إِنَّ ٱلَّذِينَ يُلۡحِدُونَ فِيٓ ءَايَٰتِنَا لَا يَخۡفَوۡنَ عَلَيۡنَآۗ أَفَمَن يُلۡقَىٰ فِي ٱلنَّارِ خَيۡرٌ أَم مَّن يَأۡتِيٓ ءَامِنٗا يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۚ ٱعۡمَلُواْ مَا شِئۡتُمۡ إِنَّهُۥ بِمَا تَعۡمَلُونَ بَصِيرٌ

ইন্নাল্লাযীনা ইউলহিদূ না ফীআ-য়া-তিনা-লা-ইয়াখফাওনা ‘আলাইনা- আফামাইঁ ইউলক-ফিন্না-রি খাইরুন আমমাইঁ ইয়া’তী আ-মিনাইঁ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ই‘মালূ মা-শি’তুম ইন্নাহূবিমা-তা‘মালূনা বাসীর।উচ্চারণ

যারা ৪৮ আমার আয়াতসমূহের উল্টা অর্থ করে ৪৯ তারা আমার অগোচরে নয়। ৫০ নিজেই চিন্তা করে দেখো যে ব্যক্তিকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে সেই ব্যক্তিই ভাল, না যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন নিরাপদ অবস্থায় হাজির হবে সে-ই ভালো? তোমরা যা চাও করতে থাকো, আল্লাহ‌ তোমাদের সব কাজ দেখছেন। তাফহীমুল কুরআন

আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে যারা বাঁকা পথ অবলম্বন করে, #%১৮%# তারা আমার অগোচর নয়। আচ্ছা বলতো, যে ব্যক্তিকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, সে উত্তম, না সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে নির্ভয়ে-নিরাপদে? তোমরা যা ইচ্ছা করে নাও। জেনে রেখ, তোমরা যা করছ তিনি সবই দেখছেন।মুফতী তাকী উসমানী

যারা আমার আয়াতসমূহকে বিকৃত করে তারা আমার অগোচর নয়। শ্রেষ্ঠ কে? যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে, নাকি যে কিয়ামাত দিবসে নিরাপদে থাকবে সে? তোমাদের যা ইচ্ছা তা কর; তোমরা যা কর তিনি তার দ্রষ্টা।মুজিবুর রহমান

নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে বক্রতা অবলম্বন করে, তারা আমার কাছে গোপন নয়। যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না যে কেয়ামতের দিন নিরাপদে আসবে? তোমরা যা ইচ্ছা কর, নিশ্চয় তিনি দেখেন যা তোমরা কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আমার আয়াতসমূহকে বিকৃত করে তারা আমার অগোচর নয়। শ্রেষ্ঠ কে-যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে থাকবে সে ? তোমাদের যা ইচ্ছা কর; তোমরা যা কর তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহ বিকৃত করে তারা আমার অগোচরে নয়। যে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে সে কি উত্তম, না যে কিয়ামত দিবসে নিরাপদভাবে উপস্থিত হবে? তোমাদের যা ইচ্ছা আমল কর। নিশ্চয় তোমরা যা আমল কর তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।আল-বায়ান

যারা আমার আয়াতসমূহের অর্থকে ভিন্নপথে পরিচালিত করে, তারা আমার থেকে লুক্কায়িত নয়। যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সেই উত্তম না ঐ ব্যক্তি যে ক্বিয়ামতের দিন সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে হাজির হবে? তোমাদের যা ইচ্ছে হয় করতে থাক। তোমরা যা কর তা তিনি (খুব ভালভাবেই) দেখেন।তাইসিরুল

নিঃসন্দেহ যারা বেঁকে বসে আমাদের নির্দেশাবলীসন্বন্ধে তারা আমাদের থেকে লুকিয়ে থাকা নয়। তবে কি যাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে সে অধিকতর ভাল, না সে, যে কিয়ামতের দিনে নিরাপত্তার সাথে হাজির হবে? তোমরা যা চাও করে যাও, নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছ সে-সন্বন্ধে তিনি সর্বদ্রষ্টা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৮

যে তাওহীদ ও আখেরাত বিশ্বাসের দিকে মুহাম্মাদ ﷺ আহবান জানাচ্ছেন সেটি যুক্তিসঙ্গত এবং বিশ্ব-জাহানের নিদর্শনাবলী তারই সত্যতা প্রতিপাদন করছে, কয়েকটি বাক্যে জনসাধারণকে একথা বুঝানোর পর পুনরায় বক্তব্যের মোড় সেই সব বিরোধীদের দিকে ফিরছে যারা হঠকারিতার মাধ্যমে বিরোধিতা করার জন্য এক পায়ে দাঁড়িয়েছিলো।

৪৯

মূল আয়াতে ব্যবহৃত বাক্যাংশ হচ্ছে يُلْحِدُونَ فِي آيَاتِنَا (আমার আয়াতসমূহে ইলহাদ করে) ‘ইলহাদ’ অর্থ ফিরে যাওয়া, সোজা পথ ছেড়ে বাঁকা পথের দিকে যাওয়া, বক্রতা অবলম্বন করা। আল্লাহ‌র আয়াতসমূহে ইলহাদের অর্থ হচ্ছে কোন ব্যক্তি কর্তৃক সোজা কথার বাঁকা অর্থ করার চেষ্টা করা। আল্লাহ‌র আয়াতসমূহের শুদ্ধ ও সঠিক অর্থ গ্রহণ না করে সব রকম মিথ্যা ও ভুল অর্থ করে নিজেও পথভ্রষ্ট হওয়া এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করতে থাকা। মক্কার কাফেররা কুরআন মজীদের দাওয়াত ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য যে চক্রান্ত করছিলো তার মধ্যে ছিল, তারা কুরআনের আয়াত শুনে তারপর কোন আয়াতকে পূর্বাপর প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে, কোন আয়াতের শাব্দিক বিকৃতি ঘটিয়ে কোন বাক্যাংশ বা শব্দের ভুল বা মিথ্যা অর্থ করে নানা রকমের প্রশ্ন উত্থাপন করতো এবং এই বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতো যে, আজ নবী সাহেব কি বলেছেন তা শোন।

৫০

এ কথাটির মধ্যে একটি হুমকি প্রচ্ছন্ন আছে। ক্ষমতাবান শাসক যদি বলেন, “অমুক ব্যক্তি যে আচরণ করছে তা আমার কাছে গোপন নয়” তাহলে আপনা থেকেই সে কথার অর্থ দাঁড়ায়, তার বাঁচার কোন উপায় নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বাঁকা পথ অবলম্বনের অর্থ, আয়াত না মানা কিংবা তার ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া। আয়াতে যে শাস্তির ধমক দেওয়া হয়েছে, তা উভয় অবস্থায়ই প্রযোজ্য।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪০. নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহে ইলাহাদ করে, তারা আমার অগোচরে নয়। যে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে সে কি শ্ৰেষ্ঠ, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে উপস্থিত হবে সে? তোমরা যা ইচ্ছে আমল কর। তোমরা যা আমল কর, নিশ্চয় তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪০) নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহে বক্রপথ অবলম্বন করে(1) তারা আমার অগোচর নয়।(2) যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ; না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে উপস্থিত হবে সে?(3) তোমাদের যা ইচ্ছা কর,(4) নিশ্চয় তোমরা যা কর, তিনি তার দ্রষ্টা।

(1) অর্থাৎ, সেগুলোকে মানে না, বরং সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তা মিথ্যা ভাবে। ইবনে আববাস (রাঃ) إلحاد  এর অর্থ করেছেন, বিকৃত বা অপব্যাখ্যা করা। যার ভিত্তিতে এতে সেই ভ্রষ্ট দলগুলোও চলে আসে, যারা নিজেদের ভ্রান্ত আকীদা ও মতবাদকে সাব্যস্ত করার জন্য আল্লাহর আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যা করে এবং তার অর্থে বিকৃতি সাধন ও হেরফেরও করে।

(2) এটা হল আল্লাহর আয়াতে সর্বপ্রকার বাঁকাপথ অবলম্বনকারীদের জন্য কঠিন ধমক।

(3) অর্থাৎ, এরা উভয়ে কি সমান হতে পারে? না, কক্ষনো না। তাছাড়াও এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, বাঁকাপথ অবলম্বনকারীরা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে এবং ঈমানদাররা কিয়ামতের দিন নিরাপদে ভয়শূন্য থাকবে।

(4) এ বাক্য আজ্ঞা ও সম্মতিসূচক, কিন্তু এর উদ্দেশ্য ভয় দেখানো ও ধমকি দেওয়া। এতে কুফরী, শিরক এবং পাপাচরণের অনুমতি ও তার বৈধতার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।