরে আছে। কিয়ামতকে বিশ্বাস করা যেহেতু তাদের প্রবৃত্তির আকাংখার পরিপন্থী ছিল, তাই সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখার পরও এরা তা মেনে নিতে রাজী হয়নি।

এর অর্থ মুহাম্মাদ ﷺ তোমাদের ন্যায় ও সত্যের দিকে আহবান জানাতে থাকবেন আর তোমরা হঠকারীতা করে নিজেদের বাতিল মত ও পথের ওপর অবিচল থাকবে, এ অবস্থা অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত চলতে পারে না। তাঁর ন্যায় ও সত্যপন্থী হওয়া এবং তোমাদের বাতিল পন্থী হওয়া কখনো প্রমাণিত হবে না, তা হতে পারে না। সব কিছুই শেষ পর্যন্ত একটা পরিণতি লাভ করে। অনুরূপভাবে তোমাদের ও মুহাম্মাদ ﷺ এর মধ্যে যে দ্বন্দ্ব সংঘাত চলছে তারও একটি অনিবার্য পরিণাম আছে। তাকে অবশ্যই সে পরিণাম লাভ করতে হবে। এমন একটি সময় অবশ্যই আসবে যখন প্রকাশ্যে প্রমাণিত হবে যে, তিনি ন্যায় ও সত্যের পথে ছিলেন আর তোমরা বাতিলের অনুসরণ করেছিলে। অনুরূপভাবে যারা ন্যায় ও সত্যপন্থী, তারা ন্যায় ও সত্যপন্থা অনুসরণের এবং যারা বাতিল পন্থী, তারা বাতিল পন্থা অনুসরণের ফলও একদিন অবশ্যই লাভ করবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ প্রতিটি কাজেরই একটা পরিণাম থাকে। সুতরাং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা-কিছু বলছেন এবং যা-কিছু বলছে কাফেরগণ, তার পরিণাম শীঘ্রই জানা যাবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. আর তারা মিথ্যারোপ করে এবং নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, অথচ প্রতিটি বিষয়ই শেষ লক্ষ্যে পৌছবে।(১)

(১) استقرار এর শাব্দিক অর্থ স্থির হওয়া। অর্থাৎ যারা ন্যায় ও সত্যপন্থী, তারা ন্যায় ও সত্যপন্থা অনুসরণের এবং যারা বাতিল পন্থী, তারা বাতিল পন্থা অনুসরণের ফল একদিন অবশ্যই লাভ করবে। তাছাড়া যে সমস্ত নির্দেশ সংঘটিত হবার তা অবশ্যই ঘটবে এটাকে কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না। যারা আল্লাহর নির্দেশ মানবে তারা জান্নাতে যাওয়া যেমন অবশ্যম্ভাবী তেমনি যারা মিথ্যাচার করবে এবং অমান্য করবে: তাদের শাস্তিও অবধারিত। (কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩) তারা মিথ্যা মনে করে এবং নিজ খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে, আর প্রত্যেক কাজের জন্য একটি স্থিরীকৃত সময় রয়েছে। (1)

(1) এটা মক্কার কাফেরদের মিথ্যা ভাবার ও প্রবৃত্তির অনুসরণ করার কথা খন্ডন ও বাতিল করার জন্য বলা হচ্ছে যে, প্রতিটি কাজের একটি শেষ পরিণতি আছে। তাতে সে কাজ ভাল হোক বা মন্দ। অর্থাৎ, পরিশেষে তার একটি ফল বের হবে। ভাল কাজের ফল ভাল হবে এবং মন্দ কাজের ফল মন্দ হবে। সেই ফলের বিকাশ দুনিয়াতেও হতে পারে; যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয়। অন্যথা পরকালে তো অবশ্যই হবে।