وَءَامِنُواْ بِمَآ أَنزَلۡتُ مُصَدِّقٗا لِّمَا مَعَكُمۡ وَلَا تَكُونُوٓاْ أَوَّلَ كَافِرِۭ بِهِۦۖ وَلَا تَشۡتَرُواْ بِـَٔايَٰتِي ثَمَنٗا قَلِيلٗا وَإِيَّـٰيَ فَٱتَّقُونِ

ওয়াআ-মিনূবিমা আনঝালতুমুসাদ্দিকালিল মা- মা‘আকুম ওয়ালা-তাকূনূ আওওয়ালা ক-ফিরিম বিহী ওয়ালা-তাশতারূবিআ-য়া-তী ছামানান কালীলাওঁ ওয়াইয়্যা-ইয়া ফাত্তাকূন।উচ্চারণ

আর আমি যে কিতাব পাঠিয়েছি তার ওপর ঈমান আন। তোমাদের কাছে আগে থেকেই যে কিতাব ছিল এটি তার সত্যতা সমর্থনকারী। কাজেই সবার আগে তোমরাই এর অস্বীকারকারী হয়ো না। সামান্য দামে আমার আয়াত বিক্রি করো না। ৫৭ আমার গযব থেকে আত্মরক্ষা করো। তাফহীমুল কুরআন

আর আমি যে বাণী নাযিল করেছি তাতে ঈমান আন, যখন তা তোমাদের কাছে যে কিতাব (তাওরাত) আছে, তার সমর্থকও বটে। আর তোমরাই এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। আর আমার আয়াতসমূহকে তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করো না। আর তোমাদের অন্তরে (অন্য কারও নয়) কেবল আমারই ভয়কে স্থিত কর। #%৪১%#মুফতী তাকী উসমানী

এবং আমি যা অবতীর্ণ করেছি তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, ইহা (কুরআন) তোমাদের কাছে যা আছে উহারই সত্যতা প্রনয়নকারী এবং এতে তোমরাই প্রথম অবিশ্বাসী হয়োনা এবং আমার নিদর্শনাবলীর পরিবর্তে সামান্য মূল্য গ্রহণ করনা এবং তোমরা বরং আমাকেই ভয় কর।মুজিবুর রহমান

আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি যা অবতীর্ণ করেছি তোমরা তাতে ঈমান আন। এটা তোমাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী। আর তোমরাই তার প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়ো না এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ কর না। তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তোমাদের সাথে যা আছে তার সত্যায়নকারীস্বরূপ আমি যা নাযিল করেছি তার প্রতি তোমরা ঈমান আন এবং তোমরা তা প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। আর তোমরা আমার আয়াতসমূহ সামান্যমূল্যে বিক্রি করো না এবং কেবল আমাকেই ভয় কর।আল-বায়ান

আর তোমরা ঈমান আন সেই কিতাবের প্রতি, যা তোমাদের নিকট আছে তার প্রত্যয়নকারী এবং তোমরাই তার প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়ো না এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না, তোমরা কেবল আমাকেই ভয় কর।তাইসিরুল

আর আমি যা অবতারণ করেছি তাতে তোমরা ঈমান আনো, -- তোমাদের কাছে যা রয়েছে তার সত্য-সমর্থনরূপে, এমতাবস্থায় তোমরা এতে অবিশ্বাসকারীদের পুরোভাগে থেকো না, আর আমার প্রত্যাদেশের বিনিময়ে তুচ্ছ বস্তু কামাতে যেও না, আর আমাকে, শুধু আমাকে, তোমরা ভয়-শ্রদ্ধা করবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৭

‘সামান্য দাম’ বলে দুনিয়ার স্বার্থ ও লাভের কথা বুঝানো হয়েছে। এর বিনিময়ে মানুষ আল্লাহর বিধান প্রত্যাখ্যান করছিল। সত্যকে বিক্রি করে তার বিনিময়ে সারা দুনিয়ার ধন-সম্পদ হাসিল করলেও তা আসলে সামান্য দামই গণ্য হবে। কারণ সত্য নিঃসন্দেহে তার চেয়ে অনেক বেশী মূল্যবান।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বনী ইসরাঈলকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাওরাত ও ইনজীলের যে দাওয়াত ছিল কুরআন মাজীদ সেই দাওয়াত নিয়েই এসেছে এবং তারা যে আসমানী কিতাবের প্রতি বিশ্বাস রাখে কুরআন মাজীদ তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন তো করেই না; বরং দু’ভাবে তার সমর্থন করে থাকে। এক তো এভাবে যে, কুরআন মাজীদ স্বীকার করে, এসব কিতাব আল্লাহ তাআলারই নাযিল করা (পরবর্তীকালের লোকে যে নানাভাবে তাতে রদবদল করেছে, সেটা আলাদা কথা। কুরআন মাজীদ সে রদবদলের প্রকৃতিও স্পষ্ট করে দিয়েছে)। দ্বিতীয়ত তাতে শেষ নবীর আগমন সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, কুরআন মাজীদ তার সত্যতা প্রমাণ করেছে। এর তো দাবী ছিল বনী ইসরাঈল আরব পৌত্তলিকদের আগেই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে। কিন্তু হল তার বিপরীত। আরব পৌত্তলিকগণ যেমন দ্রুতগতিতে ইসলাম গ্রহণ করছে, ইয়াহুদীরা ইসলামের প্রতি তেমন গতিসম্পন্ন হচ্ছে না। এভাবে যেন তারা কুরআন মাজীদকে অস্বীকার করার ব্যাপারেই অগ্রগামী থাকছে। এ কারণেই বলা হয়েছে, তোমরাই এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। কতক ইয়াহুদীর নীতি ছিল আম-সাধারণের থেকে উৎকোচ নিয়ে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী তাওরাতের ব্যাখ্যা করা, কখনও তাওরাতের বিধান গোপন করা। তাদের এই দুর্নীতির প্রতি ইশারা করে বলা হয়েছে, ‘আমার আয়াতসমূহকে তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করো না, সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং সত্য গোপন করো না।’

তাফসীরে জাকারিয়া

৪১. আর আমি যা নাযিল করেছি তোমরা তাতে ঈমান আন। এটা তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যতা প্রমাণকারী। আর তোমরাই এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না এবং আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না(১)। আর তোমরা শুধু আমারই তাকওয়া অবলম্বন কর।

১. আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহের বিনিময়ে মূল্য গ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো, মানুষের মর্জি ও স্বার্থের বিনিময়ে আয়াতসমূহের মর্ম বিকৃত বা ভুলভাবে প্রকাশ করে তা গোপন রেখে টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ গ্রহণ করা। এ কাজটি সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৪১। তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারীরূপে আমি যা অবতীর্ণ করেছি তা বিশ্বাস কর। আর তোমরাই ওর (1) প্রথম অবিশ্বাসকারী হয়ো না এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে স্বল্প মূল্য (2) গ্রহণ করো না। তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।

(1) بِه (ওর) সর্বনাম দ্বারা ক্বুরআনকে বুঝানো হয়েছে অথবা মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে। আর উভয় মতই সঠিক। কেননা, দু'টিই আপোসে অবিচ্ছেদ্য। যে ক্বুরআনের সাথে কুফরী করল, সে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সাথেও কুফরী করল। আর যে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সাথে কুফরী করল, সে ক্বুরআনের সাথেও কুফরী করল। (ইবনে কাসীর) "প্রথম অবিশ্বাসকারী হয়ো না" এর অর্থ, প্রথমতঃ তোমাদের যে জ্ঞান রয়েছে, অন্যরা সে জ্ঞান থেকে বঞ্চিত। কাজেই তোমাদের দায়িত্ব সর্বাধিক। দ্বিতীয়তঃ মদীনায় ইয়াহুদীদেরকেই সর্বপ্রথম ঈমানের প্রতি আহবান জানানো হয়েছিল; যদিও হিজরতের পূর্বে অনেক মানুষ ইসলাম কবুল করে নিয়েছিল। তাই সতর্ক করা হচ্ছে যে, ইয়াহুদীদের মধ্যে তোমরা প্রথম অবিশ্বাসকারী হয়ো না। কারণ, যদি তোমরা তা হও, তাহলে সমস্ত ইয়াহুদীদের কুফরী ও অবিশ্বাস করার (পাপের) বোঝা তোমাদের উপর চাপব

(2) "আমার আয়াতের বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করো না" এর অর্থ এই নয় যে, বেশী মূল্য পেলে ইলাহী বিধানের বিনিময়ে তা গ্রহণ করো। বরং অর্থ হল, ইলাহী বিধানসমূহের মোকাবেলায় পার্থিব সবার্থকে কোন প্রকার গুরুত্ব দিও না। আল্লাহর বিধানসমূহের মূল্য এত বেশী যে, দুনিয়ার বিষয়-সম্পদ এর মোকাবেলায় খুবই তুচ্ছ; কিছুই না। উক্ত আয়াতে বানী-ইসরাঈলকে সম্বোধন করা হলেও এই নির্দেশ কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের জন্য। যে ব্যক্তি সত্যকে বাতিল, বাতিলকে প্রতিষ্ঠা অথবা জ্ঞানকে গোপন করার কাজে জড়িত হবে এবং কেবল পার্থিব স্বার্থের খাতিরে সত্য-প্রতিষ্ঠা করা ত্যাগ করবে, সেও এই ধমকের অন্তর্ভুক্ত। (ফাতহুল ক্বাদীর)