ফাতালাক্কা আ-দামুমির রব্বিহী কালিমা-তিন ফাতা-বা ‘আলাইহি ইন্নাহূ হুওয়াত্তাওওয়া-বুর রহীম।উচ্চারণ
তখন আদম তার রবের কাছ থেকে কয়েকটি বাক্য শিখে নিয়ে তাওবা করলো। ৫১ তার রব তার এই তাওবা কবুল করে নিলেন। কারণ তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী। ৫২ তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর আদম স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ হতে (তওবার) কিছু শব্দ শিখে নিল (যা দ্বারা সে তওবা করল) ফলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করলেন। #%৩৮%# নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।মুফতী তাকী উসমানী
অতঃপর আদম স্বীয় রাব্ব হতে কতিপয় বাণী শিক্ষা লাভ করল, আল্লাহ তখন তার প্রতি কৃপা দৃষ্টি দিলেন; নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, করুণাময়!মুজিবুর রহমান
অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরপর আদম তার প্রতিপালকের নিকট হতে কিছু বাণী প্রাপ্ত হল। আল্লাহ্ তার প্রতি ক্ষমাপরবশ হলেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর আদম তার রবের পক্ষ থেকে কিছু বাণী পেল, ফলে আল্লাহ তার তাওবা কবূল করলেন। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবূলকারী, অতি দয়ালু।আল-বায়ান
তারপর আদাম (আ.) তার প্রতিপালকের নিকট হতে কিছু বাণী প্রাপ্ত হল, অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করলেন, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।তাইসিরুল
তখন আদম তার প্রভুর কাছ থেকে কিছু কথা শিখে নিলে, তাই তিনি তার দিকে ফিরলেন। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই সদা ফেরেন, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক
৫১
অর্থাৎ আদম (আঃ) যখন নিজের ভুল বুঝতে পারলেন, তিনি আল্লাহর নাফরমানির পথ পরিহার করে তাঁর হুকুম মেনে চলার পথ অবলম্বন করতে চাইলেন এবং তাঁর মনে যখন নিজের রবের কাছে নিজের গোনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার আকাঙ্ক্ষা জাগলো তখন ক্ষমা প্রার্থনা করার ভাষা তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁর অবস্থা দেখে আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং ক্ষমা প্রার্থনার ভাষা তাঁকে শিখিয়ে দিলেন। তাওবার আসল অর্থ হচ্ছে ফিরে আসা। বান্দার পক্ষ থেকে তাওবার অর্থ হচ্ছে এই যে, সে সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহের পথ পরিহার করে বন্দেগীর পথে পা বাড়িয়েছে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওবা করার অর্থ হচ্ছে এই যে, তিনি নিজের লজ্জিত ও অনুতপ্ত দাসের প্রতি অনুগ্রহ সহকারে দৃষ্টি দিয়েছেন এবং বান্দার প্রতি তাঁর দান পুনর্বার বর্ষিত হতে শুরু করেছে।
৫২
গোনাহর ফল অনিবার্য এবং মানুষকে অবশ্যি তা ভোগ করতে হবে, কুরআন এ মতবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এটা মানুষের মনগড়া ভুল মতবাদগুলোর মধ্যে একটি বড়ই বিভ্রান্তিকর মতবাদ। কারণ যে ব্যক্তি একবার গোনাহে লিপ্ত হয়েছে এই মতবাদ তাকে চিরকালের জন্য হতাশার সাগরে নিক্ষেপ করে। একবার নিজের ভুল বুঝতে পেরে ঐ ব্যক্তি যদি তার অতীতের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে চায় এবং ভবিষ্যতে সৎ-সুন্দর জীবন যাপন করতে আগ্রহ হয়, তাহলে এই মতবাদ তাকে বলে তোমার বাঁচার কোন আশা নেই, যা কিছু তুমি করে এসেছো তার ফল অবশ্যি তোমাকে ভোগ করতে হবে। এর বিপরীত পক্ষে কুরআন বলে, সৎকাজের পুরস্কার ও অসৎকাজের শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে। তোমরা যে সৎকাজের পুরস্কার পাও সেটা তোমাদের সৎকাজের স্বাভাবিক ফল নয়। সেটা আল্লাহর দান। তিনি চাইলে দান করতে পারেন, চাইলে নাও করতে পারেন। অনুরূপভাবে তোমরা যে অসৎকাজের শাস্তি লাভ করো সেটা তোমাদের অসৎকাজের অনিবার্য ফল নয়। বরং এ ব্যাপারে আল্লাহর ক্ষমতা ও ইখতিয়ার রয়েছে, তিনি চাইলে ক্ষমা করতে এবং চাইলে শাস্তি দিতে পারেন। তবে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত তাঁর জ্ঞানের সাথে গভীর সূত্রে আবদ্ধ। তিনি জ্ঞানী হবার কারণে তাঁর ক্ষমতা কর্তৃত্ব অন্ধের মতো ব্যবহার করেন না। কোন সৎকাজের পুরস্কার দেয়ার সময় বান্দা আন্তরিকতা সহকারে, সাচ্চা নিয়তে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে এই সৎকাজটি করেছে, এ দিকটি বিবেচনা করেই তিনি তাকে পুরস্কৃত করেন। আর কোন সৎকাজকে প্রত্যাখ্যান করলে এই উদ্দেশ্যে করেন যে, তার বাইরের রূপটি ছিল ঠিক সৎকাজের মতোই কিন্তু তার ভেতরে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নির্ভেজাল প্রেরণা ও ভাবধারা কার্যকর ছিল না। অনুরূপভাবে বিদ্রোহাত্মক ধৃষ্টতা সহকারে কোন অসৎকাজ করা হলে তার পেছনে যদি লজ্জার মনোভাবের পরিবর্তে আরো বেশী অপরাধ করার প্রবণতা সক্রিয় থাকে তাহলে এ ধরনের অপরাধের তিনি শাস্তি দিয়ে থাকেন। আর যে অসৎকাজ করার পর বান্দা লজ্জিত হয় এবং ভবিষ্যতে নিজের সংশোধন প্রয়াসী হয় এই ধরনের অসৎকাজে ত্রুটি তিনি নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করে দেন। মারাত্মক ধরনের অপরাধী কট্টর কাফেরের জন্যও আল্লাহর দরবার থেকে নিরাশ হবার কোন কারণ নেই। তবে শর্ত হচ্ছে, সে যদি তার অপরাধ স্বীকার করে, নিজের নাফরমানির জন্য লজ্জিত হয় এবং বিদ্রোহের মনোভাব ত্যাগ করে আনুগত্যের পথে এগিয়ে চলতে প্রস্তুত হয়, তাহলে আল্লাহ তার গোনাহ ও ত্রুটি মাফ করে দেবেন।
হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন নিজের ভুল বুঝতে পারলেন, তখন ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারছিলেন না, আল্লাহ তাআলার কাছে কি শব্দে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। তাই তাঁর মুখ দিয়ে কিছুই বের হচ্ছিল না। আল্লাহ তাআলা তো অন্তর্যামী এবং তিনি পরম দয়ালু ও দাতাও বটে। তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালামের মনের এ অবস্থার কারণে নিজেই তাঁকে তওবার ভাষা শিখিয়ে দিলেন, যা সূরা আরাফে (৭ : ২৩) বর্ণিত আছে এবং তা এরূপ- قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَۤا اَنْفُسَنَا وَاِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخَاسِرِيْنَ ـ ‘তারা বললো, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের সত্তার প্রতি জুলুম করে ফেলেছি। আপনি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।’ এভাবে পৃথিবীতে পাঠানোর আগেই মানুষকে আল্লাহ তাআলা শিখিয়ে দিলেন যে, সে যদি কখনও শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে কিংবা ইন্দ্রিয় পরবশতার কারণে কোনও গুনাহ করে ফেলে তবে তার কর্তব্য তৎক্ষণাৎ তওবা করে ফেলা। তওবার জন্য যদিও বিশেষ কোনও শব্দ ও ভাষা ব্যবহার অপরিহার্য নয়, বরং নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা ও পরবর্তীতে অনুরূপ না করার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পায়- এমন যে-কোনও বাক্য দ্বারাই তওবা হতে পারে, কিন্তু উপরে বর্ণিত বাক্য যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ তাআলার শেখানো, তাই এর দ্বারা তওবা করলে তা কবুল হওয়ার বেশি আশা করা যায়। এ স্থলে কয়েকটা কথা বিশেষভাবে বুঝে নেওয়া চাই- ক. যেমনটা পূর্বে ৩০নং আয়াত দ্বারাও পরিস্ফুট হয়েছে, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আলাইহিস সালামকে পৃথিবীতে নিজ খলীফা বানিয়ে পাঠানোর জন্যই সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু সৃষ্টি করার পর তাকে প্রথমেই পৃথিবীতে না পাঠিয়ে তার আগে জান্নাতে থাকতে দিলেন। তারপর এতকিছু ঘটনা ঘটল। এর উদ্দেশ্য দৃশ্যত এই যে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম যাতে জান্নাতের নি‘আমতসমূহ চাক্ষুষ দেখে নিজের আসল ঠিকানা সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিতে পারেন এবং পৃথিবীতে পৌঁছার পর এ ঠিকানা অর্জনে কি রকমের প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে এবং কোন পন্থায় তা থেকে মুক্তি লাভ করা যেতে পারে সে সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হতে পারেন। যেহেতু ফিরিশতাগণের বিপরীতে মানুষের স্বভাবের ভেতরই ভাল ও মন্দ উভয়ের যোগ্যতা রাখা হয়েছে, তাই এ বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথিবীতে আসার আগেই এ রকমের একটা অভিজ্ঞতা লাভ করা তার জন্য জরুরী ছিল। খ. নবী যেহেতু মা‘সূম ও নিষ্পাপ হন, ফলে তাঁর দ্বারা কোনও গুনাহের কাজ সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়, তাই হযরত আদম আলাইহিস সালামের এ ভুল মূলত ইজতিহাদী ভুল ছিল (Bonafold_old_ide Mistake) অর্থাৎ চিন্তাগত ভুল। তিনি শয়তানের কুমন্ত্রণার ফলে আল্লাহ তাআলার নির্দেশকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভেতর সীমাবদ্ধ মনে করেছিলেন। অন্যথায় তাঁর পক্ষ হতে সরাসরি আল্লাহ তাআলার নাফরমানী হওয়ার কল্পনাও করা যায় না। তথাপি একজন নবীর পক্ষে এ জাতীয় ভুলও যেহেতু শোভনীয় ছিল না, তাই কোনও কোনও আয়াতে এটাকে গুনাহ বা সীমালংঘন শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে এবং এজন্য তওবা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আলোচ্য আয়াতে এটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করে নিয়েছেন। গ. এর দ্বারা মানুষের পাপ সংক্রান্ত খ্রিস্টীয় বিশ্বাস খণ্ডন হয়ে গেছে। খ্রিস্টানদের কথা হল, হযরত আদম আলাইহিস সালামের এ গুনাহ স্থায়ীভাবে মানব প্রকৃতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, যদ্দরুণ প্রতিটি মানব-শিশু মায়ের পেট থেকে পাপী হয়ে জন্মগ্রহণ করে। মানুষের এই সংকট মোচনের লক্ষ্যেই আল্লাহ তাআলার নিজ পুত্রকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে কুরবানী করানোর দরকার পড়েছে, যাতে তাঁর দ্বারা দুনিয়ার সমস্ত মানুষের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে যায়। কুরআন মাজীদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করে দিয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আলাইহিস সালামের তওবা কবুল করে নিয়েছিলেন। ফলে তার সে গুনাহও বাকি থাকেনি এবং তার সন্তানদের মধ্যে সে গুনাহের স্থানান্তরিত হওয়ারও কোনও অবকাশ থাকেনি। তাছাড়া আল্লাহ তাআলার ইনসাফ ভিত্তিক বিধান অনুযায়ী এক ব্যক্তির পাপের বোঝা কখনও অন্যের মাথায় চাপানো হয় না।
৩৭. তারপর আদম(১) তার রবের কাছ থেকে কিছু বাণী পেলেন(২)। অতঃপর আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন(৩)। নিশ্চয় তিনিই তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
১. আদম 'আলাইহিস সালাম চরমভাবে বিচলিত হলেন। মহান আল্লাহ অন্তর্যামী এবং অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়। এ করুণ অবস্থা দেখে আল্লাহ্ তা'আলা নিজেই ক্ষমা প্রার্থনারীতি সম্বলিত কয়েকটি বচন তাদেরকে শিখিয়ে দিলেন। তারই বর্ণনা এ আয়াতসমূহে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে যে, আদম 'আলাইহিস সালাম স্বীয় প্রভুর কাছ থেকে কয়েকটি শব্দ লাভ করলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি করুণা করলেন। অর্থাৎ তাদের তাওবা গ্রহণ করে নিলেন। নিঃসন্দেহে তিনি মহা ক্ষমাশীল এবং অতি মেহেরবান। কিন্তু যেহেতু পৃথিবীতে আগমনের মধ্যে আরও অনেক তাৎপর্য ও কল্যাণ নিহিত ছিল - যেমন, তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে ফেরেশতা ও জ্বিন জাতির মাঝামাঝি এক নতুন জাতি - মানব জাতির আবির্ভাব ঘটা, তাদেরকে এক ধরনের কর্ম স্বাধীনতা দিয়ে তাদের প্রতি শর’য়ী বিধান প্রয়োগের যোগ্য করে গড়ে তোলা এবং অপরাধীর শাস্তি বিধান, শরীআতী আইন ও নির্দেশাবলী প্রবর্তন। এই নতুন জাতি উন্নতি সাধন করে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হবে।
২. যেসব বাক্য আদম 'আলাইহিস সালামকে তাওবার উদ্দেশ্যে বলে দেয়া হয়েছিল, তা কি ছিল? এ সম্পর্কে মুফাসসির সাহাবাগণের কয়েক ধরনের বর্ণনা রয়েছে। ইবনে আব্বাসের অভিমতই এক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, যা কুরআনুল কারীমের অন্যত্র বর্ণনা (رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ) “হে আমাদের রব, আমরা আমাদের নিজেদের উপর অত্যাচার করেছি। যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে পরিগণিত হয়ে যাব (সূরা আল-আরাফঃ ২৩) আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে যখন তাদেরকে তাওবার এই বাক্যগুলো শিখিয়ে দেয়া হলো, তখন আদম 'আলাইহিস সালাম যথোচিত মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে তা গ্রহণ করলেন।
৩. (তাওবা) এর প্রকৃত অর্থ, ফিরে আসা। যখন তাওবার সম্বন্ধ মানুষের সংগে হয়, তখন তার অর্থ হবে তিনটি বস্তুর সমষ্টি:- এক কৃত পাপকে পাপ মনে করে সেজন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া। দুই পাপ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা। তিন, ভবিষ্যতে আবার এরূপ না করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা। আর যদি পাপ বান্দার হকের সাথে সম্পৃক্ত হয় তবে তা ফেরৎ দেয়া বা তার থেকে মাফ নিয়ে নেয়া।
এ বিষয়গুলোর যেকোন একটির অভাব থাকলে তাওবা হবে না। সুতরাং মৌখিকভাবে “আল্লাহ তাওবা” বা অনুরূপ শব্দ উচ্চারণ করা নাজাত লাভের জন্য যথেষ্ট নয়। আয়াতে বর্ণিত (فَتَابَ عَلَيْهِ) এর মধ্যে তাওবার সম্বন্ধ আল্লাহর সাথে। এর অর্থ তাওবা গ্রহণ করা। অর্থাৎ আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। এ আয়াতের দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাওবা গ্রহণের অধিকারী আল্লাহ্ তাআলা ছাড়া আর কেউ নয়। ইয়াহূদী ও নাসারাগণ এই ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুলে পড়ে আছে। তারা পাদ্রী-পুরোহিতদের কাছে কিছু হাদিয়া উপঢৌকনের বিনিময়ে পাপ মোচন করিয়ে নেয় এবং মনে করে যে, তারা মাফ করে দিলেই আল্লাহর নিকটও মাফ হয়ে যায়। বর্তমানে বহু মুসলিমও এ ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ করে। তারা কোন কোন পীরের কাছে তাওবা করে এবং মনে করে যে, পীর মাধ্যম হয়ে আল্লাহর কাছ থেকে তার পাপ মোচন করিয়ে নেবেন। অথচ কোন পীর বা আলেম কারো পাপ মোচন করিয়ে দিতে পারেন না।
৩৭। অতঃপর আদম তার প্রতিপালকের নিকট হতে কিছু বাণী প্রাপ্ত হল। (1) আল্লাহ তার তওবা (অনুশোচনা) কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
(1) আদম (আঃ) লজ্জিত অবস্থায় দুনিয়ায় আগমন করে তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনায় মনোনিবেশ করলেন। এই সময় মহান আল্লাহ তাঁর দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা করে তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার সেই বাক্যগুলো শিখিয়ে দিলেন, যা সূরা আ'রাফে (২৩নং আয়াতে) উল্লেখ করা হয়েছে। {قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا...} কেউ কেউ এখানে একটি জাল হাদীসের আশ্রয় নিয়ে বলেন যে, আদম (আঃ) আল্লাহর আরশের উপরে "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" লেখা দেখেন এবং মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর অসীলা গ্রহণ করে দুআ করেন; ফলে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দেন। এটা ভিত্তিহীন বর্ণনা এবং ক্বুরআনের বর্ণনারও পরিপন্থী। এ ছাড়া এটা আল্লাহর বর্ণিত তরীকারও বিপরীত। প্রত্যেক নবী সব সময় সরাসরি আল্লাহর নিকট দুআ করেছেন। অন্য কোন নবী ও অলীর মাধ্যম ও অসীলা ধরেননি। কাজেই নবী করীম (সাঃ) সহ সকল নবীদের দুআ করার নিয়ম এটাই ছিল যে, তাঁরা বিনা অসীলা ও মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে সরাসরি দুআ করেছেন।