নাহনুআ‘আলামুবিমা-ইয়াকূলূনা ওয়ামাআনতা ‘আলাইহিম বিজাব্বা-রিন ফাযাক্কির বিলকুরআ-নি মাইঁ ইয়াখা-ফুওয়া‘ঈদ।উচ্চারণ
হে নবী! ওরা যেসব কথা বলে, তা আমি ভালো করেই জানি, ৫৫ বস্তুত তাদের কাছ থেকে বলপ্রয়োগে আনুগত্য আদায় করা তোমার কাজ নয়। কাজেই তুমি এ কুরআন দ্বারা আমার হুশিয়ারীকে যারা ডরায়, তাদেরকে তুমি উপদেশ দাও। ৫৬ তাফহীমুল কুরআন
তারা যা-কিছু বলছে আমি তা ভালোভাবেই জানি এবং (হে রাসূল!) তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও। #%২৩%# আমার সতর্কবাণীকে ভয় করে এমন প্রত্যেককে তুমি কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দিতে থাক।মুফতী তাকী উসমানী
তারা যা বলে তা আমি জানি, তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও। সুতরাং যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে উপদেশ দান কর কুরআনের সাহায্যে।মুজিবুর রহমান
তারা যা বলে, তা আমি সম্যক অবগত আছি। আপনি তাদের উপর জোরজবরকারী নন। অতএব, যে আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কোরআনের মাধ্যমে উপদেশ দান করুন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা যা বলে তা আমি জানি, তুমি এদের ওপর জবরদস্তিকারী নও, সুতরাং যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে উপদেশ দান কর কুরআনের সাহায্যে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এরা যা বলে আমি তা সবচেয়ে ভাল জানি। আর তুমি তাদের উপর কোন জোর- জবরদস্তিকারী নও। সুতরাং যে আমার ধমককে ভয় করে তাকে কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও।আল-বায়ান
তারা (তোমার বিরুদ্ধে) যা বলে তা আমি ভাল করেই জানি, তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও। কাজেই যে আমার শাস্তির ভয়প্রদর্শনকে ভয় করে, তাকে তুমি কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও।তাইসিরুল
ওরা যা বলে আমরা তা ভাল জানি, আর তুমি তাদের উপরে জবরদস্তি করার লোক নও। অতএব তুমি কুরআন নিয়ে স্মরণ করিয়ে চলো তার প্রতি যে আমার প্রতিশ্রুতিকে ভয় করে।মাওলানা জহুরুল হক
৫৫
এ আয়াতাংশে যুগপৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সান্ত্বনা এবং কাফেরদের জন্য হুমকি বিদ্যমান। নবীকে ﷺ উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে যে, এসব লোক তোমার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা রটনা করছে মোটেই তার পরোয়া করো না। আমি সবকিছু জানি। তাদের সাথে বুঝা পড়া করা আমার কাজ। কাফেরদের হুঁশিয়ার করে দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা আমার নবীর বিরুদ্ধে যেসব বিদ্রূপাত্মক উক্তি করছো সেজন্য তোমাদেরকে অনেক মূল্য দিতে হবে। আমি নিজে প্রতিটি কথা শুনেছি। তোমাদেরকে তার মাশুল দিতে হবে।
৫৬
এর অর্থ এ নয় যে, নবী ﷺ জোর করে নিজের কথা মানুষকে মানাতে চাইতেন কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তা থেকে তাঁকে বিরত রেখেছেন। প্রকৃতপক্ষে নবীকে ﷺ সম্বোধন করে কাফেরদের একথা শুনানো হচ্ছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে, তোমাদের কাছে আমার নবীকে শক্তি প্রয়োগকারী করে পাঠানো হয়নি। তোমাদেরকে জোর করে মু’মিন বানানো তার কাজ নয়, তোমরা মানতে না চাইলেও তিনি তোমাদেরকে তা মানতে বাধ্য করবেন। তাঁর দায়িত্ব কেবল এতটুকু যে, সাবধান করে দিলে যারা সতর্ক হয়ে যাবে তিনি তাদেরকে কুরআন শুনিয়ে প্রকৃত সত্য বুঝিয়ে দেবেন। এরপরও যদি তোমরা না মানো তাহলে নবী তোমাদের সাথে বুঝাপড়া করবেন না, বরং আমি নিজে তোমাদের সাথে বুঝাপড়া করবো।
[নানাভাবে বোঝানো সত্ত্বেও কাফেরগণ তাঁর ডাকে সাড়া না দেওয়ায়, উপরন্তু তাঁর ও কুরআন সম্পর্কে বিভিন্ন রকম অশোভন উক্তি করায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মনে বড় ব্যথা ছিল এবং এত কিছুর পরও তারা যেন ঈমান আনে, সেজন্য তার অন্তরে অবর্ণনীয় জ্বালা ছিল।] তাই এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সান্তনা দিচ্ছেন যে, জবরদস্তিমূলকভাবে মানুষকে ঈমান আনতে বাধ্য করা আপনার দায়িত্ব নয়। আপনার কাজ কেবল তাদের কাছে উপদেশ বাণী পৌঁছিয়ে দেওয়া। যার অন্তরে কিছুটা হলেও আল্লাহর ভয় থাকবে, সে আপনার কথা মেনে নেবে। আর যে মানবে না তার ব্যাপারে আপনার কোন দায়-দায়িত্ব নেই। [এ ধরনের লোকে যে সব মন্তব্য করছে আমার তা জানা আছে। আমি সময় মত তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব]।
৪৫. তারা যা বলে তা আমরা ভাল জানি, আর আপনি তাদের উপর জবরদস্তি কারী নন, কাজেই যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে উপদেশ দান করুন কুরআনের সাহায্যে।
(৪৫) তারা যা বলে, তা আমি খুব জানি, তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও;(1) সুতরাং যে আমার শাস্তির প্রতিশ্রুতিকে ভয় করে, তাকে কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দান কর। (2)
(1) অর্থাৎ, তোমার এ দায়িত্ব নয় যে, তাদেরকে ঈমান আনতে বাধ্য করবে। বরং তোমার কাজ কেবল দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। অতএব, এ কাজ করতে থাক।
(2) অর্থাৎ, নবী করীম (সাঃ)-এর দাওয়াত ও উপদেশ থেকে কেবল সে-ই নসীহত গ্রহণ করবে, যে আল্লাহকে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে ও তাঁর দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রাখে। এই জন্যই ক্বাতাদা (রঃ) এই দু’আটি পাঠ করতেন, (اَللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِمَّنْ يَخَافُ وَعِيْدَكَ، وَيَرْجُوْ مَوْعُوْدَكَ، يَا بَارُّ يَا رَحِيْمُ) ‘‘হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর, যারা তোমার শাস্তিকে ভয় করে এবং তোমার প্রতিশ্রুত বস্তুর আশা রাখে। হে অনুগ্রহকারী, হে দয়াময়!’’