يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُقَدِّمُواْ بَيۡنَ يَدَيِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তুকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাইল্লা-হি ওয়া রছূলিহী ওয়াত্তাকুল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা ছামী‘উন ‘আলীম।উচ্চারণ

হে মু’মিনগণ! আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের চেয়ে অগ্রগামী হয়ো না। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ‌ সবকিছু শোনেন ও জানেন। তাফহীমুল কুরআন

হে মুমিনগণ! (কোনও বিষয়ে) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের থেকে আগ বেড়ে যেও না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু জানেন।মুফতী তাকী উসমানী

হে মু’মিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রনী হয়োনা এবং আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।মুজিবুর রহমান

মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মু’মিনগণ ! আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহ্কে ভয় কর ; আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।আল-বায়ান

ওহে মু’মিনগণ! তোমরা (কোন বিষয়েই) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আগে বেড়ে যেয়ো না, আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।তাইসিরুল

ওহে যারা ঈমান এনেছ! আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের সামনে তোমরা আগবাড়বে না, আর আল্লাহ্‌কে ভয়ভক্তি করো। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এটা ঈমানের প্রাথমিক ও মৌলিক দাবী। যে ব্যক্তি আল্লাহকে তার রব এবং আল্লাহর রসূলকে তার হিদায়াত ও পথপ্রদর্শনকারী মানে সে যদি তার এ বিশ্বাসে সত্যবাদী হয়ে থাকে তাহলে সে নিজের মতামত ও ধ্যান-ধারণাকে কখনো আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সিদ্ধান্তের চেয়ে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, কিংবা বিভিন্ন ব্যাপারে স্বাধীন মতামত পোষণ করতে পারে না এবং ঐ সব ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না বরং আল্লাহ ও তাঁর রসূল ঐ সব ব্যাপারে কোন হিদায়াত বা দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কিনা এবং দিয়ে থাকলে কি দিয়েছেন সে বিষয়ে আগে জানার চেষ্টা করবে। কোন মু’মিনের আচরণে এর ব্যতিক্রম কখনো হতে পারে না। এজন্য আল্লাহ বলছেন, “হে ঈমানদাররা, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অগ্রগামী হয়ো না।” অর্থাৎ তাঁর আগে আগে চলবে না, পেছনে পেছনে চলো। তাঁর আনুগত হয়ে থাকো। এ বাণীতে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তা সূরা আহযাবের ৩৬ আয়াতের নির্দেশ থেকে একটু কঠোর। সেখানে বলা হয়েছিলো, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যে বিষয়ে ফায়সালা করে দিয়েছেন সে বিষয়ে আলাদা কোন ফায়সালা করার ইখতিয়ার কোন ঈমানদারের জন্য আর অবশিষ্ট থাকে না। আর এখানে বলা হয়েছে ঈমানদারদের নিজেদের বিভিন্ন ব্যাপারে আপনা থেকেই অগ্রগামী হয়ে ফায়সালা না করা উচিত। বরং প্রথমে দেখা উচিত ঐ সব ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রসূলের সুন্নাতে কি কি নির্দেশনা রয়েছে।

এ নির্দেশটি শুধু মুসলমানদের ব্যক্তিগত ব্যাপারসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের সমস্ত সামাজিক ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। প্রকৃতপক্ষে এটি ইসলামী আইনের মৌলিক দফা। মুসলমানদের সরকার, বিচারালয় এবং পার্লামেন্ট কোন কিছুই এ আইন থেকে মুক্ত নয়। মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজায় সহীহ সনদে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে যে, যে সময় নবী ﷺ হযরত মু’আয ইবনে জাবালকে ইয়ামানের বিচারক করে পাঠাচ্ছিলেন তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কিসের ভিত্তিতে ফায়সালা করবে? তিনি জবাব দিলেনঃ “আল্লাহর কিতাব অনুসারে।” নবী (সা.) বললেনঃ যদি কোন বিষয়ে কিতাবুল্লাহর মধ্যে হুকুম না পাওয়া যায় তাহলে কোন জিনিসের সাহায্য নেবে? তিনি জবাব দিলেন, আল্লাহর রসূলের সুন্নাতের সাহায্য নেব। তিনি বললেনঃ যদি সেখানেও কিছু না পাও? তিনি বললেনঃ তাহলে আমি নিজে ইজতিহাদ করবো। একথা শুনে নবী (সা.) তার বুকের ওপর হাত রেখে বললেনঃ সে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করছি যিনি তাঁর রসূলের প্রতিনিধিকে এমন পন্থা অবলম্বন করার তাওফীক দান করেছেন যা তাঁর রসূলের কাছে পছন্দনীয়। নিজের ইজতিহাদের চেয়ে আল্লাহর কিতাব ও রসূলের সুন্নাতকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং হিদায়াত লাভের জন্য সর্বপ্রথম এ দু’টি উৎসের দিকে ফিরে যাওয়াই এমন একটা জিনিস যা একজন মুসলিম বিচারক এবং একজন অমুসলিম বিচারকের মধ্যকার মূল পার্থক্য তুলে ধরে। অনুরূপ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আল্লাহর কিতাবই যে সর্বপ্রথম উৎস এবং তারপরই যে রসূলের সুন্নাত-এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত। ব্যক্তির কিয়াস ও ইজতিহাদ তো দূরের কথা গোটা উম্মতের ইজমাও এ দু’টি উৎসের পরিপন্থী কিংবা তা থেকে স্বাধীন হতে পারে না।

অর্থাৎ যদি তোমরা কখনো আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য থেকে মুক্ত হয়ে স্বেচ্ছাচারী হওয়ার নীতি গ্রহণ করো কিংবা নিজের মতামত ও ধ্যান-ধারণাকে তাঁদের নির্দেশের চেয়ে অগ্রাধিকার দান করো তাহলে জেনে রাখো তোমাদের বুঝাপড়া হবে সেই আল্লাহর সাথে যিনি তোমাদের সব কথা শুনছেন এবং মনের অভিপ্রায় পর্যন্ত অবগত আছেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সূরার প্রথম পাঁচটি আয়াত এক বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আরবের বিভিন্ন গোত্র থেকে প্রতিনিধি দল আসত। তিনি প্রতিটি প্রতিনিধি দলের একজনকে ভবিষ্যতের জন্য তাদের গোত্রের আমীর বানিয়ে দিতেন। একবার তাঁর কাছে তামীম গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল আসল। তাদের মধ্যে কাকে গোত্রের আমীর বানানো হবে সে সম্পর্কে কোন কথা শুরু না হতেই বা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সম্বন্ধে পরামর্শ চাওয়ার আগেই হযরত আবু বকর সিদ্দীক ও হযরত উমর (রাযি.) নিজেদের পক্ষ হতে প্রস্তাবনা শুরু করে দিলেন। হযরত আবু বকর (রাযি.) এক ব্যক্তির নাম নিয়ে বললেন, তাকে আমীর বানানো হবে আর হযরত উমর (রাযি.) অন্য এক ব্যক্তির পক্ষে রায় দিলেন। তারপর উভয়ে আপন-আপন প্রস্তাবের সপক্ষে এভাবে যুক্তি-তর্ক শুরু করে দিলেন যে, তা কিছুটা বাক-বিতণ্ডার রূপ নিয়ে নিল এবং তাতে উভয়ের আওয়াজও চড়া হয়ে গেল। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম তিন আয়াত নাযিল হয়। প্রথম আয়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, যেসব বিষয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই কোন সিদ্ধান্ত নেবেন, সেসব বিষয়ে তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত পরামর্শ না চান, ততক্ষণ পর্যন্ত নীরবতা অবলম্বন জরুরী। যদি নিজেরা আগে বেড়ে কোন রায় স্থির করে নেওয়া হয় এবং তার পক্ষে যুক্তি-তর্কের অবতারণা বা তা মানানোর জন্য পীড়াপীড়ি করা হয়, তবে তা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে আদবের খেলাফ কাজ হবে। যদিও প্রথম আয়াতটি এই বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে, কিন্তু এতে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সাধারণ, যাতে এটা সকলের জন্য একটা মূলনীতি হয়ে যায়। মূলনীতিটির সারকথা হল, কোনও বিষয়েই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আগে বেড়ে যাওয়া কোন মুসলিমের জন্য জায়েয নয়। এমনকি তার সঙ্গে যখন একত্রে চলাফেরা করা হবে, তখনও তার সামনে সামনে হাঁটা যাবে না। তাছাড়া জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি যে সীমারেখা স্থির করে দিয়েছেন তা অতিক্রম করার চেষ্টাও তার সঙ্গে বেয়াদবীর শামিল। কাজেই তা থেকেও বিরত থাকতে হবে। অতঃপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় আয়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে বসা থাকাকালে নিজ কণ্ঠস্বরকে তাঁর কণ্ঠস্বর অপেক্ষা উঁচু করা উচিত নয় এবং তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলতে হলে তাও উঁচু আওয়াজে বলা ঠিক নয়; বরং তাঁর মজলিসে নিজ কণ্ঠস্বর নিচু রাখার চেষ্টা করতে হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. হে ঈমানদারগণ(১) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সমক্ষে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না আর তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

(১) আলোচ্য আয়াতসমূহ নাযিল হওয়ার ঘটনা এই যে, একবার বনী তামীম গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়। এই গোত্রের শাসনকর্তা কাকে নিযুক্ত করা হবে তখন এ বিষয়েই আলোচনা চলছিল। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাকা’ ইবন মা'বাদ ইবন যুরারাহর নাম প্রস্তাব করলেন এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু আকরা’ ইবন হাবিসের নাম প্রস্তাব করলেন এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মধ্যে মজলিসেই কথাবার্তা হলো এবং ব্যাপারটি শেষ পর্যন্ত কথা কাটাকাটিতে উন্নীত হয়ে উভয়ের কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে গেল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াতসমূহ নাযিল হয় ৷ (বুখারী: ৪৮৪৭)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১) হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সামনে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না(1) এবং আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

(1) এর অর্থ হলো, দ্বীনের ব্যাপারে নিজে থেকে কোন ফায়সালা করো না (কোন সিদ্ধান্ত নিয়ো না, কোন ফতোয়া দিয়ো না)। এবং স্বীয় বিবেক-বুদ্ধিকে তার উপর প্রাধান্য দিয়ো না। বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর। নিজের পক্ষ থেকে দ্বীনের সাথে কোন কিছু সংযোজন বা বিদআত রচনা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে অতিক্রম করার এমন দুঃসাহসিকতা, যা কোন ঈমানদারের জন্য শোভনীয় নয়। অনুরূপ কুরআন ও হাদীস নিয়ে যথাযথ গবেষণা ও চিন্তা-ভাবনা না করে কোন ফতোয়া দেওয়া যাবে না এবং ফতোয়া দেওয়ার পর যদি এ কথা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তা শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধির প্রতিকূল, তবে তার উপর অটল থাকাও এই আয়াতে বর্ণিত নির্দেশের পরিপন্থী। মু’মিনের কর্তব্যই হল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশাবলীর সামনে আনুগত্যের মস্তক নত করে দেওয়া। নিজের কথা অথবা কোন ইমামের মতের উপর অনড় থাকা তার কর্তব্য নয়।