وَمَا يَسۡتَوِي ٱلۡأَعۡمَىٰ وَٱلۡبَصِيرُ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ وَلَا ٱلۡمُسِيٓءُۚ قَلِيلٗا مَّا تَتَذَكَّرُونَ

ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীরু ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসালিহা-তি ওয়ালাল মুছীউ কালীলাম মা-তাতাযাক্কারূন।উচ্চারণ

অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী এক রকম হতে পারে না এবং ঈমানদার ও সৎকর্মশীল এবং দুষ্কৃতিকারী সমান হতে পারে না, কিন্তু তোমরা কমই বুঝতে পারো। ৮০ তাফহীমুল কুরআন

অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয় এবং তারাও না, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং যারা অসৎকর্মশীল। (কিন্তু) তোমরা খুব কমই অনুধাবন কর।মুফতী তাকী উসমানী

সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুম্মান এবং যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, আর যারা দুস্কৃতিপরায়ণ। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।মুজিবুর রহমান

অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং যারা দুষ্কৃতিপরায়ণ। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সমান হয় না অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আর যারা অপরাধী। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।আল-বায়ান

অন্ধ আর চক্ষুষ্মান সমান নয়, (সমান নয়) যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আর যারা অন্যায়কারী। উপদেশ থেকে শিক্ষা তোমরা সামান্যই গ্রহণ কর।তাইসিরুল

আর অন্ধ ও চক্ষুষ্মান একসমান নয়, আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে এবং দুস্কর্মকারীরাও নয়। সামান্যই তা যা তোমরা মনোনিবেশ করে থাকো!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮০

এটি আখেরাতের অনিবার্যতার প্রমাণ। ওপরের আয়াতাংশে বলা হয়েছিলো যে, আখেরাত হতে পারে তা হওয়া অসম্ভব নয়। আর এ আয়াতাংশে বলা হচ্ছে যে, আখেরাত হওয়া অনিবার্য, অবধারিত। জ্ঞান-বুদ্ধি ও ইনসাফের দাবী হলো তা হতেই হবে। তা হওয়া নয়, না হওয়াই জ্ঞান-বুদ্ধি ও ইনসাফের পরিপন্থী। কোন যুক্তিবাদী মানুষ কি কখনো একথা সঠিক বলে মেনে নিতে পারে যে, যারা পৃথিবীতে অন্ধদের মত জীবন যাপন করে এবং নিজেদের দুশ্চরিত্র ও দুষ্কর্ম দ্বারা আল্লাহর পৃথিবীকে বিপর্যন্ত করে তোলে তারা তাদের ভুল আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কোন খারাপ পরিণাম আদৌ দেখবে না এবং অনুরূপ যারা দুনিয়াতে ভালমন্দ বিচার করে চলে এবং ঈমান গ্রহণ করে নেক কাজ করে, তারা নিজেদের এ উত্তম কর্মকাণ্ডের কোন ভালে ফলাফল থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে? এ বিষয়টি যদি জ্ঞান-বুদ্ধি ও ইনসাফের পরিপন্থী হয় তাহলে আখেরাত অস্বীকৃতির আকীদাও অবশ্যই জ্ঞান-বুদ্ধি ও ইনসাফের পরিপন্থী হতে হবে। কারণ, আখেরাত না হওয়ার অর্থ হচ্ছে ভাল ও মন্দ উভয় শ্রেণীর মানুষ মরে মাটিতে মিশে যাওয়া এবং উভয়ের একই পরিণতি লাভ করা। এরূপ হলে শুধু জ্ঞান-বুদ্ধি ও ইনসাফকেই হত্যা করা হয় না, বরং নৈতিকতাও মূলোৎপাটিত হয়। কারণ, ভাল ও মন্দ উভয় শ্রেণীর মানুষের যদি একই পরিণাম হয় তাহলে মন্দ লোকেরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এ কারণে যে, তারা মৃত্যুর পূর্বে হৃদয় মনের সমস্ত কামনা বাসনা পূরণ করেছে। আর সৎলোকেরা অত্যন্ত নির্বোধ এ কারণে যে, তারা অযথা নিজেদের ওপরে নানা রকমের বাধ্যবাধকতা আরোপ করে রেখেছিলো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৮. আর সমান হয় না অন্ধ ও চক্ষুষ্মান, অনুরূপ যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তারা আর মন্দকর্মকারী। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্ৰহণ করে থাক।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৮) সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান এবং যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে এবং যারা দুষ্কৃতিপরায়ণ।(1) তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।

(1) অর্থ হল, যেরূপ অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, অনুরূপ মু’মিন ও কাফের এবং নেককার ও বদকারও সমান নয়। বরং কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে যে বিরাট তফাৎ হবে, তা পরিষ্কারভাবে সামনে এসে যাবে।