ওয়াক-লূলিজুলূদিহিম লিমা শাহিত্তুম ‘আলাইনা- ক-লূআনতাকানাল্লা-হুল্লাযী আনতাকা কুল্লা শাইয়িওঁ ওয়া হুওয়া খালাকাকুম আওওয়ালা মাররতিওঁ ওয়া ইলাইহি তুর জা‘ঊন।উচ্চারণ
তারা তাদের শরীরের চামড়াসমূহকে বলবে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা জবাব দেবে, সেই আল্লাহই আমাদের বাকশক্তি দান করেছেন যিনি প্রতিটি বস্তুকে বাকশক্তি দান করেছেন। ২৬ তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। আর এখন তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাফহীমুল কুরআন
তারা তাদের চামড়াকে বলবে, তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, আল্লাহ আমাদেরকে বাকশক্তি দান করেছেন, যিনি বাকশক্তি দান করেছেন প্রতিটি জিনিসকে। তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার আর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।মুফতী তাকী উসমানী
জাহান্নামীরা তাদের ত্বককে জিজ্ঞেস করবেঃ তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন? উত্তরে তারা বলবেঃ আল্লাহ! যিনি সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।মুজিবুর রহমান
তারা তাদের ত্বককে বলবে, তোমরা আমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিলে কেন? তারা বলবে, যে আল্লাহ সব কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরকেও বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
জাহান্নামীরা এদের ত্বককে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেছ কেন ?’ উত্তরে এরা বলবে, ‘আল্লাহ্, যিনি আমাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন তিনি সমস্ত কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন প্রথমবার এবং তাঁরই নিকটে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তারা তাদের চামড়াগুলোকে বলবে, ‘কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে’? তারা বলবে, ‘আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই প্রতি তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’আল-বায়ান
তারা তাদের চামড়াকে বলবে- আমাদের বিরুদ্ধে কেন সাক্ষ্য দিচ্ছ? তারা উত্তর দিবে- আল্লাহ আমাদেরকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন, যিনি সব কিছুকেই (আজ) কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনিই প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।তাইসিরুল
আর তারা নিজেদের ছাল-চামড়াকে বলবে -- "তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?" তারা বলবে -- আল্লাহ্ যিনি সব- কিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদের কথা বলিয়েছেন।" আর তিনি তোমাদের প্রথমবারে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।মাওলানা জহুরুল হক
২৬
এ থেকে জানা গেল কিয়ামতের দিন মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই শুধু সাক্ষ্য দেবে না, যেসব জিনিসের সামনে মানুষ কোন কাজ করেছিলো তার প্রতিটি জিনিসই কথা বলে উঠবে। সূরা যিলযালে এ কথাই বলা হয়েছেঃ
وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا -وَقَالَ الْإِنْسَانُ مَا لَهَا - يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا - بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَى لَهَا
“মাটির গভীরে যেসব ভান্ডার পরিপূর্ণ হয়ে আছে তা সে বের করে দেবে। মানুষ বলবে এ কি ব্যাপার! সে দিন যমীন তার সব কথা শুনাবে (অর্থাৎ মানুষ তার উপরিভাগে যা যা করেছে তার সব কাহিনী বলে দেবে)। কারণ, তোমার রব তাকে বর্ণনা করার আদেশ প্রদান করবেন।”
২১. আর তারা (জাহান্নামীরা) তাদের ত্বককে বলবে, কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে? তারা বলবে, আল্লাহ্ আমাদেরকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা প্ৰত্যাবর্তিত হবে।
(২১) জাহান্নামীরা ওদের চামড়াকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে কেন?’(1) উত্তরে চামড়া বলবে, ‘আল্লাহ যিনি সমস্ত কিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন, তিনি আমাদেরও বাকশক্তি দিয়েছেন।’ তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে। (2)
(1) অর্থাৎ, মুশরিক ও কাফেররা যখন দেখবে যে, তাদেরই অঙ্গগুলো তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে, তখন বিস্মিত অথবা ক্ষুব্ধ হয়ে ধমকের স্বরে এ কথা বলবে।
(2) কেউ কেউ وَهُوَ (তিনি তোমাদেরকে) থেকে আল্লাহর উক্তি বলেছেন। এই দিক দিয়ে এটা হবে ‘জুমলাহ মুস্তা’নিফাহ’ (বিচ্ছিন্ন নতুন বাক্য)। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এটা মানুষের চামড়ারই কথা। এই দিক দিয়ে এটা হবে সেই কথার অবশিষ্ট অংশ। কিয়ামতের দিন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ইতিপূর্বে সূরা নূরের ২৪নং আয়াতে এবং সূরা ইয়াসীনের ৬৫নং আয়াতেও উল্লিখিত হয়েছে। অনুরূপ সহীহ হাদীসসমূহে এ কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, যখন আল্লাহর নির্দেশে মানুষের অঙ্গগুলো বাক্যালাপে সব কিছু বলে দেবে, তখন বান্দা বলবে, بُعْدًا لَّكُنَّ وَسُحْقًا، فَعَنْكُنَّ كُنْتُ أُنَاضِلُ ‘‘তোমরা ধ্বংস হও, দূর হও। আমি তোমাদের জন্যই ঝগড়া ও দোষখন্ডন করছিলাম।’’ (মুসলিমঃ কিতাবুয্ যুহদ) এই বর্ণনাতেই এসেছে যে, বান্দা বলবে, ‘আমি আমার নিজের দেহ ব্যতীত অন্য কারো সাক্ষ্য মানব না।’ তখন মহান আল্লাহ বলবেন, ‘আমি এবং আমার সম্মানিত লেখক ফিরিশতাগণ কি সাক্ষীর জন্য যথেষ্ট নই?’ অতঃপর তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের অঙ্গগুলোকে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হবে। (ঐ)