ফাছতাখাফফা কাওমাহূফাআতা-‘ঊহু ইন্নাহুম ক-নূকাওমান ফা-ছিকীন।উচ্চারণ
সে তার জাতিকে হালকা ও গুরুত্বহীন মনে করেছে এবং তারাও তার আনুগত্য করেছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ছিল ফাসেক। ৫০ তাফহীমুল কুরআন
এভাবেই সে নিজ সম্প্রদায়কে বেকুব বানাল এবং তারাও তার কথা মেনে নিল। প্রকৃতপক্ষে তারা সকলে ছিল পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়। #%২০%#মুফতী তাকী উসমানী
এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করে দিল। ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। তারাতো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান
অতঃপর সে তার সম্প্রদায়কে বোকা বানিয়ে দিল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এইভাবে সে তার সম্প্রদায়কে হতবুদ্ধি করে দিল, ফলে এরা তার কথা মেনে নিল। এরা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এভাবেই সে তার কওমকে বোকা বানালো, ফলে তারা তার আনুগত্য করল। নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক কওম।আল-বায়ান
এভাবে সে তার জাতির লোকেদের বোকা বানিয়ে দিল। ফলে তারা তার কথা মেনে নিল। তারা ছিল এক পাপাচারী সম্প্রদায়।তাইসিরুল
এইভাবে সে তার স্বজাতিকে ধাপ্পা দিয়েছিল, ফলে তারা তাকে মেনে চলল। নিঃসন্দেহ তারা ছিল সীমালংঘনকারী জাতি।মাওলানা জহুরুল হক
৫০
এই ছোট্ট আয়াতটিতে একটি অনেক বড় সত্য বর্ণনা করা হয়েছে। যখন কোন ব্যক্তি কোন দেশে তার স্বেচ্ছাচারিতা চালানোর চেষ্টা করে এবং সেজন্য প্রকাশ্যে সব রকমের চক্রান্ত করে। সব রকমের প্রতারণা, শঠতা ও বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় নেয়। প্রকাশ্যে বিবেক বিক্রির কারবার চালায় এবং যারা বিক্রি হয় না তাদেরকে দ্বিধাহীন চিত্তে পদদালিত করে তখন সে মুখে না বললেও কার্যক্ষেত্র একথা স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রকৃতপক্ষে সে ঐ দেশের অধিবাসীদেরকে বুদ্ধি-বিবেক, নৈতিকতা ও সাহসিকতার দিক থেকে গুরুত্বহীন মনে করে এবং তাদের সম্পর্কে এই মত পোষন করে যে, এসব নির্বোধ, বিবেক-বুদ্ধিহীন ও ভীরু লোকগুলোকে আমি যেদিকে ইচ্ছা তাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারি। তার এ প্রচেষ্টা যখন সফল হয় এবং দেশের অধিবাসীরা এর অনুগত দাসে পরিণত হয় তখন নিজেদের কাজ দ্বারাই তারা প্রমাণ করে দেয় যে, সেই ঘৃণ্য লোকটি তাদেরকে যা মনে করেছিলো তারা বাস্তবেও তাই। তাদের এই লাঞ্ছনাকর অবস্থায় পতিত হওয়ার আসল কারণ হচ্ছে, তারা মৌলিকভাবে ‘ফাসেক’। হক ও বাতিল এবং ইনসাফ ও জুলুম কি তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা থাকে না। সততা, দ্বীনদারী এবং মহত্ব মূল্য ও মর্যাদা লাভের উপযুক্ত না মিথ্যা, বে-ঈমানী এবং নীচতা মূল্য ও মর্যাদা লাভের উপযুক্ত তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যাথা থাকে না। এসব বিষয়ের পরিবর্তে ব্যক্তি স্বার্থই তাদের কাছে আসল গুরুত্বের বিষয়। সেজন্য তারা যে কোন জালেমকে সহযোগিতা করতে, যে কোন স্বৈরাচারের সামনে মাথা নত করতে, যে কোন বাতিলকে গ্রহণ করতে এবং সত্যের যে কোন আওয়াজকে দাবিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে যায়।
এ আয়াতে যেমন ফির‘আউনকে, তেমনি তার কওমকেও গুনাহগার বলা হয়েছে। ফির‘আউনকে গুনাহগার বলার কারণ, সে তার রাজত্বকে ঈশ্বরত্বের নিদর্শন সাব্যস্ত করে নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবি করেছিল এবং এভাবে সে নিজ সম্প্রদায়কে বেকুব বানিয়েছিল। তার সম্প্রদায়কে গুনাহগার বলা হয়েছে এ কারণে যে, তারা এরূপ চরম বিভ্রান্ত ব্যক্তিকে নিজেদের রাজা মেনেনিয়েছিল এবং যাবতীয় গোমরাহী কাজে তার অনুসরণ করেছিল। এর দ্বারা জানা গেল, কোন পথভ্রষ্ট লোক যদি কোন জাতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে আর তারা তার পতন ঘটানোর চেষ্টা করার পরিবর্তে তার প্রতিটি অন্যায় কাজে তার আনুগত্য করে যায়, তবে তার মত তারাও সমান অপরাধী সাব্যস্ত হবে।
৫৪. এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে বোকা বানাল, ফলে তারা তার কথা মেনে নিল৷ নিশ্চয় তারা ছিল এক ফাসিক সম্প্রদায়।
(৫৪) এভাবে সে তার সম্প্রদায়কে বেওকুফ বানাল। আর ওরা তার কথা মেনে নিল।(1) ওরা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।
(1) اِستَخَفَّ قَومَه অর্থাৎ, اسْتَخَفَّ عُقُوْلَهُمْ সে তার জাতির জ্ঞানকে অতি তুচ্ছ ভাবল (তাদেরকে বেঅকুফ বানাল) অথবা তাদেরকে বোকা বানিয়ে তাদের মূর্খতা ও ভ্রষ্টতায় অটল থাকতে তাকীদ করল এবং জাতিও তার কথা মেনে নিল।