قُلۡ إِن كَانَ لِلرَّحۡمَٰنِ وَلَدٞ فَأَنَا۠ أَوَّلُ ٱلۡعَٰبِدِينَ

কুল ইন ক-না লিররহমা-নি ওয়ালাদুন ফাআনা-আওওয়ালুল ‘আ-বিদীন।উচ্চারণ

আমি সব কিছু শুনছি এবং আমার ফেরেশতা তাদের কাছে থেকেই তা লিপিবদ্ধ করছে। এদের বলো, “সত্যিই যদি রহমানের কোন সন্তান থাকতো তাহলে তাঁর সর্বপ্রথম ইবাদতকারী হতাম আমি।” ৬৪ তাফহীমুল কুরআন

(হে রাসূল!) বলে দাও, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমিই সর্বপ্রথম ইবাদতকারী হতাম। #%২৬%#মুফতী তাকী উসমানী

বলঃ দয়াময় ‘রাহমানের’ কোন সন্তান থাকলে আমি হতাম তার উপাসকগণের অগ্রণী।মুজিবুর রহমান

বলুন, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমি সর্ব প্রথম তার এবাদত করব।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘দয়াময় আল্লাহ্ র কোন সন্তান থাকলে আমি হতাম তার উপাসকগণের অগ্রণী ;ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘রহমানের যদি সন্তান থাকত তবে আমি প্রথম তাঁর ইবাদাতকারী হতাম।আল-বায়ান

বল- দয়াময়ের কোন সন্তান থাকলে আমিই তার সর্বপ্রথম ‘ইবাদাতকারী হতাম।তাইসিরুল

তুমি বলো -- "যদি পরম করুণাময়ের কোনো সন্তান থাকত তবে আমিই হচ্ছি উপাসনাকারীদের মধ্যে অগ্রণী।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬৪

অর্থাৎ কাউকে আল্লাহর সন্তান হিসেবে মানতে আমার অস্বীকৃতি এবং তোমরা যাদেরকে তাঁর সন্তান বলে আখ্যায়িত করছো তাদের ইবাদাত করতে আমার অস্বীকৃতি কোন জিদ বা হঠকারিতার ভিত্তিতে নয়। আমি যে কারণে তা অস্বীকার করি তা শুধু এই যে, প্রকৃতপক্ষে কেউই আল্লাহর পুত্র বা কন্যা নয়। তোমাদের এই আকীদা-বিশ্বাস সত্য ও বাস্তবতার পরিপন্থী। আল্লাহর সন্তান আছে এটাই যদি বাস্তব হতো তাহলে আমি আল্লাহর এমন বিশ্বাসী বান্দা যে, তোমাদের সবার আগে আমি তাঁর বন্দেগী মেনে নিতাম।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর মানে এ নয় যে, আল্লাহ তাআলার সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরং এটা একটা কথার কথা হিসেবে বলা হয়েছে (যদিও বাস্তবে তা অসম্ভব)। এর মানে হচ্ছে, তোমাদের আকীদা-বিশ্বাসকে অস্বীকার করছি দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে; হঠকারিতা ও জিদের বশে নয়। কাজেই যদি দলীল-প্রমাণ দ্বারা আল্লাহ তাআলার কোন সন্তান থাকা সাব্যস্ত হত, তবে আমি কখনওই তা অস্বীকার করতাম না। বরং আমিই সর্বপ্রথম সেই সন্তানের প্রতি বিশ্বাসী ও তার ইবাদতকারী হতাম।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮১. বলুন, দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমি হতাম তাঁর ইবাদতে ঘৃণাকারীদের অগ্রণী(১);

(১) ওপরে عَابِدِينَ এর অর্থ করা হয়েছে, ঘৃণাকারী। এটা আরবী বিভিন্ন বাকরীতিতে ব্যবহৃত আছে। অন্য অনুবাদ হচ্ছে, বলুন হে মুহাম্মাদ! যদি রহমানের কোন সন্তান থাকে যেটা তোমরা তোমাদের কথায় দাবী করছ, তবে তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করণে ও তোমাদের দাবী অস্বীকারকরণে আমি প্রথম আল্লাহর উপর মুমিন। কারণ, তাঁর কোন সন্তান থাকতে পারে না। (তাবারী) তখন عَابِدِينَ শব্দের অর্থ হবে, مُؤْمِنِيْنَ আর কথার বাকী অংশ উহ্য থাকবে। তাছাড়া আরেক অনুবাদ হচ্ছে, ইবাদতকারী। অর্থাৎ যদি ধরে নেয়া হয়, তাঁর সন্তান আছে তারপরও আমি আল্লাহরই ইবাদাত করব। কারণ, আমি তাঁর বান্দা। আর বান্দা স্রষ্টার নির্দেশের বাইরে যেতে পারে না। (ইবন কাসীর)

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহর সন্তান হওয়া কোন পর্যায়ে সম্ভব। বরং উদ্দেশ্য একথা ব্যক্ত করা যে, আমি কোন শক্রতা ও হঠকারিতাবশতঃ তোমাদের বিশ্বাস অস্বীকার করছি না; বরং প্রমাণাদির আলোকেই করছি। বিশুদ্ধ প্রমাণাদি দ্বারা আল্লাহর সন্তান থাকা প্রমাণিত হলে আমি অবশ্যই তা মেনে নিতাম। কিন্তু সর্বপ্রকার দলীল এর বিপক্ষে। কাজেই মেনে নেয়ার প্রশ্নই উঠে না। এ থেকে জানা গেল যে, মিথ্যাপন্থীদের সাথে বিতর্কের সময় নিজের সত্যপ্রিয়তা ফুটানোর উদ্দেশ্যে একথা বলা জায়েয ও সমীচীন যে, তোমার দাবী সত্য প্রমাণিত হলে আমি মেনে নিতাম। কেননা, মাঝে মাঝে এধরনের কথায় প্রতিপক্ষের মনে নম্রতা সৃষ্টি হয়, যা তাকে সত্য গ্রহণে উৎসাহিত করে। (দেখুন: তাবারী; কুরতুবী; ইবন কাসীর আদওয়াউল বায়ান)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮১) বল, ‘পরম দয়াময় আল্লাহর কোন সন্তান থাকলে আমিই হতাম তার উপাসকগণের অগ্রণী।’(1)

(1) কেননা, আমি আল্লাহর বাধ্য ও তাঁর অনুগত বান্দা। যদি সত্যিকারই তাঁর সন্তান-সন্ততি হত, তবে সর্বপ্রথম আমিই তাদের ইবাদত ও উপাসনা করতাম। আসলে মুশরিকদের বিশ্বাসকে বাতিল ও খন্ডন করা হয়েছে; যারা আল্লাহর সন্তান-সন্ততি সাব্যস্ত করে।