وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُواْ عَذَابٗا دُونَ ذَٰلِكَ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَهُمۡ لَا يَعۡلَمُونَ

ওয়া ইন্না লিল্লাযীনা জালামূ‘আযা-বান দূনা যা-লিকা ওয়ালা-কিন্না আকছারহুম লাইয়া‘লামূন।উচ্চারণ

আর সেদিনটি আসার আগেও জালেমদের জন্য একটা আযাব আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না। ৩৭ তাফহীমুল কুরআন

তার পূর্বেও এ জালেমদের জন্য এক শাস্তি আছে। #%১৪%# কিন্তু তাদের অধিকাংশেই তা জানে না।মুফতী তাকী উসমানী

এ ছাড়াও আরও শাস্তি রয়েছে যালিমদের জন্য। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানেনা।মুজিবুর রহমান

গোনাহগারদের জন্যে এছাড়া আরও শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটা ছাড়া আরও শাস্তি রয়েছে জালিমদের জন্যে। কিন্তু এদের অধিকাংশই তা জানে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় যারা যুলম করবে তাদের জন্য থাকবে এছাড়া আরো আযাব; কিন্তু তাদের বেশীরভাগই জানে না।আল-বায়ান

যালিমদের জন্য এছাড়া আরো ‘আযাব রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।তাইসিরুল

আর যারা অন্যায়াচার করেছে তাদের জন্য এ ছাড়া আরো শাস্তি রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই জানে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৭

এটি সূরা আস সাজদার ২১ আয়াতের বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তি। সেখানে বলা হয়েছে “সেই বড় আযাবের পূর্বে আমি দুনিয়াতেই তাদেরকে কোন না কোন ছোট আযাবের স্বাদ ভোগ করাতে থাকবো। হয়তো এরা তাদের বিদ্রোহাত্মক আচরণ থেকে বিরত হবে।” অর্থাৎ দুনিয়াতে মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত ও জাতিগত পর্যায়ে আযাব নাযিল করে আমি তাদের একথা স্মরণ করিয়ে দিতে থাকবো যে, ওপরে কোন এক উচ্চতর শক্তি তাদের ভাগ্যের ফায়সালা করছে। তাঁর ফায়সালা পরিবর্তন করার শক্তি কেউ রাখে না। তবে যারা জাহেলিয়াতের মধ্যে ডুবে আছে তারা এ ঘটনাবলী থেকে পূর্বেও কোন শিক্ষা গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও কখনো করবে না। দুনিয়াতে যেসব বিপর্যয় আসে তারা তার অর্থ বুঝে না। তাই তারা এসব বিপর্যয়ের এমন এমন সব ব্যাখ্যা করে যা তাদেরকে সত্য উপলব্ধি করা থেকে আরো দূরে নিয়ে যায়। নিজেদের নাস্তিকতা বা শিরকের ত্রুটি ধরা পড়ে তাদের মেধা ও মস্তিষ্ক এমন ব্যাখ্যার দিকে কখনো আকৃষ্ট হয় না। একটি হাদীসে রসূলুল্লাহ ﷺ এ বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ

إِنَّ الْمُنَافِقَ إِذَا مَرِضَ ثُمَّ أُعْفِىَ كَانَ كَالْبَعِيرِ عَقَلَهُ أَهْلُهُ ثُمَّ أَرْسَلُوهُ فَلَمْ يَدْرِ لِمَ عَقَلُوهُ وَلَمْ يَدْرِ لِمَ أَرْسَلُوهُ (ابو داؤد , كتاب الجنائز)

“মুনাফিক যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে যখন সুস্থ হয়ে যায় তখন তার অবস্থা হয় সেই উটের মত যাকে তার মালিক বেঁধে রাখলো কিন্তু সে বুঝলো না তাকে কেন বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং তারপর আবার যখন খুলে দিল তখনও সে কিছু বুঝলো না তাকে কেন ছেড়ে দেয়া হলো।” (আরো ব্যাখ্যার দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আল আম্বিয়া, টীকা ৪৫; আন নামল, টীকা ৬৬; আল আনকাবূত, টীকা ৭২ ও ৭৩)।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ আখেরাতে জাহান্নামের যে শাস্তি আছে, তার আগে এ দুনিয়াতেই কাফেরদেরকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। সুতরাং তাদের অনেককেই বদরের যুদ্ধে নিহত হতে হয়েছে। আর শেষ পর্যন্ত তো আরব উপদ্বীপের কোথাও তাদের কোন আশ্রয়স্থল থাকেনি।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৭. আর নিশ্চয় যারা যুলুম করেছে তাদের জন্য রয়েছে এছাড়া আরো শাস্তি। কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৭) অবশ্যই এ ছাড়া আরো শাস্তি রয়েছে সীমালংঘনকারীদের জন্য।(1) কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।(2)

(1) অর্থাৎ, পৃথিবীতে। যেমন অন্যত্র বলেছেন, {وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَى دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} (সূরা সাজদাহ ২১নং আয়াত)

(2) এ কথা জানে না যে, পৃথিবীর এই শাস্তি ও বিপদাপদ কেবল এই জন্য যে, যাতে করে মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। কিন্তু এই রহস্য বুঝতে না পারার কারণে তারা পাপসমূহ থেকে তাওবা করে না। বরং কখনো কখনো পূর্বের চাইতে আরো বেশী পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ে।