আল্লাযীনা লা-ইউ’তূনাঝঝাক-তা ওয়া হুম বিলআ-খিরতি হুম ক-ফিরূন।উচ্চারণ
যারা যাকাত দেয় না। ৯ এবং আখেরাত অস্বীকার করে। তাফহীমুল কুরআন
যারা যাকাত আদায় করে না। আবার তারা আখেরাতের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাসী।মুফতী তাকী উসমানী
যারা যাকাত প্রদান করেনা এবং তারা আখিরাতেও অবিশ্বাসী।মুজিবুর রহমান
যারা যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা যাকাত প্রদান করে না এবং এরা আখিরাতেও অবিশ্বাসী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যারা যাকাত দেয় না। আর তারাই আখিরাতের অস্বীকারকারী।আল-বায়ান
যারা যাকাত দেয় না, আর তারা আখিরাত অমান্য করে।তাইসিরুল
যারা যাকাত প্রদান করে না, আর আখেরাত সম্পর্কে তারা স্বয়ং অবিশ্বাসী।মাওলানা জহুরুল হক
৯
এখানে ‘যাকাত’ শব্দের অর্থ কি তা নিয়ে তাফসীরকারদের মধ্যে মতভেদ আছে। ইবনে আব্বাস ও তাঁর উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ছাত্র ইকরিমা ও মুজাহিদ বলেনঃ এখানে ‘যাকাত’ অর্থ আত্মার সেই পবিত্রতা যা তাওহীদের আকীদা এবং আল্লাহর আনুগত্য দ্বারা অর্জিত হয়। এই তাফসীর অনুসারে আয়াতের অনুবাদ হবে, যেসব মুশরিক পবিত্রতা অবলম্বন করে না তাদের জন্য ধ্বংস। তাফসীরকারদের আরেকটি গোষ্ঠী যার মধ্যে কাতাদা, সুদ্দী, হাসান বাসারী, দাহহাক, মুকাতিল ও ইবনুস সাইয়েবের মত তাফসীরকারক আছেন তাঁরা এখানে ‘যাকাত’ শব্দটিকে অর্থ-সম্পদের যাকাত অর্থ গ্রহণ করেন। এ ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতের অর্থ হবে, ‘যারা শিরক করে আল্লাহর হক এবং যাকাত না দিয়ে বান্দার হক মারে তাদের জন্য ধ্বংস।’
এ সূরাটি মক্কী। এ ছাড়া আরও কিছু মক্কী সূরায় যাকাত আদায়ের নির্দেশ রয়েছে। এর দ্বারা বোঝা যায়, যাকাত মক্কা মুকাররমায়ই ফরয হয়েছিল। অবশ্য এর বিস্তারিত বিধি-বিধান দেওয়া হয়েছে মদীনা মুনাওয়ারায়।
৭. যারা যাকাত প্ৰদান করে না এবং তারাই আখিরাতের সাথে কুফরিকারী।
(৭) যারা যাকাত প্রদান করে না(1) এবং ওরা পরকালে অবিশ্বাসী।
(1) এটা হল মক্কী সূরা। যাকাত হিজরী ২য় সনে মদীনায় ফরয হয়। কাজেই এ থেকে হয় (সাধারণ) সাদাকা বুঝানো হয়েছে, যার নির্দেশ মক্কাতেই মুসলিমদেরকে দেওয়া হয়েছিল। যেমন, শুরুতে কেবল সকাল ও সন্ধ্যায় নামায পড়ার নির্দেশ ছিল। অতঃপর হিজরতের দেড় বছর পূর্বে পাঁচওয়াক্ত নামায পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অথবা যাকাতের ব্যাপক নির্দেশ মক্কায় ছিল। অতপর মদীনায় তার নিসাব ও পরিমাণ নির্ধারণ হয়। অথবা এখানে ‘যাকাত’ বলতে (আভিধানিক অর্থে পবিত্রতা) কালেমা শাহাদত বুঝানো হয়েছে, যার দ্বারা মানুষের অন্তর শিরকের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র হয়ে যায়। (ইবনে কাসীর)