ওয়া ক-লাল্লাযীনা কাফারূ লা-তাছমা‘ঊ লিহা-যাল কুরআ-নি ওয়ালগাও ফীহি লা‘আল্লাকুম তাগলিবূন।উচ্চারণ
এসব কাফেররা বলে, এ কুরআন তোমরা কখনো শুনবে না। আর যখন তা শুনানো হবে তখন হট্টগোল বাধিয়ে দেবে। হয়তো এভাবে তোমরা বিজয়ী হবে। ৩০ তাফহীমুল কুরআন
এবং কাফেরগণ (একে অন্যকে) বলে, এই কুরআন শুনো না এবং এর (পাঠের) মাঝে হট্টগোল কর, যাতে তোমরা জয়ী থাক।মুফতী তাকী উসমানী
কাফিরেরা বলেঃ তোমরা এই কুরআন শ্রবণ করনা এবং তা আবৃত্তি কালে শোরগোল সৃষ্টি কর যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।মুজিবুর রহমান
আর কাফেররা বলে, তোমরা এ কোরআন শ্রবণ করো না এবং এর আবৃত্তিতে হঞ্জগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কাফিররা বলে, ‘তোমরা এই কুরআন শোন না এবং তা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি কর যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর কাফিররা বলে, ‘তোমরা এ কুরআনের নির্দেশ শুন না এবং এর আবৃত্তি কালে শোরগোল সৃষ্টি কর, যেন তোমরা জয়ী হতে পার।’আল-বায়ান
কাফিররা বলে- এ কুরআন শুনো না, আর তা পড়ার কালে শোরগোল কর যাতে তোমরা বিজয়ী হতে পার।তাইসিরুল
আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলে -- "এই কুরআন শুনো না, আর এতে শোরগোল করো, যাতে তোমরা দমন করতে পারো।"মাওলানা জহুরুল হক
৩০
মক্কার কাফেররা যেসব পরিকল্পনার মাধ্যমে নবী ﷺ এর আন্দোলন ও তাঁর প্রচারকে ব্যর্থ করে দিতে চাচ্ছিলো এটি ছিল তারই একটি। কুরআন কি অসাধারণ প্রভাব ক্ষমতার অধিকারী, কুরআনের দাওয়াত পেশকারী ব্যক্তি কেমন অতুলনীয় মর্যাদা সম্পন্ন মানুষ এবং তাঁর এহেন ব্যক্তিত্বের সাথে উপস্থাপনার ভঙ্গি কেমন বিস্ময়করভাবে কার্যকর তা তারা ভালো করেই জানতো। তারা মনে করতো, এ রকম উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তির মুখ থেকে এমন হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিতে এই নজিরবিহীন বাণী যেই শুনবে সে শেষ পর্যন্ত ঘায়েল হবেই। অতএব তারা পরিকল্পনা করলো, এ বাণী না নিজে শুনবে, না কাউকে শুনতে দেবে। মুহাম্মাদ ﷺ যখনই তা শুনাতে আরম্ভ করবেন তখনই হৈ চৈ করবে। তালি বাজাবে, বিদ্রূপ করবে, আপত্তি ও সমালোচনার ঝড় তুলবে এবং চিৎকার জুড়ে দেবে যেন তার মধ্যে তাঁর কথা হারিয়ে যায়। তারা আশা করতো, এই কৌশল অবলম্বন করে তারা আল্লাহর নবীকে ব্যর্থ করে দেবে।
২৬. আর কাফিররা বলে, তোমরা এ কুরআনের নির্দেশ শোন না এবং তা আবৃত্তির সময় শোরগোল সৃষ্টি কর, যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।
(২৬) অবিশ্বাসীরা বলে, ‘তোমরা এ কুরআন শ্রবণ করো না(1) এবং তা আবৃত্তিকালে শোরগোল সৃষ্টি কর;(2) যাতে তোমরা জয়ী হতে পার।’(3)
(1) এ কথা তারা আপোসে বলাবলি করে। কেউ কেউ لاَ تَسْمَعُوْا (এ কুরআন শুনো না) এর অর্থ করেছেন, তার অনুসরণ করো না। তার কথা মেনো না।
(2) অর্থাৎ, চেঁচামেচি কর, তালি বাজাও, শিস্ দাও এবং চিৎকার করে কথা বল, যাতে উপস্থিত জনগণের কানে কুরআনের আওয়াজ না পৌঁছে এবং তাদের অন্তর কুরআনের লালিত্যময় ভাষা ও তার চমৎকারিত্বে যেন প্রভাবিত না হয়ে যায়।
(3) অর্থাৎ, সম্ভবতঃ এইভাবে চিৎকার করার কারণে মুহাম্মাদ কুরআন পাঠ করাই ছেড়ে দেবে; যা শুনে মানুষ প্রভাবিত হয়।