وَإِذَا حُشِرَ ٱلنَّاسُ كَانُواْ لَهُمۡ أَعۡدَآءٗ وَكَانُواْ بِعِبَادَتِهِمۡ كَٰفِرِينَ

ওয়া ইযা-হুশিরন্না-ছুক-নূলাহুম আ‘দাআওঁ ওয়া ক-নূবি‘ইবা-দাতিহিম ক-ফিরীন।উচ্চারণ

যখন সমস্ত মানুষকে সমবেত করা হবে তখন তারা নিজেদের আহ্বানকারীর দুশমন হয়ে যাবে এবং ইবাদতকারীদের অস্বীকার করবে। তাফহীমুল কুরআন

এবং মানুষকে (হাশরের মাঠে) যখন একত্র করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তারা তাদের ইবাদতকেই অস্বীকার করবে। মুফতী তাকী উসমানী

যখন কিয়ামাত দিবসে মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন ঐগুলো হবে তাদের শত্রু, ঐগুলো তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।মুজিবুর রহমান

যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের এবাদত অস্বীকার করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্র করা হবে তখন ঐগুলি হবে এদের শত্রু এবং ঐগুলি এদের ‘ইবাদত অস্বীকার করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখন মানুষকে একত্র করা হবে, তখন এ উপাস্যগুলো তাদের শত্রু হবে এবং তারা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।আল-বায়ান

ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে যখন একত্রিত করা হবে, তখন ঐগুলো (অর্থাৎ উপাস্যরা) হবে মানুষের শত্রু আর মানুষ যে তাদের ‘ইবাদাত করেছিল তা তারা অস্বীকার করবে।তাইসিরুল

আর যখন মানবগোষ্ঠীকে সমবেত করা হবে তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে, আর তাদের যে উপাসনা করা হয়েছিল সে কথাতেই তারা অস্বীকারকারী হবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ তারা সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দেবে না আমরা কোন সময় তোমাদের একথা বলেছি যে, আমাদের ইবাদাত করতে হবে, না আমাদের জানা আছে যে, এ লোকেরা আমাদের ‘ইবাদত’ করতো। এই গোমরাহীর জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। তাই তার পরিণাম তাদেরকেই ভোগ করতে হবে। এ গুনাহে আমাদের কোন অংশ নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মুশরিকরা যাদের পূজা করে, আখেরাতে তারা সকলে ঘোষণা করবে, মুশরিকদের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই এবং তারা তাদের ইবাদত করত না। সূরা কাসাসেও (২৮ : ৬৩) এ কথা বর্ণিত হয়েছে। এর বিশদ এই যে, মুশরিক কয়েক রকমের হয়ে থাকে। (এক) এক শ্রেণীর মুশরিক কোন কোন ব্যক্তিকে মাবুদ বানিয়ে তাদের পূজা করে থাকে। অনেক সময় সেই সকল ব্যক্তির খবরও থাকে না যে, তাদের পূজা করা হচ্ছে। তাই তারা তাদের পূজা করার কথা অস্বীকার করবে। আর যাদের খবর আছে, তারা বলবে, প্রকৃতপক্ষে তারা আমাদের নয়; বরং নিজেদের খেয়াল-খুশীরই পূজা করত। (দুই) কতক মুশরিক ফেরেশতাদের পূজা করত। তাদের সম্পর্কে সূরা সাবায় (৩৪ : ৪০, ৪১) বলা হয়েছে যে, যখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, তারা কি তোমাদের ইবাদত করত? তখন তারা বলবে, তারা তো জিন ও শয়তানদের ইবাদত করত। কেননা তারাই তাদেরকে সে কাজে লিপ্ত করেছিল। (তিন) তৃতীয় শ্রেণীর মুশরিক তারা, যারা মাটি-পাথরের প্রতিমার পূজা করে। কোন কোন বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তাআলা সেই মুশরিকদেরকে দেখানোর জন্য প্রতিমাদেরকে বাকশক্তি দান করবেন। দুনিয়ায় তারা যেহেতু নিষ্প্রাণ বস্তু, তাই বাস্তবিকই তাদের খবর থাকে না যে, তাদের পূজা করা হয়। তাই তারাও বলবে, তারা আমাদের ইবাদত করত না। এ বর্ণনা যদি প্রমাণিত না হয়, তবে তাদের একথা বলার অর্থ তারা তাদের অবস্থা দ্বারা বোঝাবে যে, আমরা তো নিষ্প্রাণ পাথর। কাজেই তারা যে আমাদের পূজা করত তার খবর আমাদের কি করে থাকবে (রূহুল মাআনী)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. আর যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্র করা হবে তখন সেগুলো হবে এদের শত্রু এবং এরা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের উপাসনাকে অস্বীকার করবে। (1)

(1) এই বিষয়টি কুরআনের একাধিক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। যেমন, সূরা ইউনুসের ২৯নং আয়াতে, সূরা মারয়্যামের ৮১-৮২নং আয়াতে এবং সূরা আনকাবুতের ২৫নং আয়াত সহ আরো অন্য আয়াতেও বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়াতে দু’ প্রকারের উপাস্য বিদ্যমান রয়েছে। এক তো হল, নিষ্প্রাণ জড়পদার্থ, উদ্ভিদ এবং মহান আল্লাহর মহাশক্তির নিদর্শনাবলী (সূর্য, আগুন প্রভৃতি)। আল্লাহ তাআলা এগুলোর মধ্যে প্রাণ এবং বাকশক্তি দান করবেন। ফলে এ জিনিসগুলো মুখের ভাষায় ব্যক্ত করবে যে, এ কথা আমরা আদৌ জানতাম না যে, এরা আমাদের পূজা করত এবং তোমার উপাস্যত্বে আমাদেরকে শরীক করত। কেউ কেউ বলেছেন, বাচনিক জবানে নয়, বরং অবস্থার জবানে তারা নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করবে। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত। দ্বিতীয় প্রকার উপাস্য হল, নবী, ফিরিশতা ও নেক লোক বা সৎব্যক্তিদের মধ্য থেকে। যেমন, ঈসা, উযাইর (আলাইহিমাস্ সালাম) এবং আল্লাহর অন্যান্য নেক বান্দাগণ। এঁরাও আল্লাহর সমীপে সেইরূপই উত্তর দেবেন, যেমন ঈসা (আঃ)-এর উত্তর পবিত্র কুরআনে বর্ণিত রয়েছে। এ ছাড়া শয়তানও অস্বীকার করবে। যেমন সকল শরীকদের উক্তি কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। ﴿ تَبَرَّأْنَا إِلَيْكَ مَا كَانُوا إِيَّانَا يَعْبُدُونَ﴾ (القصص:৬৩) ‘‘আমরা তোমার সম্মুখে (আমাদের পূজারীদের সাথে) সম্পর্ক ছিন্নতার কথা ঘোষণা করছি, এরা আমাদের পূজা করত না।’’ (সূরা কাসাসঃ ৬৩)