إِذۡ جَآءَتۡهُمُ ٱلرُّسُلُ مِنۢ بَيۡنِ أَيۡدِيهِمۡ وَمِنۡ خَلۡفِهِمۡ أَلَّا تَعۡبُدُوٓاْ إِلَّا ٱللَّهَۖ قَالُواْ لَوۡ شَآءَ رَبُّنَا لَأَنزَلَ مَلَـٰٓئِكَةٗ فَإِنَّا بِمَآ أُرۡسِلۡتُم بِهِۦ كَٰفِرُونَ

ইযজাআতহুমুর রুছুলুমিম বাইনি আইদীহিম ওয়া মিন খালফিহিম আল্লা-তা‘বুদূ ইল্লাল্লাহা ক-লূলাও শাআ রব্বুনা-লাআনঝালা মালাইকাতান ফাইন্না-বিমাউরছিলতুম বিহী ক-ফিরূন।উচ্চারণ

সামনে ও পেছনে সব দিক থেকে যখন তাদের কাছে আল্লাহ‌র রসূল এলো ১৮ এবং তাদেরকে বুঝালো আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারো দাসত্ব করো না তখন তারা বললোঃ আমাদের রব ইচ্ছা করলে ফেরেশতা পাঠাতে পারতেন। সুতরাং তোমাদেরকে যে জন্য পাঠানো হয়েছে আমরা তা মানি না। ১৯ তাফহীমুল কুরআন

এটা সেই সময়ের কথা, যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিল (কখনও) তাদের সম্মুখ দিক থেকে এবং (কখনও) তাদের পিছন দিক থেকে, এই বার্তা নিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। তারা বলেছিল, আমাদের প্রতিপালক চাইলে ফেরেশতাদেরকে পাঠাতেন। সুতরাং তোমাদেরকে যে বিষয়সহ পাঠানো হয়েছে আমরা তা মানতে অস্বীকার করছি।মুফতী তাকী উসমানী

যখন তাদের নিকট রাসূলগণ এসেছিল তাদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে এবং বলেছিলঃ তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদাত করনা তখন তারা বলেছিলঃ আমাদের রবের এই রূপ ইচ্ছা হলে তিনি অবশ্যই মালাক/ফেরেশতা প্রেরণ করতেন। অতএব তোমরা যাসহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি।মুজিবুর রহমান

যখন তাদের কাছে রসূলগণ এসেছিলেন সম্মুখ দিক থেকে এবং পিছন দিক থেকে এ কথা বলতে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও পূজা করো না। তারা বলেছিল, আমাদের পালনকর্তা ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন, অতএব, আমরা তোমাদের আনীত বিষয় অমান্য করলাম।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন এদের নিকট রাসূলগণ এসেছিল এদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে এবং বলেছিল, ‘তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত কারও ‘ইবাদত কর না।’ তখন এরা বলেছিল, ‘আমাদের প্রতিপালকের এইরূপ ইচ্ছা হলে তিনি অবশ্যই ফেরেশতা প্রেরণ করতেন। অতএব তোমরা যাসহ প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা প্রত্যাখ্যান করলাম।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তাদের অগ্র ও পশ্চাৎ থেকে রাসূলগণ তাদের কাছে এসে বলেছিল যে, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না’। তারা বলেছিল, ‘যদি আমাদের রব ইচ্ছা করতেন তাহলে অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। অতএব, তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে নিশ্চয় আমরা তা প্রত্যাখ্যান করলাম।আল-বায়ান

তাদের কাছে যখন তাদের অগ্রে ও পশ্চাতে (একের পর এক) রসূলগণ এসেছিল (আর বলেছিল)- তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করো না। (জবাবে) তারা বলেছিল- আমাদের প্রতিপালক ইচ্ছে করলে তো অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। কাজেই তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তা অমান্য করছি।তাইসিরুল

স্মরণ করো! রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এই বলে -- "আল্লাহ্ ব্যতীত কারো উপাসনা করো না।" তারা বলেছিল -- "আমাদের প্রভু যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই ফিরিশ্‌তাদের পাঠাতে পারতেন, সেজন্য তোমাদের যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা আলবৎ তাতে অবিশ্বাসী।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮

এ আয়াতাংশের কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক, তাদের কাছে একের পর এক রসূল এসেছেন। দুই, রসূলগণ সব উপায় তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছেন এবং তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য কোন উপায় ও পন্থা গ্রহণ করতেই কসুর করেননি। তিন, তাদের নিজ দেশেও তাদের কাছে রসূল এসেছেন এবং তাদের আশেপাশের দেশসমূহেও রসূল এসেছেন।

১৯

অর্থাৎ আল্লাহ‌ যদি আমাদের এ ধর্ম পছন্দ না করতেন এবং এ ধর্ম থেকে বিরত রাখার জন্য আমাদের কাছে কোন রসূল পাঠাতে চাইতেন তাহলে ফেরেশতা পাঠাতেন। তোমরা যেহেতু ফেরেশতা নও, বরং আমাদের মত মানুষ। তাই তোমাদেরকে আল্লাহ‌ পাঠিয়েছেন, আমরা এ কথা মানতে প্রস্তুত নই আর তোমরা যে দ্বীন পেশ করছো আমরা আমাদের ধর্ম পরিত্যাগ করে তা গ্রহণ করি এ উদ্দেশ্যে আল্লাহ‌ তোমাদের পাঠিয়েছেন আমরা একথা মানতেও প্রস্তুত নই। “যে উদ্দেশ্যে তোমাদের পাঠানো হয়েছে” তা আমরা মানি না---কাফেরদের এ উক্তি ছিল তীব্র কটাক্ষ। এর অর্থ এ নয় যে, তারা সেটাকে আল্লাহ‌র প্রেরিত বলে জানতো কিন্তু তা সত্ত্বেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানাতো। বরং ফেরাউন হযরত মূসা (আঃ) সম্পর্কে তার সভাসদদেরকে যে ধরনের বিদ্রূপাত্মক উক্তি করেছিলো এটাও সে ধরনের বিদ্রূপাত্মক বর্ণনাভঙ্গি। ফেরাউন তার সভাসদদের বলেছিলোঃ

إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ (الشعراء : 27)

“যে রসূল সাহেবকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে তাঁকে তো বদ্ধ পাগল বলে মনে হয়।” (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কুরআন, সূরা ইয়াসীন, টীকা ১১)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এটা একটা বাকশৈলী। বোঝানো উদ্দেশ্য, রাসূলগণ তাদেরকে সকল পন্থায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪. যখন তাদের কাছে তাদের সামনে ও পিছন থেকে রাসূলগণ এসে বলেছিলেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। তারা বলেছিল, যদি আমাদের রব ইচ্ছে করতেন তবে তিনি অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। অতএব তোমরা যা সহ প্রেরিত হয়েছ, নিশ্চয় আমরা তার সাথে কুফরী করলাম।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৪) যখন ওদের নিকট ওদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ দিক হতে রসূলগণ এসেছিল (এবং তারা বলেছিল), ‘তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও উপাসনা করো না।’ তখন ওরা বলেছিল, ‘আমাদের প্রতিপালকের এরূপ ইচ্ছা হলে তিনি অবশ্যই ফিরিশতা প্রেরণ করতেন। অতএব তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করলাম।’ (1)

(1) অর্থাৎ, যেহেতু তুমি আমাদের মতনই মানুষ, তাই আমরা তোমাকে নবী মানতে পারি না। আল্লাহর নবী প্রেরণ করার প্রয়োজন হলে ফিরিশতা প্রেরণ করতেন; মানুষ নয়।