ওয়াল্লাযী ক-লা লিওয়া-লিদাইহি উফফিল্লাকুমাআতা‘ইদা-নিনীআন উখরজা ওয়াকাদ খালাতিল কুরূনুমিন কাবলী ওয়া হুমা-ইয়াছতাগীছা-নিল্লা-হা ওয়াইলাকা আ-মিন ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফাইয়াকূলুমা-হা-যাইল্লাআছা-তীরুল আওওয়ালীন।উচ্চারণ
আর যে ব্যক্তি তার পিতা মাতাকে বললো : “আহ! তোমরা বিরক্তির একশেষ করে দিলে। তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাচ্ছো যে, মৃত্যুর পর আমি আবার কবর থেকে উত্তোলিত হবো? আমার পূর্বে তো আরো বহু মানুষ চলে গেছে। (তাদের কেউ তো জীবিত হয়ে ফিরে আসেনি) ।” মা-বাপ আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলেঃ “আরে হতভাগা, বিশ্বাস কর। আল্লাহর ওয়াদা সত্য।” কিন্তু সে বলে, “এসব তো প্রাচীনকালের বস্তাপচা কাহিনী” তাফহীমুল কুরআন
অপর এক ব্যক্তি এমন, যে তার পিতা-মাতাকে বলল, আফসোস তোমাদের প্রতি! তোমরা কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দাও যে, আমাকে জীবিত করে কবর থেকে ওঠানো হবে, অথচ আমার আগে বহু মানবগোষ্ঠী গত হয়েছে? পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে (এবং পুত্রকে বলে,) আফসোস তোর প্রতি! ঈমান আন। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, প্রকৃতপক্ষে এসব পূর্ববর্তীদের থেকে বর্ণিত হয়ে আসা উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।মুফতী তাকী উসমানী
আর এমন লোক আছে, যে তার মাতা-পিতাকে বলেঃ আফসোস তোমাদের জন্য। তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে! তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলেঃ দুর্ভোগ তোমার জন্য! বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য। কিন্তু সে বলেঃ এটাতো অতীত কালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।মুজিবুর রহমান
আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বলে, ধিক তোমাদেরকে, তোমরা কি আমাকে খবর দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব, অথচ আমার পূর্বে বহু লোক গত হয়ে গেছে? আর পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিযাদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর এমন লোক আছে, যে তার মাতা-পিতাকে বলে, ‘আফসোস তোমাদের জন্যে ! তোমরা কি আমাকে এই ভয় দেখেতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব যদিও আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়েছে ?’ তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহ্ র নিকট ফরিয়াদ করে বলে, ‘দুর্ভোগ তোমার জন্যে! তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহ্ র প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।’ কিন্তু সে বলে, ‘এটা তো অতীত কালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যে ব্যক্তি তার মাতা-পিতাকে বলে, ‘তোমাদের জন্য আফসোস’! তোমরা কি আমাকে এই প্রতিশ্রুতি দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব’ অথচ আমার পূর্বে অনেক প্রজন্ম গত হয়ে গেছে’? আর তারা দু’জন আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে, ‘দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি ঈমান আন। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য’। তখন সে বলে, ‘এটা কেবল অতীতকালের কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছু নয়’।আল-বায়ান
আর যে নিজ পিতামাতাকে বলে, ‘তোমাদের জন্য আফসোস! তোমরা কি আমাকে ভয় দেখাও যে, (মৃতুর পর) আমাকে উঠানো হবে অথচ আমার পূর্বে বহু মানব গোষ্ঠী অতীত হয়ে গেছে (কই, কেউ তো উঠে আসল না)। বাপ-মা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে (সন্তানকে তিরস্কার করে) বলে- দুর্ভোগ তোমার জন্য, তুমি ঈমান আন, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য।’ তখন সে বলে- ‘এ সব পুরান কালের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই না।’তাইসিরুল
আর যে তার মাতাপিতাকে বলে -- "ধুত্তোর তোমাদের জন্য! তোমরা কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছ যে আমাকে বের করা হবে, অথচ আমার আগে বহু মানববংশ গত হয়েই গেছে? আর তারা দুজনে আল্লাহ্র সাহায্য কামনা করবে -- "ধিক্ তোমার জন্য! ঈমান আনো, আল্লাহ্র ওয়াদা অবশ্যই সত্য।" কিন্তু সে বলে -- "এতো অতীতকালের উপকথা ছাড়া আর কিছুই নয়।"মাওলানা জহুরুল হক
১৭. আর যে তার মাতা-পিতাকে বলে, আফসোস তোমাদের জন্য তোমরা কি আমাকে এ ওয়াদা দাও যে, আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে অথচ আমার আগে বহু প্ৰজন্ম গত হয়েছে?(১) তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার জন্য! তুমি ঈমান আনয়ন কর, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এ তো অতীত কালের উপকথা ছাড়া কিছুই নয়।
(১) পূর্বের আয়াতসমূহে মাতা-পিতার সেবাযত্ন ও আনুগত্য সম্পর্কিত নির্দেশ ব্যক্ত হয়েছিল। এ আয়াতে সে ব্যক্তির আযাব ও শাস্তি উল্লেখিত হয়েছে, যে পিতা-মাতার সাথে অসদ্ব্যবহার ও কটুক্তি করে। বিশেষতঃ পিতা-মাতা যখন তাকে ইসলাম ও সৎকর্মের দিকে দাওয়াত দেয়, তখন তাদের কথা অমান্য করা দ্বিগুণ পাপ। ইবনে কাসীর বলেন, যে কোন লোক পিতা-মাতার সাথে অসদ্ব্যবহার করবে, তার ক্ষেত্রেই এ আয়াত প্রযোজ্য হবে। এ আয়াতটি কোন অবস্থাতেই আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট করা যাবে না (যেমনটি শীয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা করার চেষ্টা চালায়)। (দেখুন: ইবনে কাসীর)
(১৭) আর যে তার মাতা-পিতাকে বলল, ‘আফসোস তোমাদের জন্য!(1) তোমরা কি আমাকে এ ভয় দেখাতে চাও যে, আমাকে পুনরায় জীবিত করা হবে; অথচ আমার পূর্বে বহু পুরুষ গত হয়ে গেছে?’(2) তখন তার মাতা-পিতা আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করে বলে, ‘দুর্ভোগ তোমার জন্য! বিশ্বাস স্থাপন কর, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।’ কিন্তু সে বলে, ‘এটা তো অতীতকালের উপকথা ব্যতীত কিছুই নয়।’ (3)
(1) উপরোক্ত আয়াতে সৌভাগ্যবান সন্তানদের আলোচনা ছিল। যারা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারও করে এবং তাদের জন্য কল্যাণের দু’আও করে। এখানে তাদের বিপরীত দুর্ভাগা ও অবাধ্য সন্তানদের কথা আলোচনা করা হচ্ছে। যারা পিতা-মাতার সাথে অভদ্র আচরণ করে। أُفٍّ لَّكُمَا আক্ষেপ তোমাদের উপর। أف (উঃ) শব্দটি বিরক্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ অবাধ্য সন্তানরা পিতার উপদেশমূলক বাণী বা ঈমান ও সৎকর্মের প্রতি আহবানের দাওয়াতে বিরক্তি ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে। অথচ সন্তানদের জন্য এ রকম করার মোটেই কোন অনুমতি নেই। এই আয়াতটি ব্যাপক; সকল অবাধ্য সন্তান এই নির্দেশের আওতাধীন।
(2) উদ্দেশ্য হলো, তারা তো পুনরায় জীবিত হয়ে দ্বিতীয়বার দুনিয়াতে ফিরে আসেনি। অথচ দ্বিতীয়বার জীবিত হওয়ার অর্থ কিয়ামতের দিন জীবিত হওয়া, যার পর হিসাব হবে।
(3) মা-বাপ মুসলিম এবং সন্তান কাফের হলে, সেখানে এই ধরনের বাদানুবাদ হয়ে থাকে। যার একটি দৃষ্টান্ত এই আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।