মা-ক-নাল্লা-হু লিইয়াযারল মু’মিনীনা ‘আলা-মাআনতুম ‘আলাইহি হাত্তা-ইয়ামীঝাল খাবীছা মিনাত্তাইয়িবি ওয়ামা-ক-নাল্লা-হু লিইউতলি‘আকুম ‘আলাল গাইবি ওয়ালাকিনাল্লা-হা ইয়াজতাবী মিররুছুলিহী মাইঁ ইয়াশাউ ফাআ-মিনূবিল্লা-হি ওয়ারুছুলিহী ওয়া ইন তু’মিনূওয়া তাত্তাকূফালাকুম আজরুন ‘আজীম।উচ্চারণ
তোমরা বর্তমানে যে অবস্থায় আছো আল্লাহ মুমিনদের কখনো সেই অবস্থায় থাকতে দেবেন না। ১২৫ পাক–পবিত্র লোকেদেরকে তিনি নাপাক ও অপবিত্র লোকদের থেকে আলাদা করেই ছাড়বেন। কিন্তু তোমাদেরকে গায়েবের খবর জানিয়ে দেয়া আল্লাহর রীতি নয়। ১২৬ গায়েবের খবর জানাবার জন্য তিনি নিজের রসূলদের মধ্য থেকে যাকে চান বাছাই করে নেন। কাজেই (গায়েবের ব্যাপারে) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান রাখো। যদি তোমরা ঈমান ও আল্লাহকে ভয় করার নীতি অবলম্বন করো তাহলে বিরাট প্রতিদান পাবে। তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহ এরূপ করতে পারেন না যে, তোমরা (এখন) যে অবস্থায় আছো মুমিনদেরকে সে অবস্থায়ই রেখে দেবেন, যতক্ষণ না তিনি পবিত্র হতে অপবিত্রকে পৃথক করে দেন এবং (অপর দিকে) তিনি এরূপও করতে পারেন না যে, তোমাদেরকে (সরাসরি) গায়বের বিষয় জানিয়ে দেবেন। হাঁ, তিনি (যতটুকু জানানো দরকার মনে করেন, তার জন্য) নিজ নবীগণের মধ্য হতে যাকে চান বেছে নেন। #%৭৮%# সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা বিশ্বাস রাখ ও তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে মহা প্রতিদানের উপযুক্ত হবে।মুফতী তাকী উসমানী
সৎকে অসৎ (মুনাফিক) হতে পৃথক না করা পর্যন্ত আল্লাহ মু’মিনদেরকে, তারা যে অবস্থায় আছে ঐ অবস্থায় রেখে দিতে পারেননা, আর গাইবের খবরও তাদেরকে অবহিত করবেননা, তবে তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা গ্রহণ করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ও তাঁর রাসূলকে বিশ্বাস কর। এবং যদি বিশ্বাস কর ও ভাল ‘আমল কর তাহলে তোমাদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।মুজিবুর রহমান
নাপাককে পাক থেকে পৃথক করে দেয়া পর্যন্ত আল্লাহ এমন নন যে, ঈমানদারগণকে সে অবস্থাতেই রাখবেন যাতে তোমরা রয়েছ, আর আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদিগকে গায়বের সংবাদ দেবেন। কিন্তু আল্লাহ স্বীয় রসূল গণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহর ওপর এবং তাঁর রসূলগণের ওপর তোমরা প্রত্যয় স্থাপন কর। বস্তুতঃ তোমরা যদি বিশ্বাস ও পরহেযগারীর ওপর প্রতিষ্ঠিত থেকে থাক, তবে তোমাদের জন্যে রয়েছে বিরাট প্রতিদান।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অসৎকে সৎ হতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় আছ আল্লাহ্ মু’মিনগণকে সেই অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না। অদৃশ্য সম্পর্কে তোমাদেরকে আল্লাহ্ অবহিত করার নন ; তবে আল্লাহ্ তাঁর রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আন। তোমরা ঈমান আনলে ও তাক্ওয়া অবলম্বন করে চলিলে তোমাদের জন্যে মহাপুরস্কার রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ এমন নন যে, তিনি মুমিনদেরকে (এমন অবস্থায়) ছেড়ে দেবেন যার উপর তোমরা আছ। যতক্ষণ না তিনি পৃথক করবেন অপবিত্রকে পবিত্র থেকে। আর আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তোমাদেরকে গায়েব সম্পর্কে জানাবেন। তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলদের মধ্য থেকে যাকে চান বেছে নেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন। আর যদি তোমরা ঈমান আন এবং তাকওয়া অবলম্বন কর তবে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপ্রতিদান।আল-বায়ান
অসৎকে সৎ থেকে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় আছ, আল্লাহ মু’মিনদেরকে সে অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না এবং আল্লাহ তোমাদেরকে গায়িবের বিধান জ্ঞাত করেন না, তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছে বেছে নেন, কাজেই তোমরা আল্লাহ এবং তাঁর রসূলগণের প্রতি ঈমান আন। যদি তোমরা ঈমান আন আর তাকওয়া অবলম্বন কর, তাহলে তোমাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার।তাইসিরুল
তোমরা যে অবস্থায় আছ সে অবস্থায় আল্লাহ্ কোনোক্রমেই বিশ্বাসীদের ফেলে রাখবেন না, যে পর্যন্ত না তিনি ভালোদের থেকে মন্দদের পৃথক করেন। আর আল্লাহ্ অদৃশ্য সন্বন্ধে তোমাদের কাছে গোচরীভূত করবেন না, তবে আল্লাহ্ তাঁর রসূলদের মধ্যে থেকে যাঁকে ইচ্ছা করেন নির্বাচিত করেন। অতএব আল্লাহ্তে ও তাঁর রসূলগণে ঈমান আনো। আর যদি তোমরা বিশ্বাস করো ও ভয়শ্রদ্ধা করো তবে তোমাদের জন্য রয়েছে বিরাট পুরস্কার।মাওলানা জহুরুল হক
১২৫
অর্থাৎ মুসলমানদের দলে সাচ্চা ঈমানদার ও মুনাফিকরা এক সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে, মুসলমানদের দলকে আল্লাহ এভাবে দেখতে চান না।
১২৬
অর্থাৎ আল্লাহ কখনো মু’মিন ও মুনাফিকের পার্থক্য সুস্পষ্ট করার জন্য গায়েব থেকে মুসলমানদের মনের অবস্থা বর্ণনা করে কে মু’মিন ও কে মুনাফিক একথা বলার রীতি অবলম্বন করেন না। বরং তাঁর নির্দেশে এমন সব পরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হবে যার মাধ্যমে মু’মিন ও মুনাফিকের অবস্থা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।
১৭৬ নং আয়াত থেকে ১৭৮ নং আয়াত পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, কাফিরগণ আল্লাহ তাআলার অপ্রিয় হলে দুনিয়ায় তারা আরাম-আয়েশের জীবন লাভ করে কেন? উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, আখিরাতে যেহেতু তাদের কোনও অংশ নাই, তাই দুনিয়ায় তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে তারা আরও বেশি গুনাহ কামাই করে এবং তারা তাই করছে। একটা সময় আসবে, যখন তাদেরকে একত্র করে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে। ১৭৯ নং আয়াতে এর বিপরীতে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, মুসলিমগণ আল্লাহ তাআলার প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তাদের উপর এত বিপদ কেন? তার এক উত্তর এ আয়াতে এই দেওয়া হয়েছে যে, মুসলিমদের জন্য এটা পরীক্ষা। এ পরীক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্য ঈমানের দাবীতে কে খাঁটি এবং কে ভেজাল এটা পরিষ্কার করে দেওয়া! আল্লাহ তাআলা এটা পরিষ্কার না করা পর্যন্ত মুসলিমদেরকে আপন অবস্থায় রেখে দিতে পারেন না। বস্তুত কে ঈমানে অটল থাকে আর কে টলে যায়, তার পরিচয় বিপদের সময়ই পাওয়া যায়। এর উপর প্রশ্ন হতে পারত যে, আল্লাহ মুসলিমদেরকে বিপদে ফেলা ছাড়াই কেন এ বিষয়টি জানিয়ে দেন না? এর উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা গায়বের বিষয় প্রত্যেককে জানান না। বরং যতটুকু জানাতে চান তা নিজ নবীকে জানিয়ে দেন। তাঁর হিকমতের দাবি হচ্ছে, মুসলিমগণ মুনাফিকদের দুষ্কর্ম নিজেদের চোখে দেখে নিক ও তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিক। সে কারণেই এসব বিপদ-আপদ আসে। এর আরও তাৎপর্য সামনে ১৮৫ ও ১৮৬ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
১৭৯. অসৎকে সৎ থেকে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় রয়েছ আল্লাহ্ মুমিনগণকে সে অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না অনুরূপভাবে গায়েব সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করা আল্লাহর নিয়ম নয়; তবে আল্লাহ তার রাসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন।(১) কাজেই তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলগণের উপর ঈমান আন। তোমরা ঈমান আনলে ও তাকওয়া অবলম্বন করে চললে তোমাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে।
(১) অর্থাৎ সাধারণ মানুষকে গায়েবী বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ তা'আলা প্রদান করেন না। কিন্তু নবী-রাসূলদের যাকে ইচ্ছা আল্লাহ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে কিছু কিছু গায়েবী বিষয়ের জ্ঞান দান করেন। যাতে তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে প্রচার করতে সমর্থ হন। যেমন, মুনাফিকদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা তার রাসূলকে কিছু কিছু গায়েবী জ্ঞান দান করেছিলেন এবং তাদের ব্যাপারে সাবধান করেছিলেন। (আল-মুইয়াসসার) সুতরাং তোমাদের কাজ হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনয়ন করা। গায়েবী সংবাদ জানার জন্য বসে থাকা তোমাদের কাজ নয়। যদি প্রকৃত ঈমান ও তাকওয়া তোমাদের অর্জিত হয়, তবে এতেই তোমাদের সাফল্য রয়েছে।
(১৭৯) অপবিত্র (মুনাফিক)কে পবিত্র (মু’মিন) হতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় রয়েছ, আল্লাহ সে অবস্থায় বিশ্বাসিগণকে ছেড়ে দিতে পারেন না। (1) অদৃশ্য সম্পর্কে তোমাদের অবহিত করা আল্লাহর (নিয়ম) নয়।(2) অবশ্য (তার জন্য) আল্লাহ তাঁর রসূলগণের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন।(3) সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে বিশ্বাস কর। বস্তুতঃ তোমরা বিশ্বাস করলে ও সাবধান (পরহেযগার) হয়ে চললে, তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।
(1) এই জন্যই মহান আল্লাহ পরীক্ষার কষ্টিপাথরে ঘষে নেন, যাতে তাঁর প্রকৃত বন্ধু কে তা পরিষ্কার হয়ে যায় এবং তাঁর শত্রু লাঞ্ছিত হয়। আর ধৈর্যশীল মু’মিন মুনাফিক থেকে পৃথক হয়ে যায়। যেমন আল্লাহ তাআলা উহুদের দিন ঈমানদারদেরকে পরীক্ষা করেছিলেন। সেদিন ঈমানদারগণ তাঁদের ঈমান, ধৈর্য, সুদৃঢ়তা এবং আনুগত্যের চরম উদ্দীপনার প্রকৃষ্ট প্রমাণ পেশ করেছিলেন এবং মুনাফিকরা নিজেদেরকে মুনাফিক্বীর যে পর্দা দিয়ে ঢেকে রেখেছিল, সে পর্দা উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল।
(2) অর্থাৎ, মহান আল্লাহ যদি এইভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষদের অবস্থাসমূহ এবং তাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ব্যাপারসমূহকে প্রকাশ না করে দেন, তাহলে তোমাদের নিকট তো এমন কোন গায়বী জ্ঞান নেই, যার দ্বারা তোমাদের নিকট এই জিনিসগুলো প্রকাশ হয়ে যাবে এবং তোমরা জানতে পারবে যে, মুনাফিক কে এবং খাঁটি মু’মিন কে?
(3) অবশ্য মহান আল্লাহ তাঁর মনোনীত রসূলগণের মধ্য থেকে যাঁকে চান, তাঁকে অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞাত করেন। ফলে তাঁদের নিকট মুনাফিকদের যাবতীয় অবস্থা এবং তাদের সমূহ চক্রান্তের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়ে যায়। অর্থাৎ, তা কখনো কখনো কোন কোন নবীর জন্য প্রকাশ করা হয়। সাধারণতঃ প্রত্যেক নবী (যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা না চান) মুনাফিকদের আভ্যন্তরিক মুনাফিক্বী এবং তাদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অনভিজ্ঞই থাকেন। (যেমন, সূরা তাওবার ১০১নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘‘আর কিছু কিছু তোমার আশে-পাশের মুনাফিক এবং কিছু লোক মদীনাবাসী কঠোর মুনাফিক্বীতে অনড়। তুমি তাদেরকে জান না, আমি তাদেরকে জানি।) এর অর্থ এও হতে পারে যে, আমি অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে কেবল আমার রসূলগণকেই অবহিত করি। কারণ, তাঁদের (নবুঅতী) পদের জন্য এটা জরুরী। এই আল্লাহর অহী এবং অদৃশ্য বিষয় দ্বারা তাঁরা মানুষদেরকে আল্লাহর প্রতি আহবান করেন এবং নিজেদেরকে আল্লাহর রসূল বলে সাব্যস্ত করেন। এই বিষয়টাকে অন্যত্র এইভাবে বলা হয়েছে, (عَالِمُ الْغَيْبِ فَلا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا، إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَسُولٍ) ‘‘তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। পরন্তু তিনি অদৃশ্য বিষয় কারোও কাছে প্রকাশ করেন না। তাঁর মনোনীত রসূল ব্যতীত।’’ (সূরা জিনঃ ২৬-২৭) প্রকাশ থাকে যে, অদৃশ্য বিষয় বলতে সেগুলোকে বোঝানো হয়েছে, যা রিসালাতের পদ এবং তার দায়িত্ব পালনের সাথে সম্পর্কিত। তা অতীত ঘটিত এবং ভবিষ্যতে কিয়ামত পর্যন্ত ঘটিতব্য বিষয়ের জ্ঞান নয়। যেমন, অনেক বাতিলপন্থী মনে করে ও করায় যে, আম্বিয়া (আলাইহিমুস্ সালাম) এবং তাদের কিছু ‘নিষ্পাপ’ ইমামরা নাকি অদৃশ্যের জ্ঞান রাখতেন।