লিইউদখিলাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-তি জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খালিদীনা ফীহা-ওয়া ইউকাফফির ‘আনহুম ছাইয়িআ-তিহিম ওয়া ক-না যা-লিকা ‘ইনদাল্লা-হি ফাওঝান ‘আজীমা-।উচ্চারণ
(এ কাজ তিনি এ জন্য করেছেন) যাতে ঈমানদার নারী ও পুরুষদেরকে ৯ চিরদিন অবস্থানের জন্য এমন জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেন যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারাসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে এবং তাদের মন্দ কর্মসমূহ দূর করবেন। ১০ এটা আল্লাহর কাছে বড় সফলতা। তাফহীমুল কুরআন
যাতে তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে দাখিল করেন এমন উদ্যানে, যার তলদেশে প্রবহমান রয়েছে নহর, যেখানে তারা সর্বদা থাকবে এবং যাতে তাদের থেকে মিটিয়ে দেন তাদের মন্দসমূহ। আল্লাহর কাছে এটাই মহাসাফল্য।মুফতী তাকী উসমানী
এটা এ জন্য যে, তিনি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন মহিলাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং তিনি তাদের পাপ মোচন করবেন; এটাই আল্লাহর দৃষ্টিতে মহা সাফল্য।মুজিবুর রহমান
ঈমান এজন্যে বেড়ে যায়, যাতে তিনি ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেথায় তারা চিরকাল বসবাস করবে এবং যাতে তিনি তাদের পাপ মোচন করেন। এটাই আল্লাহর কাছে মহাসাফল্য।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এটা এজন্যে যে, তিনি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং তিনি তাদের পাপ মোচন করবেন ; এটাই আল্লাহ্ র দৃষ্টিতে মহাসাফল্য।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যেন তিনি মুমিন নারী ও পুরুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর তিনি তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন; আর এটি ছিল আল্লাহর নিকট এক মহাসাফল্য।আল-বায়ান
(তিনি এ কাজ করেন এজন্য) যাতে তিনি মু’মিন পুরুষ ও মু’মিনা নারীকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করেন যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। তিনি তাদের পাপ মোচন করে দিবেন। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই বিরাট সাফল্য।তাইসিরুল
যেন তিনি মুমিন পুরুষদের ও মুমিন নারীদের প্রবেশ করাতে পারেন জান্নাতে যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি, তারা সে- সবে অবস্থান করবে, আর তিনি তাদের থকে তাদের দোষত্রুটি মোচন করবেন। আর এটি আল্লাহ্র কাছে এক মহাসাফল্য, --মাওলানা জহুরুল হক
৯
কুরআন মজীদে সাধারণত ঈমানদারদের পুরস্কারের উল্লেখ সামষ্টিকভাবে করা হয়ে থাকে। নারীও পুরুষের কথা স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয় না। কিন্তু এখানে একত্রে উল্লেখ করলে যেহেতু এরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে পারতো যে, এ পুরস্কার হয়তো শুধু পুরুষদের জন্যই। তাই আল্লাহ তা’আলা মু’মিন নারীদের সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তারাও মু’মিন পুরুষদের সাথে এ পুরস্কারে সমভাবে অংশীদার। এর কারণ স্পষ্ট। যেসব দ্বীনদার ও আল্লাহভীরু মহিলা তাদের স্বামী, পুত্র, ভাই ও পিতাকে এ বিপজ্জনক সফরে যেতে বাধা দেয়া এবং মাতম ও বিলাপ করে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে সাহস যুগিয়েছেন, যারা তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের বাড়ীঘর ও সন্তান-সন্তুতি, তাদের সহায়-সম্পদ, তাদের সম্ভ্রম এবং তাদের সন্তানদের সংরক্ষক হয়ে এ ব্যাপারে তাদেরকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রেখেছেন। একযোগ চৌদ্দশ সাহাবীর চলে যাওয়ার পর আশেপাশের কাফের ও মুনাফিকরা শহরের ওপর আক্রমণ করে না বসে এ আশঙ্কায় যারা কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে দেয়নি তারা বাড়ীতে অবস্থান করা সত্ত্বেও সওয়াব ও পুরস্কারের ক্ষেত্রে তারা যে তাদের পুরুষদের সাথে সমান অংশীদার হবেন-এটাই স্বাভাবিক।
১০
অর্থাৎ মানবিক দূর্বলতার কারণে যে ত্রুটি-বিচ্যুতিই তাদের দ্বারা হয়েছে তা মাফ করে দেবেন, জান্নাতে প্রবেশের পূর্বেই ঐ সব ত্রুটি-বিচ্যুতির সব রকম প্রভাব থেকে তাদের পবিত্র করবেন এবং এমনভাবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে যে, তাদের দেহে কোন কালিমা থাকবে না যার কারণে সেখানে তাদেরকে লজ্জিত হতে হবে।
৫. যাতে তিনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে প্রবেশ করান জান্নাতে, যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং তিনি তাদের পাপসমূহ মোচন করবেন; আর এটাই হলো আল্লাহর নিকট মহাসাফল্য।
(৫) এটা এ জন্য যে, তিনি বিশ্বাসী পুরুষদেরকে ও বিশ্বাসী নারীদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে(1) যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং তিনি তাদের পাপরাশি মোচন করবেন; এটাই আল্লাহর নিকট মহা সাফল্য।
(1) হাদীসে এসেছে যে, মুসলিমরা যখন সূরা ফাত্হের প্রাথমিক অংশ শুনলেন, لِيَغْفِرَ لَكَ اللهُ তখন তাঁরা নবী করীম (সাঃ)-কে বললেন, আপনাকে মুবারকবাদ! আমাদের জন্য কি রয়েছে? এরই ভিত্তিতে আল্লাহ لِيُدْخِلَ الْمُؤْمِنِيْنَ আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন। (বুখারী, হুদাইবিয়া যুদ্ধ পরিচ্ছেদ) কেউ কেউ বলেছেন, এটি لِيَزْدَادُوْا কিংবা يَنْصُرُكَ এর সাথে সম্পৃক্ত।