لَّيۡسَ عَلَى ٱلۡأَعۡمَىٰ حَرَجٞ وَلَا عَلَى ٱلۡأَعۡرَجِ حَرَجٞ وَلَا عَلَى ٱلۡمَرِيضِ حَرَجٞۗ وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ يُدۡخِلۡهُ جَنَّـٰتٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُۖ وَمَن يَتَوَلَّ يُعَذِّبۡهُ عَذَابًا أَلِيمٗا

লাইছা ‘আলাল ‘আমা-হারজূওঁ ওয়ালা-‘আলাল আ‘রজি হারজূওঁ ওয়ালা-‘আলাল মারীদিহারজূও ওয়া মাইঁ ইউতি‘ইল্লা-হা ওয়া রছূলাহূইউদখিলহু জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লা ইউ’আযযিবহু ‘আযা-বান আলীমা-।উচ্চারণ

যদি অন্ধ, পংগু ও রোগাক্রান্ত লোক জিহাদে না আসে তাহলে কোন দোষ নেই। ৩১ যে কেউ আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ‌ তাকে সেসব জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যেসবের নিম্নদেশে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহমান থাকবে। আর যে মুখ ফিরিয়ে থাকবে আল্লাহ‌ তাকে মর্মান্তিক আযাব দেবেন। তাফহীমুল কুরআন

(যুদ্ধ না করাতে) অন্ধের জন্য কোন গুনাহ নেই, খোঁড়া ব্যক্তির জন্য কোন গুনাহ নেই এবং রুগ্ণ ব্যক্তির জন্যও কোন গুনাহ নেই। যে-কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবহমান থাকবে নহর। আর যে-কেউ মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাকে যন্ত্রণাময় শাস্তি দেবেন।মুফতী তাকী উসমানী

অন্ধের জন্য, খঞ্জের জন্য, রুগ্নের জন্য কোনো অপরাধ নেই। এবং যে কেহ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে আল্লাহ তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত; কিন্তু যে ব্যক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে তিনি তাকে বেদনাদায়ক শাস্তি দিবেন।মুজিবুর রহমান

অন্ধের জন্যে, খঞ্জের জন্যে ও রুগ্নের জন্যে কোন অপরাধ নাই এবং যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুগত্য করবে তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অন্ধের জন্যে কোন অপরাধ নেই, খঞ্জের জন্যে কোন অপরাধ নেই এবং পীড়িতের জন্যে কোন অপরাধ নেই; এবং যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে আল্লাহ্ তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত ; কিন্তু যে ব্যক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে তিনি তাকে মর্মন্তুদ শাস্তি দিবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অন্ধের কোন অপরাধ নেই, লেংড়ার কোন অপরাধ নেই, অসুস্থের কোন অপরাধ নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে তিনি তাকে এমন জান্নাতে দাখিল করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। আর যে ব্যক্তি পিছনে ফিরে যাবে তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেবেন।আল-বায়ান

অন্ধের উপর কোন দোষ নেই, খোঁড়ার উপর কোন দোষ নেই, রোগীর উপর কোন দোষ নেই। আর যে কেউই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করবেন, যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। আর যে ব্যক্তি পিঠ ফিরিয়ে নিবে, তিনি তাকে কষ্টদায়ক শাস্তি দিবেন।তাইসিরুল

অন্ধের জন্য কোনো অপরাধ নেই, আর খোঁড়ার জন্যেও কোনো অপরাধ নেই, আর রোগীর জন্যেও কোনো দোষ নেই। আর যে কেউ আল্লাহ্‌র ও তাঁর রসূলের আজ্ঞাপালন করে তাদের তিনি প্রবেশ করাবেন বাগানসমূহে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, কিন্তু যে কেউ ফিরে যায় তিনি তাকে শায়েস্তা করবেন মর্মন্তুদ শাস্তিতে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩১

অর্থাৎ জিহাদে অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির সামনে প্রকৃতই কোন ওজর প্রতিবন্ধক হবে তার কোন দোষ নেই। কিন্তু সুঠাম ও সবলদেহী মানুষ যদি ছল-ছুতার ভিত্তিতে বিরত থাকে তাহলে তাকে আল্লাহ‌ ও তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে নিষ্ঠাবান বলে স্বীকার করা যায় না। তাকে এ সুযোগও দেয়া যায় না যে, সে মুসলিম সমাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে, কিন্তু যখন ইসলামের জন্য কুরবানী পেশ করার সময় আসবে তখন নিজের জান ও মালের নিরাপত্তার চিন্তায় বিভোর হবে।

এখানে জেনে নেয়া দরকার যে, শরীয়াতে যাদেরকে জিহাদে অংশ গ্রহণ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে তারা দু’ধরনের মানুষ। এক, যারা দৈহিকভাবে যুদ্ধের উপযুক্ত নয়। যেমন অপ্রাপ্ত বয়স্ক, বালক, নারী, পাগল, অন্ধ, সামরিক সেবা দিতে অক্ষম এমন রোগগ্রস্ত লোক এবং হাত পা অকেজো হওয়ার কারণে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অক্ষম ব্যক্তিরা। দুই, অন্য কিছু যুক্তিসঙ্গত কারণে যাদের পক্ষে জিহাদে অংশ গ্রহণ কঠিন। যেমন: ক্রীতদাস, কিংবা এমন লোক যারা যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত, কিন্তু যুদ্ধাস্ত্র এবং অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ সংগ্রহ করতে অক্ষম। অথবা এমন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, অতি সত্বর যার ঋণ পরিশোধ করা দরকার এবং ঋণদাতা যাকে অবকাশ দিচ্ছে না। অথবা এমন ব্যক্তি যার পিতা-মাতা বা তাদের কোন একজন জীবিত আছে এবং তারা তার সেবা-যত্নের মুখাপেক্ষী। এক্ষেত্রে এ বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেয়া প্রয়োজন যে, পিতা-মাতা যদি মুসলমান হয় তাহলে তাদের অনুমতি ছাড়া সন্তানের জিহাদে যাওয়া উচিত নয়। তবে তারা যদি কাফের হয়, তাহলে তাদের বাধা দেয়ায় কারো জিহাদ থেকে বিরত থাকা জায়েজ নয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭. অন্ধের কোন অপরাধ নেই, খঞ্জের কোন অপরাধ নেই এবং পীড়িতেরও কোন অপরাধ নেই; এবং যে কেউ আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার নিচে নহরসমূহ প্রবাহিত; কিন্তু যে ব্যক্তি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৭) অন্ধের জন্য, খোঁড়ার জন্য, রোগীর জন্য কোন অপরাধ নেই।(1) আর যে কেউই আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাঁকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে; যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত; কিন্তু যে ব্যক্তি পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করবে, তিনি তাকে বেদনায়ক শাস্তি দেবেন।

(1) অন্ধ ও খোঁড়া হওয়ার কারণে চলাফেরা করতে অক্ষমতা এ দু’টো চিরস্থায়ী ওজর। এই ওজর-ওয়ালা ব্যক্তিদের অথবা এই ধরনের অক্ষম মানুষদেরকে জিহাদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। حَرَج (অপরাধ) এর অর্থ পাপ। এরা ছাড়া রোগীরাও সাময়িকভাবে অক্ষম। যতক্ষণ পর্যন্ত সে (রোগী) প্রকৃতপক্ষে রোগী থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেও জিহাদ থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। অতঃপর রোগ বা অসুস্থতা দূর হওয়ার সাথে সাথে সেও অন্য মুসলিমদের সাথে জিহাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হবে।