আল্লা-হু লাতীফুম বি‘ইবা-দিহী ইয়ারঝুকুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া হুওয়াল কাবিইয়ুল ‘আঝীঝ।উচ্চারণ
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান। ৩৪ যাকে যা ইচ্ছা তাই দান করেন। ৩৫ তিনি মহা শক্তিমান ও মহা পরাক্রমশালী। ৩৬ তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহ নিজ বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি যাকে চান রিযক দান করেন এবং তিনিই শক্তিমান, পরাক্রমশালী।মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিয্ক দান করেন। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী।মুজিবুর রহমান
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা, রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু; তিনি যাকে ইচ্ছা রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিয্ক দান করেন। আর তিনি মহাশক্তিধর, মহাপরাক্রমশালী।আল-বায়ান
আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের প্রতি মেহেরবান, তিনি যাকে যা ইচ্ছে রিযক দেন। তিনি প্রবল, মহাপরাক্রমশালী।তাইসিরুল
আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি পরম দয়ালু, তিনি যাকে ইচ্ছা করেন রিযেক দান করেন, আর তিনি মহাবলীয়ান, মহাশক্তিশালী।মাওলানা জহুরুল হক
৩৪
মূল আয়াতে لَطِيفٌ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, যার সঠিক ও পূরা অর্থ “দয়ালু” শব্দ দ্বারা প্রকাশ পায় না। এ শব্দটির মধ্যে দু'টি অর্থ আছে। একটি অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি অত্যন্ত স্নেহ, মায়া ও বদান্যতা প্রবণ। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শিতার সাথে তার এমন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রয়োজনের প্রতিও লক্ষ্য রাখেন যেখানে কারো দৃষ্টি যায় না। সে প্রয়োজনগুলো তিনি এমনভাবে পূরণ করেন যে বান্দা নিজেও উপলব্ধি করতে পারে না কে কখন তার কোন্ প্রয়োজন পূরন করেছে। তাছাড়া এখানে বান্দা অর্থ শুধু ঈমানদারেরাই নয়, বরং সমস্ত বান্দা। আল্লাহর এই দয়া ও মেহেরবানী তাঁর সব বান্দার জন্য সমান।
৩৫
অর্থাৎ তাঁর এই নির্বিশেষ মেহেরবানীর দাবী এ নয় যে, সব বান্দাকেই সব কিছু সমানভাবে দেয়া হবে। যদিও সবাইকে তিনি তাঁর নিজের ভাণ্ডার থেকেই দিচ্ছেন। কিন্তু সেই দান একই প্রকৃতির নয়। একজনকে দিয়েছেন একটি জিনিস আরেকজনকে অন্য একটি জিনিস। একজনকে একটি জিনিস প্রচুর পরিমাণে দিয়ে থাকেন অপর একজনকে অন্য কোন জিনিস অঢেল দান করেছেন।
৩৬
অর্থাৎ তাঁর দান ও পুরস্কারের এই ব্যবস্থা নিজের শক্তিতেই চলছে। কারো ক্ষমতা নেই তা পরিবর্তন করতে পারে বা জোরপূর্বক তাঁর নিকট থেকে কিছু নিতে পারে কিংবা কাউকে দান করার ব্যাপারে তাকে বিরত রাখতে পারে।
১৯. আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত কোমল; তিনি যাকে ইচ্ছে রিযিক দান করেন।(১) আর তিনি সর্বশক্তিমান, প্ৰবল পরাক্রমশালী।
(১) অভিধানে لطيف শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইবনে আব্বাস এর অর্থ করেছেন, দয়ালু, পক্ষান্তরে মুকাতিল করেছেন অনুগ্রহকারী। অন্য অর্থ, সুক্ষদর্শী। মুকাতিল বলেন, আল্লাহ তা'আলা সমস্ত বান্দার প্রতিই দয়ালু। এমনকি কাফের এবং পাপাচারীর উপরও দুনিয়াতে তাঁর নেয়ামত বর্ষিত হয়। বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ও কৃপা অসংখ্য প্রকার।
আল্লাহ তা'আলার রিযিক সমগ্র সৃষ্টির জন্যে ব্যাপক। স্থলে ও জলে বসবাসকারী যেসব জন্তু সম্পর্কে কেউ কিছুই জানে না, আল্লাহর রিযিক তাদের কাছেও পৌছে। আয়াতে যাকে ইচ্ছা রিযিক দেন, বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলার রিযিক অসংখ্য প্রকার। জীবনধারণের উপযোগী রিযিক সবাই পায়। এরপর বিশেষ প্রকারের রিযিক বন্টনে তিনি বিভিন্ন স্তর ও মাপ রেখেছেন। কাউকে ধন-সম্পদের রিযিক অধিক দান করেছেন। কাউকে স্বাস্থ্য ও শক্তির, কাউকে জ্ঞান এবং কাউকে অন্যান্য প্রকার রিযিক দিয়েছেন। এভাবে প্রত্যেক মানুষ অপরের মুখাপেক্ষীও থাকে এবং এই মুখাপেক্ষিতাই তাদেরকে পারস্পারিক সাহায্য ও সহযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করে, যার উপর মানব সভ্যতার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। (দেখুন: কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর)
(১৯) আল্লাহ তাঁর দাসদের প্রতি অতি স্নেহশীল; তিনি যাকে ইচ্ছা রুযী দান করেন। আর তিনিই প্রবল, পরাক্রমশালী।