ফালাওলা-নাসারহুমুল্লাযীনাত্তাখাযূমিন দূ নিল্লা-হি কুরবা-নান আ-লিহাতান বাল দাললূ ‘আনহুম ওয়া যা-লিকা ইফকুহুম ওয়ামা-ক-নূইয়াফতারূন।উচ্চারণ
কিন্তু আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব সত্তাকে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছিলো ৩২ তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করলো না। বরং তারা তাদের থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলো। এটা ছিল তাদের মিথ্যা এবং মনগড়া আকীদা-বিশ্বাসের পরিণাম, যা তারা গড়ে নিয়েছিলো। তাফহীমুল কুরআন
তারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া যেসব জিনিসকে মাবুদরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদের সাহায্য করল না কেন? বরং তারা সব তাদের থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেল। বস্তুত এটা ছিল তাদের মিথ্যা অপবাদ এবং যা তারা রচনা করেছিল।মুফতী তাকী উসমানী
তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে মা‘বূদ রূপে গ্রহণ করেছিল তারা তাদেরকে সাহায্য করলনা কেন? বস্তুতঃ তাদের মা‘বূদগুলি তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হয়ে পড়ল। তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম এরূপই।মুজিবুর রহমান
অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের জন্যে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেল। এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও মনগড়া বিষয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা আল্লাহ্ র সান্নিধ্য লাভের জন্যে আল্লাহ্ র পরিবর্তে যাদেরকে ইলাহ রূপে গ্রহণ করেছিল তারা এদেরকে সাহায্য করল না কেন ? বস্তুত এদের ইলাহ্গুলি এদের নিকট হতে অন্তর্হিত হয়ে গেল। এদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম এইরূপই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করল না? বরং তারা তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল, আর এটা তাদের মিথ্যাচার এবং তাদের মনগড়া উদ্ভাবন।আল-বায়ান
আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে আল্লাহ ব্যতিরেকে যাদেরকে তারা ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা (অর্থাৎ কল্পিত ইলাহ) তাদের থেকে হারিয়ে গেল। আসলে তা ছিল তাদের মিথ্যাচার আর মনগড়া উদ্ভাবণ।তাইসিরুল
তাহলে আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে যাদের তারা উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল সান্নিধ্য লাভের জন্য তারা কেন তাদের সাহায্য করল না? বস্তুতঃ তারা তাদের থেকে অন্তর্ধান করল, আর এটিই ছিল তাদের মিথ্যা এবং যা তারা উদ্ভাবন করত।মাওলানা জহুরুল হক
৩২
অর্থাৎ তারা এই ধারণার বশবর্তী হয়ে ঐ সব সত্তার সাথে ভক্তি শ্রদ্ধার সূচনা করেছিলো যে, এরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা। এদের অসীলায় আমরা আল্লাহর কাছে পৌঁছতে পারবো। কিন্তু এভাবে অগ্রসর হতে হতে তারা ঐ সব সত্তাকেই উপাস্য বানিয়ে নেয়। সাহায্যের জন্য তাদেরকেই ডাকতে থাকে, তাদের কাছেই প্রার্থনা করতে শুরু করে এবং তাদের সম্পর্কে এ বিশ্বাস পোষণ করতে থাকে যে, তারাই ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মালিক, তাদের সাহায্যের আবেদনে তারাই সাড়া দেবে এবং বিপদ থেকে উদ্ধার তারাই করবে। তাদেরকে এই গোমরাহী থেকে উদ্ধার করার জন্য আল্লাহ রসূলদের মাধ্যমে তাঁর আয়াত সমূহ পাঠিয়ে নানাভাবে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তারা এই মিথ্যা খোদাদের দাসত্ব করতে বদ্ধপরিকর থাকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে এদেরকেই আঁকড়ে ধরে থাকার ব্যাপারে একগুঁয়েমি করতে থাকে। এখন বলো, যখন এই মুশরিক কওমের ওপর তাদের গোমরাহীর কারণে আল্লাহর আযাব আসলো তখন তাদের বিপদ ত্রাণকর্তা ও প্রার্থনা শ্রবণকারী উপাস্যরা কোথায় মরে পড়ে ছিলো? সেই দুর্দিনে তারা তাদেরকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসলো না কেন?
২৮. অতঃপর তারা আল্লাহর সান্নিধ্য যাদেরকে ইলাহরূপে গ্ৰহণ করেছিল। তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তাদের ইলাহগুলো তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেল। আর এটা ছিল তাদের মিথ্যাচার; এবং যা তারা অলীক উদ্ভাবন করছিল।
(২৮) তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বস্তুতঃ তাদের উপাস্যগুলো তাদের নিকট হতে উধাও হয়ে গেল। আর এ হল তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম। (1)
(1) অর্থাৎ, যে উপাস্যগুলোকে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করত, তারা তাদের কোন সাহায্য করল না, বরং তারা সেই মুহূর্তে আসেইনি, তাদের কোন পাত্তাই ছিল না। এ থেকেও জানা গেল যে, মক্কার মুশরিকরা মূর্তিগুলোকে প্রকৃত উপাস্য মনে করত না, বরং তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম ও অসীলা মনে করত। মহান আল্লাহ এই অসীলাগুলোকে ‘ইফক’ (মিথ্যা) এবং ‘ইফতিরা’ (মনগড়া উদ্ভাবন) সাব্যস্ত করে স্পষ্ট করে দিলেন যে, এটা অবৈধ ও হারাম।