۞وَٱذۡكُرۡ أَخَا عَادٍ إِذۡ أَنذَرَ قَوۡمَهُۥ بِٱلۡأَحۡقَافِ وَقَدۡ خَلَتِ ٱلنُّذُرُ مِنۢ بَيۡنِ يَدَيۡهِ وَمِنۡ خَلۡفِهِۦٓ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّا ٱللَّهَ إِنِّيٓ أَخَافُ عَلَيۡكُمۡ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ

ওয়াযকুর আখা-‘আ-দিন ইয আনযার কাওমাহূবিলআহক-ফি ওয়াকাদ খালাতিন্নুযূরু মিম বাইনি ইয়াদাইহি ওয়া মিন খালফিহীআল্লা-তা‘বুদূ ইল্লাল্লা-হা ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।উচ্চারণ

এদেরকে ‘আদের ভাই (হূদ)- এর কাহিনী কিছুটা শুনাও যখন সে আহক্বাফে তার কওমকে সতর্ক করেছিলো। ২৫ -এ ধরনের সতর্ককারী পূর্বেও এসেছিলো এবং তার পরেও এসেছে- যে আল্লাহ ছাড়া আর কারো বন্দেগী করো না। তোমাদের ব্যাপারে আমার এক বড় ভয়ংকর দিনের আযাবের আশঙ্কা আছে। তাফহীমুল কুরআন

এবং আদ জাতির ভাই (হযরত হুদ আলাইহিস সালাম)-এর বৃত্তান্ত উল্লেখ কর, যখন সে তার সম্প্রদায়কে আঁকা-বাঁকা টিলাময় ভূমিতে #%১৫%# সতর্ক করেছিল এবং এ রকম সতর্ককারী গত হয়েছিল তার আগেও এবং তার পরেও (সে তাদেরকে বলেছিল) যে, আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করো না। আমি তোমাদের জন্য ভয় করছি এক মহা দিবসের শাস্তির।মুফতী তাকী উসমানী

স্মরণ কর, ‘আদ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা, যার পূর্বে এবং পরেও সতর্ককারী এসেছিল, সে তার আহকাফবাসী সম্প্রদায়কে বালুকাময় উচ্চ উপত্যকায় সতর্ক করেছিল এই বলেঃ আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদাত করনা। আমি তোমাদের জন্য মহাদিনের শাস্তির আশংকা করছি।মুজিবুর রহমান

আ’দ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা স্মরণ করুন, তার পূর্বে ও পরে অনেক সতর্ককারী গত হয়েছিল সে তার সম্প্রদায়কে বালুকাময় উচ্চ উপত্যকায় এ মর্মে সতর্ক করেছিল যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও এবাদত করো না। আমি তোমাদের জন্যে এক মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, ‘আদ্ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা, যার পূর্বে এবং পরেও সতর্ককারীরা এসেছিল। সে তার আহ্কাফ্বাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল এই বলে, ‘তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত কারও ‘ইবাদত কর না। আমি তো তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করছি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর ‘আ’দ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা, যখন সে আহকাফের স্বীয় সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। আর এমন সতর্ককারীরা তার পূর্বে এবং তার পরেও গত হয়েছে যে, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর এক ভয়াবহ দিনের আযাবের আশঙ্কা করছি’।আল-বায়ান

স্মরণ কর ‘আদ জাতির ভ্রাতার (হূদ) কথা। সে তার আহকাফবাসী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। (এ ধরনের) সতর্ককারীরা তার পূর্বেও এসেছিল আর তার পরেও এসেছিল (যারা বলেছিল) যে, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করো না। আমি তোমাদের উপর এক ভয়াবহ দিনের ‘আযাবের আশঙ্কা করছি।’তাইসিরুল

আর তুমি স্মরণ কর 'আদ-দের ভাইকে। দেখো! তিনি তাঁর স্বজাতিকে সতর্ক করেছিলেন বালুর পাহাড় অঞ্চলে, আর সতর্ককারীরা তো তাঁর আগে ও তাঁর পরে গত হয়েই ছিলেন, এই বলে -- "আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের উপাসনা করো না, আমি নিঃসন্দেহ তোমাদের উপরে এক ভয়ংকর দিনের শাস্তির আশংকা করছি।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৫

যেহেতু কুরাইশ নেতারা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা পোষণ করতো এবং নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও মোড়লিপনার কারণে আনন্দে আত্মহারা ছিল তাই এখানে তাদেরকে আদ কওমের কাহিনী শুনানো হচ্ছে। আরবে আদ জাতি এভাবে পরিচিত ছিল যে, প্রাচীনকালে এই ভূখণ্ডে তারা ছিল সর্বাধিক শক্তিশালী কওম।

حقف শব্দটি اَحْقُافِ শব্দের বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ বালুর এমন সব লম্বা লম্বা টিলা যা উচ্চতায় পাহাড়ের সমান নয়। পারিভাষিক অর্থে এটা আরব মরুভূমির (الرُّبْعُ الخَالِى) দক্ষিণ পশ্চিম অংশের নাম, বর্তমানে যেখানে কোন জনবসতি নেই। পরের পৃষ্ঠায় মানচিত্রে এর অবস্থান দেখুনঃ

ইবনে ইসহাকের বর্ণনা অনুসারে আদ কওমের আবাস ভূমি ওমান থেকে ইয়ামান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আর কুরআন মজীদ আমাদের বলছে, তাদের আদি বাসস্থান ছিল আল-আহক্বায। এখান থেকে বেরিয়ে তারা আশেপাশের দেশসমূহে ছড়িয়ে পড়েছিলো এবং দুর্বল জাতিসমূহকে গ্রাস করে ফেলেছিলো। বর্তমান কাল পর্যন্তও দক্ষিণ আরবের অধিবাসীদের মধ্যে একথা ছড়িয়ে আছে যে, এ এলাকাই ছিল আদ জাতির আবাস ভূমি। বর্তমানে “মুকাল্লা” শহর থেকে উত্তর দিকে ১২৫ মাইল দূরত্বে হাদ্রামাউতের একটি স্থানে লোকেরা হযরত হুদের (আ) মাযার তৈরী করে রেখেছে। সেটি হূদের কবর নামেই বিখ্যাত। প্রতি বছর ১৫ই শা’বান সেখানে ‘উরস’ হয়। আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার লোক সেখানে সমবেত হয়। যদিও ঐতিহাসিকভাবে এ কবরটি হূদের কবর হিসেবে প্রমাণিত নয়। কিন্তু সেখানে তা নির্মাণ করা এবং দক্ষিণ আরবের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া কম করে হলেও এতটুকু অবশ্যই প্রমাণ করে যে, আঞ্চলিক ঐতিহ্য এই এলাকাকেই আদ জাতির এলাকা বলে চিহ্নিত করে। এছাড়া হাদ্রামাউতে এমন কতিপয় ধ্বংসাবশেষ (Ruins) আছে যেগুলোকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় অধিবাসীরা আবাসভূমি বলে আখ্যায়িত করে থাকে।

আহক্বাফ অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা দেখে কেউ কল্পনা করতে পারে না যে, এক সময় এখানে জাঁকালো সভ্যতার অধিকারী একটি শক্তিশালী জাতি বাস করতো। সম্ভবত হাজার হাজার বছর পূর্বে এটা এক উর্বর অঞ্চল ছিল। পরে আবহাওয়ার পরিবর্তন একে মরুভুমিতে পরিণত করেছে। বর্তমানে এই এলাকার একটি বিশাল মরুভূমি, যার আভ্যন্তরীণ এলাকায় যাওয়ার সাহসও কারো নেই। ১৮৪৩ খৃষ্টাব্দে ব্যাভেরিয়ার একজন সৈনিক এর দক্ষিণ প্রান্ত সীমায় পৌঁছেছিলো। তার বক্তব্য হলোঃ যদি হাদ্রামাউতের উত্তরাঞ্চলের উচ্চ ভূমিতে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, তাহলে বিশাল এই মরুপ্রান্তর এক হাজার ফুট নীচুতে দৃষ্টিগোচর হয়। এখানে মাঝে মাঝে এমন সাদা ভূমিখণ্ড যেখানে কোন বস্তু পতিত হলে তা বালুকা রাশির নীচে তলিয়ে যেতে থাকে এবং একেবারে পচে খসে যায়। আরব বেদুইনরা এ অঞ্চলকে ভীষণ ভয় করে এবং কোন কিছুর বিনিময়েই সেখানে যেতে রাজি হয় না। এক পর্যায়ে বেদুইনরা তাকে সেখানে নিয়ে যেতে রাজি না হলে সে একাই সেখানে চলে যায়। তার বর্ণনা অনুসারে এখানকার বালু একেবারে মিহিন পাউডারের মত। সে দূর থেকে তার মধ্যে একটি দোলক নিক্ষেপ করলে ৫ মিনিটের মধ্যেই তা তলিয়ে যায় এবং যে রশির সাথে তা বাধাঁ ছিল তার প্রান্ত গলে যায়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুনঃ

-Arabia and th Isles, Harold Ingram, London, 1946
The unveiling of Arabia. R.H.Kirnan, London, 1937.
The Empty Quarter, Phiby, London, 1933.

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

اَحقاف শব্দটি حِقف-এর বহুবচন, দীর্ঘ বঙ্কিম টিলা শ্রেণীকে اَحقاف বলে। আদ জাতি যে অঞ্চলে বাস করত, সেখানে এ রকমের বহু টিলা ছিল। কারও মতে আহকাফ সেই অঞ্চলটিরই নাম। এটা ইয়ামানে অবস্থিত। বর্তমানে সেখানে কোন লোকবসতি নেই। আদ জাতির কাছে হযরত হুদ আলাইহিস সালামকে নবী করে পাঠানো হয়েছিল। [কিন্তু তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি। ফলে তাদের যে পরিণাম হয়েছিল সেটাই এ আয়াতসমূহে বিবৃত হয়েছে -অনুবাদক]। এ জাতির পরিচয় পূর্বে সূরা আরাফের (৭ : ৬৫) টীকায় গত হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২১. আর স্মরণ করুন, আদ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা, যখন সে আহকাফে(১) স্বীয় সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। যার আগে এবং পরেও সতর্ককারী এসেছিলেন (এ বলে) যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদাত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য মহাদিনের শাস্তির আশংকা করছি।

(১) যেহেতু কুরাইশ নেতারা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা পোষণ করতো এবং নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও মোড়লিপনার কারণে আনন্দে আত্মহারা ছিল তাই এখানে তাদেরকে ‘আদ কাওমের কাহিনী শুনানো হচ্ছে। আরবে ‘আদি জাতি এভাবে পরিচিত ছিল যে, প্রাচীনকালে এই ভূখণ্ডে তারা ছিল সর্বাধিক শক্তিশালী কওম। আয়াতে বর্ণিত أَحْقَافٌ শব্দটি حِقْفٌ শব্দের বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ বালুর এমন সব লম্বা লম্বা টিলা যা উচ্চতায় পাহাড়ের সমান নয়। পারিভাষিক অর্থে এটা আরব মরুভূমির দক্ষিণ পশ্চিম অংশের নাম, বর্তমানে যেখানে কোন জনবসতি নেই। (দেখুন, তাবারী) আহকাফ অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা দেখে কেউ কল্পনাও করতে পারে না যে, এক সময় এখানে জাঁকালো সভ্যতার অধিকারী একটি শক্তিশালী জাতি বাস করতো। সম্ভবত হাজার হাজার বছর পূর্বে এটা এক উর্বর অঞ্চল ছিল। পরে আবহাওয়ার পরিবর্তন একে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। বর্তমানে এটা সৌদী আরবের আর-রুবউল খালীর মরু এলাকায় অবস্থিত। যার আভ্যন্তরীণ এলাকায় যাওয়ার সাহসও কারো নেই।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১) স্মরণ কর, আ’দ সম্প্রদায়ের ভ্রাতার কথা, যার পূর্বে এবং পরেও সতর্ককারী এসেছিল; সে তার সম্প্রদায় আহক্বাফবাসীকে সতর্ক করেছিল(1) এই বলে যে, ‘আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করো না। আমি তোমাদের জন্য মহাদিনের শাস্তির আশংকা করছি।’ (2)

(1) أَحْقَافٌ হল حِقْفٌ এর বহুবচন। বালির উঁচু ও লম্বা পাহাড়। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, পাহাড় ও গুহা। এটা (ইয়ামানের) ‘হাযবরা-মাউত’-এর নিকটস্থ হূদ (আঃ)-এর সম্প্রদায় প্রথম আ’দ-এর এলাকার নাম। মক্কার কাফেরদের মিথ্যা ভাবার কারণে নবী (সাঃ)-এর দগ্ধ হৃদয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বিগত নবীদের ঘটনাবলী উল্লেখ করা হচ্ছে।

(2) يوم عظيم (মহাদিন) বলতে কিয়ামতের দিনকে বুঝানো হয়েছে। যার ভয়াবহতার কারণে তাকে যথার্থভাবেই বিরাট দিন বলা হয়েছে।