إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ يُخَوِّفُ أَوۡلِيَآءَهُۥ فَلَا تَخَافُوهُمۡ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ

ইন্নামা-যা-লিকুমুশশাইতা-নুইউখাওবিফুআওলিয়াআহু ফালা-তাখা-ফূহুম ওয়া খা-ফূনি ইন কুনতুম মু’মিনীন।উচ্চারণ

এখন তোমরা জেনে ফেলেছো, সে আসলে শয়তান ছিল, তার বন্ধুদের অনর্থক ভয় দেখাচ্ছিলো। কাজেই আগামীতে তোমরা মানুষকে ভয় করো না, আমাকে ভয় করো, যদি তোমরা যথার্থ ঈমানদার হয়ে থাকো। ১২৪ তাফহীমুল কুরআন

প্রকৃতপক্ষে সে তো শয়তান, যে তার বন্ধুদের সম্পর্কে ভয় দেখায়। সুতরাং তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাক, তবে তাদেরকে ভয় করো না। বরং কেবল আমাকেই ভয় কর।মুফতী তাকী উসমানী

নিশ্চয়ই শাইতান শুধুমাত্র তার অলী হতে তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন করে; কিন্তু যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তাহলে তাদেরকে ভয় করনা; এবং আমাকেই ভয় কর।মুজিবুর রহমান

এরা যে রয়েছে, এরাই হলে শয়তান, এরা নিজেদের বন্ধুদের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে। সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। আর তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তবে আমাকে ভয় কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরাই শয়তান, তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায় ; সুতরাং যদি তোমরা মু’মিন হও তবে তোমরা তাদেরকে ভয় কর না, আমাকেই ভয় কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তো শয়তান। সে তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় কর, যদি তোমরা মুমিন হও।আল-বায়ান

এ লোকেরা হচ্ছে শয়ত্বান; তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়, তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর, যদি তোমরা মু’মিন হও।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ তোমাদের সেই শয়তানই ভয় দেখায় তার বন্ধুবান্ধবকে, কিন্তু তোমরা তাদের ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় করো, -- যদি তোমরা ঈমানদার হও।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২৪

ওহোদ থেকে ফেরার পথে আবু সুফিয়ান মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে গিয়েছিল, আগামী বছর বদর প্রান্তরে আমাদের সাথে তোমাদের আবার মোকাবিলা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় এগিয়ে এলে আর তার সাহসে কুলালো না। কারণ সে বছর মক্কায় দুর্ভীক্ষ চলছিল। তাই সে মান বাঁচাবার জন্য একটি কৌশল অবলম্বন করলো। গোপনে এক ব্যক্তিকে মদীনায় পাঠিয়ে দিল। সে মদীনায় পৌঁছে মুসলমানদের মধ্যে এ খবর ছড়াতে লাগলো যে, এ বছর কুরাইশরা বিরাট প্রস্তুতি নিয়েছে। তারা এত বড় সেনাবাহিনী তৈরী করছে যার মোকাবিলা করার সাধ্য আরবের কারো নেই। তার উদ্দেশ্য ছিল, এ প্রচারণায় ভীত হয়ে মুসলমানরা নিজেদের জায়গায় বসে থাকবে। মোকাবিলা করার জন্য বাইরে আসার সাহস তাদের হবে না। ফলে যুদ্ধক্ষেত্র না আসার দায় থেকে কাফেররা মুক্ত হয়ে যাবে। আবু সুফিয়ানের এ চালবাজি মুসলমানদের এমনভাবে প্রভাবিত করলো যে, নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তাদের বদরের দিকে চলার আহবান জানালেন তখন তাতে আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া গেলো না। অবশেষে আল্লাহর রসূল ভরা মজলিসে ঘোষণা করে দিলেন, কেউ না গেলে আমি একাই যাবো। এ ঘোষণার পর পনের’শ প্রাণ উৎসর্গকারী মুজাহিদ তাঁর সাথে যাবার জন্য প্রস্তুত হলো। তাদের সাথে করে নিয়ে তিনি বদরে হাযির হলেন। ওদিকে আবু সুফিয়ান দু’হাজার সৈন্য নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকলো। কিন্তু দু’দিনের পথ অতিক্রম করার পর সে তার সাথীদের বললো, এ বছর যুদ্ধ করা সঙ্গত হবে না। আগামী বছর আমরা আসবো। কাজেই নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে সে ফিরে গেলো। নবী ﷺ আট দিন পর্যন্ত বদর প্রান্তরে তার অপেক্ষা করলেন। এ সময়ের মধ্যে তাঁর সাথীরা একটি ব্যবসায়ী কাফেলার সাথে কাজ-কারবার করে প্রচুর অর্থলাভ করলেন। তারপর যখন খবর পাওয়া গেলো, কাফেররা ফিরে গেছে তখন তিনি সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মদীনায় ফিরে এলেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭৫. সে(১) তো শয়তান। সে তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়; কাজেই যদি তোমরা মুমিন হও তবে তাদেরকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় কর।

(১) এখানে ‘সে’ বলতে তাকে বোঝানো হয়েছে, যে ব্যক্তি মুমিনদের কাছে এসে বলেছিল যে, তোমাদের বিরুদ্ধে মানুষ জড়ো হয়েছে কাজেই তোমরা তাদের ভয় করো। তারা ছিল বনী আব্দুল কায়েসের কিছু লোক। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৭৫) ঐ (বক্তা) তো শয়তান; যে (তোমাদেরকে) তার (কাফের) বন্ধুদের ভয় দেখায়; (1) সুতরাং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তাহলে তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর। (2)

(1) অর্থাৎ, তোমাদের মনের মধ্যে এই কল্পনা ও ধারণা সৃষ্টি করে যে, তারা বড়ই সুদৃঢ় ও অতীব শক্তিশালী।

(2) অর্থাৎ, যখন সে তোমাদের মধ্যে এই ধরনের ধারণায় পতিত করবে, তখন তোমরা কেবল আমারই উপর ভরসা রাখবে এবং আমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। আমিই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হব এবং তোমাদের সাহায্য করব। যেমন অন্যত্র তিনি বলেছেন, (أَلَيْسَ اللهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ) ‘‘আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?’’ (সূরা যুমার ৩৬ আয়াত) তিনি আরো বলেন, (كَتَبَ اللهُ لَاَغْلِبَنَّ اَنَا وَرُسُلِيْ) অর্থাৎ, আল্লাহ সিদ্ধান্ত করেছেন, আমি এবং আমার রসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব। (সূরা মুজাদালাহ ২১) এ বিষয়ে এ ছাড়া আরো বহু আয়াত রয়েছে।