আওয়ালাম্মা-আসা-বাতকুম মুসীবাতুন কাদ আসাবতুম মিছলাইহা- কুলতুম আন্না-হাযা-কুল হুওয়া মিন ‘ইনদি আনফুছিকুম ইন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইইন কাদীর।উচ্চারণ
তোমাদের ওপর যখন বিপদ এসে পড়লো তোমরা বলতে লাগলে, এ আবার কোথায় থেকে এলো? ১১৫ তোমাদের এ অবস্থা কেন? অথচ (বদরের যুদ্ধে) এর দ্বিগুণ বিপদ তোমাদের মাধ্যমে তোমাদের বিরোধী পক্ষের ওপর পড়েছিল। ১১৬ হে নবী! ওদের বলে দাও, তোমরা নিজেরাই এ বিপদ এনেছো। ১১৭ আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের ওপর শক্তিমান। ১১৮ তাফহীমুল কুরআন
যখন তোমরা এমন এক মসিবতে আক্রান্ত হলে, যার দ্বিগুণ মসিবতে তোমরা (শত্রুদেরকে) আক্রান্ত করেছ, #%৭৩%# তখন কি তোমরা বল যে, এ মসিবত কোথা হতে এসে গেল? বল, এটা তোমাদের নিজেদের থেকেই এসেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।মুফতী তাকী উসমানী
হ্যাঁ, যখন তোমাদের উপর বিপদ উপস্থিত হল, বস্তুতঃ তোমরাও তাদের প্রতি তদনুরূপ দু’বার বিপদ উপস্থিত করেছিলে, তোমরা বলেছিলেঃ এটা কোথা হতে হল? তুমি বলঃ ওটা তোমাদের নিজেদেরই নিকট হতে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়োপরি শক্তিমান।মুজিবুর রহমান
যখন তোমাদের উপর একটি মুসীবত এসে পৌছাল, অথচ তোমরা তার পূর্বেই দ্বিগুণ কষ্টে পৌছে গিয়েছ, তখন কি তোমরা বলবে, এটা কোথা থেকে এল? তাহলে বলে দাও, এ কষ্ট তোমাদের উপর পৌছেছে তোমারই পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাশীল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কী ব্যাপার ! যখন তোমাদের ওপর মুসীবত এলো তখন তোমরা বলিলে, ‘এটা কোথা হতে এলো ?’ অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। বল, ‘এটা তোমাদের নিজেদেরই নিকট হতে’; নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন তোমাদের উপর বিপদ এল, (অথচ) তোমরা তো এর দ্বিগুণ বিপদে আক্রান্ত হলে (বদর যুদ্ধে)। তোমরা বলেছিলে এটা কোত্থেকে? বল, ‘তা তোমাদের নিজদের থেকে’। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।আল-বায়ান
কী ব্যাপার! তোমাদের উপর যখন বিপদ এসেছে অথচ তোমরা তো (বদর যুদ্ধে তোমাদের শত্রুদের) এটা অপেক্ষা দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে, এখন তোমরা বলছ, ‘এটা কোথেকে আসল’? (তাদেরকে) বল, ‘ওটা তোমাদের নিজেদের নিকট থেকেই এসেছে’, নিশ্চয় আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।তাইসিরুল
কি! যখন কোনো দুর্যোগ তোমাদের উপরে ঘটলো, ইতিপূর্বে তোমরা আঘাত করেছিলে এর দ্বিগুণ পরিমাণ, তোমরা বলতে থাকলে -- "এ কোথা থেকে?" বলো -- "এসব তোমাদের নিজেদের থেকে।" নিশ্চয় আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।মাওলানা জহুরুল হক
১১৫
নেতৃস্থানীয় সাহাবীগণ অবশ্যি যথার্থ সত্য অবগত ছিলেন এবং তাঁদের কোনো প্রকার বিভ্রান্তির শিকার হবার সম্ভাবনা ছিল না। তবে সাধারণ মুসলমানরা মনে করছিলেন, আল্লাহর রসূল যখন আমাদের সঙ্গে আছেন এবং আল্লাহ আমাদের সাহায্য ও সহযোগিতা দান করছেন তখন কোন অবস্থাতেই কাফেররা আমাদের ওপর বিজয় লাভ করতে পারে না। তাই ওহোদ পরাজিত হবার পর তারা ভীষণভাবে আশাহত হয়েছেন। তারা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করছেন, এ কি হলো? আমরা আল্লাহর দ্বীনের জন্য লড়তে গিয়েছিলাম। তাঁর প্রতিশ্রুতি ও সাহায্য আমাদের সঙ্গে ছিল। তাঁর রসূল সশরীরে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। এরপরও আমরা হেরে গেলাম? এমন লোকদের হাতে হেরে গেলাম, যারা আল্লাহর দ্বীনকে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্য এসেছিল? মুসলমানদের এই বিস্ময় পেরেশানী ও হতাশা দূর করার জন্য এ আয়াত নাযিল হয়।
১১৬
ওহোদের যুদ্ধে মুসলমানদের সত্তর জন লোক শহীদ হয়। অন্যদিকে ইতিপূর্বে বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে সত্তর জন্য কাফের নিহত এবং সত্তর জন বন্দী হয়েছিল।
১১৭
অর্থাৎ এটা তোমাদের নিজেদের দুর্বলতা ও ভুলের ফসল। তোমরা সবর করোনি। তোমাদের কোন কোন কাজ হয়েছে তাকওয়া বিরোধী। তোমরা নির্দেশ অমান্য করেছো। অর্থ-সম্পদের লোভে আত্মহারা হয়েছো। পরস্পরের মধ্যে বিবাধ ও মতবিরোধ করেছো। এতো সব করার পর আবার জিজ্ঞেস করছো, বিপদ এলো কোথা থেকে?
১১৮
অর্থাৎ আল্লাহ যদি তোমাদের বিজয় দান করার শক্তি রাখেন তাহলে পরাজয় দান করার শক্তিও রাখেন।
বদরের যুদ্ধের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। তাতে কুরাইশ-কাফিরদের সত্তর জন লোক কতল হয়েছিল এবং সত্তর জন বন্দী হয়েছিল। অপর দিকে উহুদের যুদ্ধে মুসলিমদের পক্ষে সত্তর জন শহীদ হয়েছিলেন বটে, কিন্তু তাদের কেউ বন্দী হননি। এ হিসেবে বদরে কাফিরদের ক্ষয়ক্ষতি ছিল উহুদে মুসলিমদের ক্ষয়ক্ষতি অপেক্ষা দ্বিগুণ।
১৬৫. কি ব্যাপার! যখন তোমাদের উপর মুসীবত আসলো (ওহুদের যুদ্ধে) তখন তোমরা বললে, “এটা কোত্থেকে আসলো? অথচ তোমরাতো দ্বিগুণ বিপদ - ঘটিয়েছিলে (বদরের যুদ্ধে)। বলুন, “এটা তোমাদের নিজেদেরই(১) কাছ থেকে(২); নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(১) এক হাদীসে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বদরের ঘটনা বর্ণনার পর উহুদের যুদ্ধের বিপর্যয়ের কারণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, এটার কারণ হলোঃ বদরের যুদ্ধের বন্দীদের থেকে ফিদিয়া নেয়া। (দেখুনঃ মুসনাদে আহমাদঃ ১/২০৭)
(২) সহীহ আকীদা বিশ্বাস হলো, কোন খারাপের সম্পর্ক আল্লাহর দিকে করা জায়েয নেই। আল্লাহ তা'আলার দিকে সব সময় ভাল ফলাফলের সম্পর্ক করতে হয়। খারাপ ফলের বাহ্যিক কারণ সৃষ্ট জীব। খারাপ তাদেরই অর্জন করা। আর এজন্যই সূরা আল-জিনে আল্লাহ্ তা'আলা জিনদের কথা উল্লেখ করে বলছেন যে, তারা বলেছিল “আর আমরা জানিনা যমীনের অধিবাসীদের জন্য খারাপ কিছুর ইচ্ছা করা হয়েছে নাকি তাদের প্রভূ তাদের জন্য সঠিক পথ দেয়ার ইচ্ছা করেছেন।” (সূরা জ্বিনঃ ১০) অন্য হাদীসে এসেছে, আর খারাপ কিছু আপনার থেকে হয় না। (মুসলিমঃ ৭৭১)
(১৬৫) যখন তোমাদের উপর (উহুদের যুদ্ধের বিপদ) এসেছিল, যার দ্বিগুণ বিপদ (বদরের যুদ্ধে) তোমরা তাদের উপর আনয়ন করেছিলে;(1) তখন তোমরা বলেছিলে, এ কোথা থেকে এল? বল, (হে মুহাম্মাদ!) এ তোমাদের নিজেদেরই কাছ থেকে।(2) নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(1) অর্থাৎ, উহুদ যুদ্ধে যেমন তোমাদের ৭০ জন লোক শহীদ হয়েছে, তেমনি বদর যুদ্ধে তোমরাও ৭০ জন কাফেরকে হত্যা এবং ৭০ জনকে বন্দী করেছিলে।
(2) অর্থাৎ, তোমাদের নিজেদেরই সেই ভুলের কারণে যা তোমরা রসূল (সাঃ)-এর পাহাড়ের ঘাঁটি ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তা ত্যাগ করার মাধ্যমে করেছিলে। যার বিস্তারিত আলোচনা পূর্বেই হয়েছে। এই ভুলের কারণে কাফেরদের একটি দল সে ঘাঁটি হয়ে পাল্টা আক্রমণ করার সুযোগ পেয়ে যায়।