وَٱلَّذِي خَلَقَ ٱلۡأَزۡوَٰجَ كُلَّهَا وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ ٱلۡفُلۡكِ وَٱلۡأَنۡعَٰمِ مَا تَرۡكَبُونَ

ওয়াল্লাযী খালাকাল আঝওয়া-জা কুল্লাহা- ওয়াজা‘আলা লাকুম মিনাল ফুলকি ওয়াল আন‘আমি মাতারকাবূন।উচ্চারণ

তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি সমস্ত জোড়া সৃষ্টি করেছেন। ১২ যিনি তোমাদের জন্য নৌকা-জাহাজ এবং জীব-জন্তুকে সওয়ারি বানিয়েছেন যাতে তোমরা তার পিঠে আরোহণ করো তাফহীমুল কুরআন

এবং যিনি সর্বপ্রকার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহন করে থাক। মুফতী তাকী উসমানী

এবং যিনি যুগলসমূহের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও চতুস্পদ জন্তু যাতে তোমরা আরোহণ কর –মুজিবুর রহমান

এবং যিনি সবকিছুর যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং নৌকা ও চতুস্পদ জন্তুকে তোমাদের জন্যে যানবাহনে পরিণত করেছেন,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর যিনি সকল প্রকারের জোড়া যুগল সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও আন‘আম, যাতে তোমরা আরোহণ কর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যিনি সব কিছুই জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও গৃহপালিত জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ কর,আল-বায়ান

তিনি সব কিছুকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তোমাদের জন্য নৌযান ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা আরোহণ কর,তাইসিরুল

আর যিনি সমস্ত-কিছু জোড়ায়-জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন, আর তোমাদের জন্য নৌকা-জাহাজ ও গবাদি-পশুর মধ্যে বানিয়েছেন সেগুলো যা তোমরা চড়ো, --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২

জোড়া অর্থ শুধু মানবজাতির নারী ও পুরুষ এবং জীব-জন্তু ও উদ্ভিদরাজির নারী-পুরুষে জোড়াই বুঝানো হয়নি, বরং আল্লাহর সৃষ্ট আরো অসংখ্য জিনিসের জোড়া সৃষ্টির বিষয়ও বুঝানো হয়েছে যাদের পারস্পরিক সংমিশ্রনে পৃথিবীতে নতুন নতুন জিনিসের উৎপত্তি হয়। যেমনঃ উপাদানসমূহের মধ্যে কোনটি কোনটির সাথে খাপ খায় এবং কোনটি কোনটির সাথে খাপ খায় না। যেগুলো পরস্পর সংযোজন ও সংমিশ্রণ ঘটে সেগুলোর মিশ্রনে নানা রকম বস্তুর উদ্ভব ঘটছে। যেমন বিদ্যুৎ শক্তির মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিদ্যুৎ একটি আরেকটির জোড়া। এ দু’টির পারস্পরিক আকর্ষণ পৃথিবীতে বিস্ময়কর ও অদ্ভূত সব ক্রিয়াকাণ্ডের কারণ হচ্ছে। এটি এবং এ ধরনের আরো অগণিত জোড়া যা আল্লাহ‌ নানা ধরনের সৃষ্টির মধ্যে পয়দা করেছেন, এদের আকৃতি কাঠামো, এদের পারস্পরিক যোগ্যতা, এদের পারস্পরিক আচরণের বিচিত্র রূপ এবং এদের পারস্পারিক সংযুক্তি থেকে সৃষ্ট ফলাফল নিয়ে যদি মানুষ চিন্তা-ভাবনা করে তাহলে তার মন এ সাক্ষ্য না দিয়ে পারবে না যে, এ গোটা বিশ্ব কারখানা কোন একজন মহাপরাক্রমশালী মহাজ্ঞানবান কারিগরের তৈরী এবং তাঁরই ব্যবস্থাপনায় এটি চলছে। এর মধ্যে একাধিক খোদার অধিকার থাকার কোন সম্ভাবনাই নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মানুষ যেসব বাহনে আরোহণ করে তা দু’রকম। (এক) এমন সব বাহন, যার নির্মাণে মানুষের কোনও না কোনও রকমের ভূমিকা থাকে। নৌযান দ্বারা এ জাতীয় বাহনের দিকে ইশারা করা হয়েছে। (দুই) দ্বিতীয় প্রকারের বাহন এমন, যার তৈরিতে মানুষের কোনও রকম ভূমিকা থাকে না, যেমন ঘোড়া, উট ও সওয়ারীর অন্যান্য জন্তু। চতুষ্পদ জন্তু বলে এ জাতীয় বাহনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আয়াতে বোঝানো উদ্দেশ্য যে, উভয় প্রকারের যানবাহন মানুষের প্রতি আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নি‘আমত। মানুষ যেসব পশুতে আরোহণ করে, তা মানুষ অপেক্ষা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে মানুষের এমন বশীভূত করে দিয়েছেন যে, একটি শিশুও লাগাম ধরে তাদেরকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারে। যে সকল যানবাহন তৈরিতে মানুষের কিছুটা ভূমিকা থাকে, যেমন নৌকা, জাহাজ, রেলগাড়ি প্রভৃতি, তার কাঁচামালও আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলাই মানুষকে এমন যোগ্যতা ও ক্ষমতা দান করেছেন, যার বলে সে তা দ্বারা এসব যানবাহন তৈরি করতে পারছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২. আর যিনি সকল প্রকারের জোড়া যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এমন নৌযান ও গৃহপালিত জন্তু যাতে তোমরা আরোহণ কর;

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২) যিনি সমস্ত জোড়াসমূহকে সৃষ্টি করেছেন(1) এবং তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন জলযান ও পশু, যাতে তোমরা আরোহণ কর।

(1) অর্থাৎ, প্রত্যেক জিনিসকে জোড়া জোড়া বানিয়েছেন; নর ও নারী। যাবতীয় উদ্ভিদ, শস্য, ফল-মূল এবং জীবজন্তু সবেই রয়েছে পুং-স্ত্রীর এই ধারা। কেউ কেউ বলেছেন, এ থেকে পরস্পর বিপরীত জিনিসগুলোকে বুঝানো হয়েছে। যেমন, আলো-আঁধার, সুস্থতা-অসুস্থতা, সুবিচার-অবিচার, ভাল-মন্দ, ঈমান-কুফর, কোমলতা-কঠোরতা ইত্যাদি। কেউ বলেছেন, এখানে أزواج (জোড়া) মানে বিভিন্ন প্রকার। অর্থাৎ, সমস্ত প্রকার বস্তুর স্রষ্টা আল্লাহ।