ٱلَّذِي جَعَلَ لَكُمُ ٱلۡأَرۡضَ مَهۡدٗا وَجَعَلَ لَكُمۡ فِيهَا سُبُلٗا لَّعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُونَ

আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা মাহদাওঁ ওয়া জা‘আলা লাকুম ফীহা-ছুবুলাল লা‘আল্লাকুম তাহতাদূন।উচ্চারণ

তিনিই তো সৃষ্টি করেছেন যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য দোলনা বানিয়েছেন এবং সেখানে তোমাদের জন্য রাস্তা তৈরী করে দিয়েছেন। যাতে তোমাদের গন্তব্যস্থলের পথ খুঁজে পাও। তাফহীমুল কুরআন

যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বানিয়েছেন বিছানা এবং তোমাদের জন্য তাতে বিভিন্ন পথ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।মুফতী তাকী উসমানী

যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন শয্যা এবং ওতে করেছেন তোমাদের চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার;মুজিবুর রহমান

যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন শয্যা এবং এতে করেছেন তোমাদের চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য শয্যা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য বানিয়েছেন চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার।আল-বায়ান

যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন বিস্তৃত, আর তাতে তোমাদের জন্য বানিয়েছেন চলার পথ- যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার।তাইসিরুল

যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন এক খাটিয়া, আর এতে তৈরী করেছেন তোমাদের কারণে পথসমূহ, যাতে তোমরা পথের দিশা পেতে পার,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

ভূ-পৃষ্ঠে পাহাড়ের মাঝে গিরিপথ এবং পাহাড়ী ও সমতল ভূমি অঞ্চলে নদী হচ্ছে সেই সব প্রাকৃতিক পথ যা আল্লাহ‌ তৈরী করেছেন। এসব পথ ধরেই মানুষ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। পর্বত শ্রেনীকে যদি কোন ফাঁক ছাড়া একেবারে নিশ্ছিদ্র প্রাচীরের মত করে দাঁড় করানো হতো এবং ভূ-পৃষ্ঠের কোথাও কোন সমুদ্র, নদী-নালা না থাকতো তাহলে মানুষ যেখানে জন্ম গ্রহণ করেছিলো সেখানেই আবদ্ধ হয়ে পড়তো। আল্লাহ‌ আরো অনুগ্রহ করেছেন এই যে, তিনি গোটা ভূ-ভাগকে একই রকম করে সৃষ্টি করেননি, বরং তাতে নানা রকমের এমন সব পার্থক্যসূচক চিহ্ন (Land marks) রেখে দিয়েছেন যার সাহায্যে মানুষ বিভিন্ন এলাকা চিনতে পারে এবং এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলের পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারে। এটা আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় যার সাহায্যে পৃথিবীতে মানুষের চলাচল সহজ সাধ্য হয়েছে। মানুষের যখন বিশাল কোন মরুভূমিতে যাওয়ার সুযোগ হয়, যেখানে মাইলের পর মাইল এলাকায় কোন পার্থক্যসূচক চিহ্ন থাকে না এবং মানুষ বুঝতে পারে না সে কোথা থেকে কোথায় এসে পৌঁছেছে এবং সামনে কোন্ দিকে যেতে হবে তখন সে এই নিয়ামতের মর্যাদা বুঝতে পারে।

এ আয়াতাংশ একই সাথে দু’টি অর্থ প্রকাশ করছে। একটি হচ্ছে, এসব প্রাকৃতিক রাস্তা ও রাস্তার চিহ্নসমূহের সাহায্যে তোমরা তোমাদের পথ চিনে নিতে পার এবং যেখানে যেতে চাও সেখানে পৌঁছতে পার। আরেকটি অর্থ হচ্ছে, মহিমান্বিত আল্লাহর এসব কারিগরি দেখে হিদায়াত লাভ করতে পার। প্রকৃত সত্য লাভ করতে পার এবং বুঝতে পার যে, পৃথিবীতে আপনা থেকেই এ ব্যবস্থা হয়ে যায়নি, বহু সংখ্যক খোদা মিলেও এ ব্যবস্থা করেনি, বরং মহাজ্ঞানী এক পালনকর্তা আছেন যিনি তার বান্দাদের প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে পাহাড় ও সমতল ভূমিতে এসব রাস্তা বানিয়েছেন এবং পৃথিবীর একেকটি অঞ্চলকে অসংখ্য পন্থায় ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি দান করেছেন যার সাহায্যে মানুষ এক অঞ্চলকে আরেক অঞ্চল থেকে আলাদা করে চিনতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১০. যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বানিয়েছেন শয্যা(১) এবং তাতে বানিয়েছেন তোমাদের চলার পথ(২), যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার;

(১) উদ্দেশ্য এই যে, পৃথিবীর বাহ্যিক আকার শয্যা বা বিছানার মত এবং এতে বিছানার অনুরূপ আরাম পাওয়া যায়। সুতরাং এটা গোলাকার হওয়ার পরিপন্থী নয়। অন্যান্য স্থানেও পৃথিবীকে বিছানা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (সূরা ত্বা-হা: ৫৩, সূরা আন নাবা: ৬) লক্ষণীয় যে, যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হচ্ছে, مهد শব্দটির এক অর্থ হচ্ছে, সুস্থির বিছানা বা শয্যা। অপর অর্থ হচ্ছে, দোলনা। অর্থাৎ একটি শিশু যেভাবে তার দোলনার মধ্যে আরামে শুয়ে থাকে মহাশূন্যে ভাসমান এই বিশাল গ্রহকে তোমাদের জন্য তেমনি আরামের জায়গা বানিয়ে দিয়েছেন। (ইবনে কাসীর, জালালাইন, আয়সার আত-তাফসির)

(২) ভূ-পৃষ্ঠে পাহাড়ের মাঝে গিরিপথ এবং পাহাড়ী ও সমতল ভূমি অঞ্চলে নদী হচ্ছে সেই সব প্রাকৃতিক পথ যা আল্লাহ তৈরী করেছেন। (তাবারী, সা'দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০) যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন শয্যাস্বরূপ(1) এবং ওতে করেছেন তোমাদের চলার পথ, যাতে তোমরা সঠিক পথ লাভ করতে পার। (2)

(1) এমন শয্যা বা বিছানা যা স্থির ও স্থিতিশীল। তোমরা এর উপর চলাফেরা কর, দন্ডায়মান হও, নিদ্রা যাও এবং যেখানে ইচ্ছা যাতায়াত কর। তিনি এটাকে পর্বতমালা দ্বারা সুদৃঢ় করে দিয়েছেন; যাতে তা নড়াচড়া না করে।

(2) অর্থাৎ, এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতের জন্য রাস্তা বানিয়ে দিয়েছেন। যাতে কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য তোমরা যাওয়া-আসা করতে পার।