ইযতুস‘ইদূ না ওয়ালা-তালঊনা ‘আলা-আহাদিওঁ ওয়ার রছূলুইয়াদ‘ঊকুম ফীউখর-কুম ফাআছা-বাকুম গাম্মাম বিগামমিল লিকাইলা-তাহঝানূ‘আলা-মা-ফা-তাকুম ওয়ালামাআসা-বাকুম ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।উচ্চারণ
স্মরণ করো, যখন তোমরা পালাবার কাজে এমনই ব্যস্ত ছিলে যে, কারোর দিকে ফিরে তাকাবার হুঁশও কারো ছিল না এবং রসূল তোমাদের পেছনে তোমাদের ডাকছিল। ১১০ সে সময় তোমাদের এহেন আচরণের প্রতিফল স্বরূপ আল্লাহ তোমাদের দিলেন দুঃখের পর দুঃখ। ১১১ এভাবে তোমরা ভবিষ্যতে এই শিক্ষা পাবে যে, যা কিছু তোমাদের হাত থেকে বের হয়ে যায় অথবা যে বিপদই তোমাদের ওপর নাযিল হয়, সে ব্যাপারে দুঃখিত হবে না। আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে জানেন। তাফহীমুল কুরআন
(সেই সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন তোমরা উর্ধ্বশ্বাসে ছুটছিলে এবং কারও দিকে ঘুরে তাকাচ্ছিলে না, আর রাসূল তোমাদের পিছন দিক থেকে তোমাদেরকে ডাকছিল। ফলে আল্লাহ (রাসূলকে) বেদনা (দেওয়া)-এর বদলে তোমাদেরকে (পরাজয়ের) বেদনা দিলেন, যাতে তোমরা ভবিষ্যতে বেশি দুঃখ না কর, না সেই জিনিসের কারণে যা তোমাদের হাতছাড়া হয়েছে এবং না অন্য কোনও মসিবতের কারণে যা তোমাদের দেখা দিতে পারে। #%৬৭%# আল্লাহ তোমাদের কার্যাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে অবগত।মুফতী তাকী উসমানী
আর যখন তোমরা আরোহণ করে যাচ্ছিলে এবং কারও দিকে ফিরেও দেখছিলেনা এবং রাসূল তোমাদেরকে পশ্চাদ হতে আহবান করছিল; অনন্তর তিনি তোমাদেরকে দুঃখের উপর দুঃখ প্রদান করলেন। কিন্তু যা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং তোমাদের উপর যা উপনীত হয়নি, তোমরা তজ্জন্য দুঃখ করনা; এবং তোমরা যা করছ আল্লাহ তদ্বিষয়ে অভিজ্ঞ।মুজিবুর রহমান
আর তোমরা উপরে উঠে যাচ্ছিলে এবং পেছন দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলে না কারো প্রতি, অথচ রসূল ডাকছিলেন তোমাদিগকে তোমাদের পেছন দিক থেকে। অতঃপর তোমাদের উপর এলো শোকের ওপরে শোক, যাতে তোমরা হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া বস্তুর জন্য দুঃখ না কর এবং যার সম্মুখীণ হচ্ছ সেজন্য বিমর্ষ না হও। আর আল্লাহ তোমাদের কাজের ব্যাপারে অবহিত রয়েছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
স্মরণ কর, তোমরা যখন উপরের দিকে ছুটছিলে আর পিছন ফিরে কারও প্রতি লক্ষ্য করছিলে না, আর রাসূল তোমাদেরকে পিছন দিক হতে আহ্বান করছিল। ফলে তিনি তোমাদেরকে বিপদের ওপর বিপদ দিলেন যাতে তোমরা যা হারিয়েছ বা যে বিপদ তোমাদের ওপর এসেছে তার জন্যে তোমরা দুঃখিত না হও। তোমরা যা কর আল্লাহ্ তা বিশেষভাবে অবহিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, যখন তোমরা উপরে উঠছিলে এবং কারো দিকে ফিরে দেখছিলে না, আর রাসূল তোমাদেরকে ডাকছিল তোমাদের পেছন থেকে। ফলে তিনি তোমাদেরকে দুশ্চিন্তার পর দুশ্চিন্তা দিয়েছিলেন, যাতে তোমাদের যা হারিয়ে গিয়েছে এবং তোমাদের উপর যা আপতিত হয়েছে তার জন্য দুঃখ না কর। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত।আল-বায়ান
(স্মরণ কর) যখন তোমরা উঁচু জমির দিকে উঠছিলে এবং কারও দিকে ফিরে তাকানোর মত হুঁশটুকু তোমাদের ছিল না এবং রসূল তোমাদের পশ্চাতে থেকে তোমাদেরকে ডাকছিল। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে কষ্টের উপর কষ্ট প্রদান করলেন, যাতে তোমরা যা হারিয়েছ অথবা তোমাদের উপর যে বিপদ এসেছে (তার কারণ উপলব্ধি করার পর ভবিষ্যতে) তার জন্য দুঃখিত না হও, বস্তুতঃ তোমরা যা-ই কর আল্লাহ সে ব্যাপারে বিশেষভাবে অবহিত।তাইসিরুল
স্মরণ করো! তোমরা পাহাড়ে উঠছিলে আর কারো দিকে ভ্রক্ষেপ করছিলে না, আর রসূল তোমাদের পিছন থেকে তোমাদের ডাকছিলেন, কাজেই তিনি তোমাদের এক বিষাদের উপরে আরেক বিষাদ উপহার দিলেন, যেন তোমরা অনুশোচনা না করো যা তোমাদের থেকে ফসকে গেছে, আর যা তোমাদের উপরে বর্তেছে তার জন্যেও না। আর তোমরা যা করো সে- সন্বন্ধে আল্লাহ্ চির-ওয়াকিফহাল।মাওলানা জহুরুল হক
১১০
যখন মুসলমানদের ওপর হঠাৎ একই সময় দু’দিক থেকে আক্রমণ হলো এবং তাদের সারিগুলো ভেঙে চারদিকে বিশৃঙ্খলা অবস্থায় ছড়িয়ে পড়লো তখন কিছু লোক মদীনার দিকে পালাতে লাগলেন এবং কিছু ওহোদ পাহাড়ের ওপর উঠে গেলেন। কিন্তু নবী ﷺ তাঁর জায়গা থেকে এক ইঞ্চিও সরে গেলেন না। চারদিক থেকে শত্রুদের আক্রমণ হচ্ছিল। তার চারদিকে ছিল মাত্র দশ বারোজন লোকের একটি ছোট্ট দল। এহেন সঙ্গীণ অবস্থায়ও আল্লাহর নবী পাহাড়ের মতো নিজে অটলভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি পালায়নপর লোকদের ডেকে ডেকে বলছিলেনঃ (اِلى عِبَادِ الله اِلى عِبَادِ الله) “আল্লার বান্দারা, আমার দিকে এসো! আল্লাহর বান্দারা, আমার দিকে এসো।”
১১১
দুঃখ পরাজয়ের, দুঃখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু সংবাদের। দুঃখ নিজেদের বিপুল সংখ্যক নিহত ও আহতদের। দুঃখ এই চিন্তায় যে, এখন নিজেদের বাড়ি-ঘরেরও নিরাপত্তা নেই এবং এখনই মদীনার সমগ্র জনসংখ্যার চাইতেও বেশী তিন হাজার শত্রু সৈন্য পরাজিত সেনাদলকে মাড়িয়ে গুঁড়িয়ে শহরের গলি কুচায় ঢুকে পড়বে এবং নগরীর সবকিছু ধ্বংস ও বরবাদ করে দেবে।
অর্থাৎ এ জাতীয় ঘটনার কারণে তোমাদের ভেতর পরিপক্কতা আসবে। ফলে ভবিষ্যতে কোন ক্লেশ দেখা দিলে তজ্জন্য বেশি পেরেশানী ও দুঃখ প্রকাশ না করে বরং ধৈর্য ও অবিচলতা প্রদর্শন করবে।
১৫৩. স্মরণ কর, তোমরা যখন উপরের (পাহাড়ের) দিকে ছুটছিলে এবং পিছন ফিরে কারো প্রতি লক্ষ্য করছিলে না, আর রাসূল তোমাদেরকে পিছন দিক ডাকছিলেন। ফলে তিনি তোমাদেরকে বিপদের উপর বিপদ দিলেন(১), যাতে তোমরা যা হারিয়েছ এবং যে বিপদ তোমাদের উপর এসেছে তার জন্য তোমরা দুঃখিত না হও। আর তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবহিত।
(১) কাতাদা বলেন, প্রথম বিপদ হচ্ছে, আহত-নিহত হওয়া। আর দ্বিতীয় বিপদ হচ্ছে, যখন তাদের কাছে খবর পৌছল যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিহত হয়েছেন। তখন তারা নিজেদের আহত-নিহত হওয়ার চেয়েও বেশী চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে পড়লেন। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(১৫৩) (স্মরণ কর) তোমরা যখন (পাহাড়ের) উপরে চড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলে(1) এবং পিছনে কারো প্রতি লক্ষ্য করছিলে না; অথচ রসূল তোমাদেরকে পিছন থেকে আহবান করছিল।(2) ফলে তিনি তোমাদেরকে দুঃখের উপর দুঃখ দিলেন;(3) যাতে তোমরা যা হারিয়েছ অথবা যে বিপদ তোমাদের উপর এসেছে, তার জন্য তোমার দুঃখিত না হও।(4) আর তোমরা যা কর, আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবহিত।
(1) কাফেরদের একাধারে হঠাৎ আক্রমণের ফলে মুসলিমদের মধ্যে যে ছত্রভঙ্গ অবস্থা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং তাঁদের অনেকেই যে ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যান, এখানে সেই চিত্রই তুলে ধরা হচ্ছে। تُصْعِدُوْنَ ক্রিয়াপদ إِصْعَادٌ ক্রিয়ামূল থেকে গঠিত। যার অর্থ হল, উপত্যকা বেয়ে (পাহাড়ে) চড়া কিংবা পালিয়ে যাওয়া।
(2) নবী করীম (সাঃ) তাঁর কিছু সাথী সহ পিছনে ছিলেন। তিনি তাঁদেরকে ডাক দিয়ে বলছিলেন, ‘‘আল্লাহর বান্দারা! আমার দিকে ফিরে এসো। আল্লাহর বান্দারা! আমার দিকে ফিরে এসো।’’ কিন্তু সেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতিতে তাঁর এই ডাক কে শোনে?
(3) সামান্য ত্রুটির কারণে তোমাদের উপর নেমে এল দুঃখের উপর দুঃখ। ইবনে জারীর এবং ইবনে কাসীরের নিকট প্রাধান্য প্রাপ্ত উক্তি অনুযায়ী প্রথম ‘গাম্ম’ (দুঃখ)এর অর্থ, গনীমতের মাল এবং কাফেরদের উপর বিজয় লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ‘গাম্ম’ (দুঃখ)। আর দ্বিতীয় ‘গাম্ম’ (দুঃখ)এর অর্থ, মুসলিমদের শহীদ ও আহত হওয়ার ‘গাম্ম’ (দুঃখ) এবং নবী করীম (সাঃ)-এর নির্দেশের বিরোধিতা ও তাঁর শহীদ হওয়ার মিথ্যা খবর থেকে সৃষ্ট দুঃখ।
(4) অর্থাৎ, তোমাদের উপর দুঃখের উপর দুঃখ আপতিত হওয়ার কারণ হল, যাতে তোমাদের মধ্যে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করার শক্তি এবং দৃঢ়সংকল্প ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়।