লা-জারমা আন্নামা-তাদ‘ঊনানীইলাইহি লাইছা লাহূদা‘ওয়াতুনফিদ্দুনইয়া-ওয়ালা-ফিল আ-খিরতি ওয়া আন্না মারদ্দানাইলাল্লা-হি ওয়া আন্নাল মুসরিফীনা হুম আসহা-বুন্না-র।উচ্চারণ
না, সত্য হচ্ছে এই যে, তোমরা যেসব জিনিসের দিকে আমাকে ডাকছো, তাতে না আছে দুনিয়াতে কোন আবেদন না আছে আখেরাতে কোন আহ্বান। ৫৮ আমাদেরকে আল্লাহর দিকেই ফিরে যেতে হবে। আর সীমালংঘনকারী ৫৯ আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। এর ব্যতিক্রম হতে পারে না। তাফহীমুল কুরআন
সত্য তো এই যে, তোমরা যার দিকে আমাকে ডাকছ, তা কোন ডাকের উপযুক্তই নয়, না দুনিয়ায় এবং না আখেরাতে। #%১৭%# প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে আর যারা সীমালংঘনকারী, তারা হবে অগ্নিবাসী।মুফতী তাকী উসমানী
নিশ্চয়ই তোমরা আমাকে আহবান করছো এমন এক জনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও আহবানযোগ্য নয়। বস্তুতঃ আমাদের প্রত্যাবর্তনতো আল্লাহর নিকট এবং সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।মুজিবুর রহমান
এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, হইকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই! আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহর দিকে এবং সীমা লংঘকারীরাই জাহান্নামী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
নিঃসন্দেহে তোমরা আমাকে আহ্বান করছো এমন একজনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও আহ্বানযোগ্য নয়। বস্তুত আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহ্ র নিকট এবং সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, যার দিকে তোমরা আমাকে ডাকছ, সে দুনিয়া বা আখিরাতে কারো ডাকের যোগ্য নয়। আর আমাদের প্রত্যাবর্তন হবে আল্লাহর দিকে এবং নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা হবে আগুনের সাথী’।আল-বায়ান
কোন সন্দেহ নেই তোমরা আমাকে ডাকছ শুধু তার দিকে যে আহবান পাওয়ার যোগ্য নয়- না দুনিয়াতে, না আখিরাতে। আমাদের প্রত্যাবর্তন তো হল আল্লাহর দিকে আর সীমালঙ্ঘনকারীরা হল জাহান্নামের বাসিন্দা।তাইসিরুল
"কোনো সন্দেহ নেই যে তোমরা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করছ তার কোনো দাবি এই দুনিয়াতে নেই এবং পরকালেও নেই, আর আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহ্রই কাছে, আর নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা -- তারাই আগুনের বাসিন্দা।মাওলানা জহুরুল হক
৫৮
এ আয়াতাংশের কয়েকটি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ হচ্ছে, তাদের প্রভুত্ব মেনে নেয়ার জন্য আল্লাহর সৃষ্টিকে দাওয়াত দেয়ার অধিকার তাদের দুনিয়াতেও নেই আখেরাতেও নেই। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, মানুষ জোর করে তাদেরকে ইলাহ বানিয়েছে। অন্যথায় তারা নিজেরা না দুনিয়াতে প্রভুত্বের দাবী করে, না আখিরাতে এ দাবী করবে যে, আমরাও ইলাহ ছিলাম। তোমরা আমাদেরকে কেন মেনে নাওনি? তৃতীয় অর্থ তাদেরকে ডাকার কোন উপকার না এই দুনিয়ায় আছে, না আখেরাতে আছে। কেননা, তারা একেবারেই ক্ষমতা ও কর্তৃত্বহীন এবং তাদেরকে ডাকা একেবারেই অর্থহীন।
৫৯
‘সীমালঙ্ঘন করা” অর্থ ন্যায় ও সত্যকে লংঘন করা। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো প্রভুত্ব মেনে নেয় অথবা নিজেই প্রভু হয়ে বসে কিংবা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পৃথিবীতে নিজে স্বাধীন হওয়ার নীতি ও আচরণ করে এবং নিজের ওপর, আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির ওপর এবং পৃথিবীর যে জিনিসের সাথেই তারা সংশ্লিষ্ট হয় তার ওপরই অত্যাচার ও বাড়াবাড়ি করে, এসব ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে জ্ঞান-বুদ্ধি ও ইনসাফের সকল সীমালংঘনকারী মানুষ।
এর দু’টো ব্যাখ্যা হতে পারে (ক) তোমরা যে প্রতিমাদের পূজা কর তারা যে তাদের পূজা করার জন্য কাউকে ডাকবে সে ক্ষমতাই তাদের নেই। (খ) তোমরা যাদের পূজা করার দাওয়াত আমাকে দিচ্ছ, তারা এ দাওয়াতের উপযুক্ত নয় আদৌ।
৪৩. নিঃসন্দেহ যে, তোমরা আমাকে যার দিকে ডাকছ, সে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও ডাকের যোগ্য নয়। আর আমাদের ফিরে যাওয়া তো আল্লাহর দিকে এবং নিশ্চয় সীমালঙ্ঘনকারীরা আগুনের অধিবাসী।
(৪৩) নিশ্চয়ই(1) তোমরা আমাকে এমন একজনের প্রতি আহবান করছ, যে ইহলোকে(2) ও পরলোকে কোথাও আহবান-যোগ্য নয়।(3) বস্তুতঃ আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহর দিকে(4) এবং অবশ্যই সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।(5)
(1) لاَ جَرَمَ এর অর্থঃ এ কথা নিশ্চিত যে অথবা এ কথা মিথ্যা নয় যে।
(2) অর্থাৎ, ইহকালে কারো আহবান শোনারই তো ক্ষমতা রাখে না যে, তোমাদের উপকার করতে পারে অথবা উপাস্য হওয়ার যোগ্য হতে পারে। এর অর্থ প্রায়ই ঐ অর্থই যা এই আয়াতে এবং এই ধরনের অন্যান্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে,
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ অর্থাৎ, সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামত দিবস পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের ডাক সম্বন্ধে অবহিতও নয়। (সূরা আহক্বাফ ৫ আয়াত) إِنْ تَدْعُوهُمْ لا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ অর্থাৎ, যদি তোমরা তাদেরকে ডাক, তবে তারা তোমাদের ডাক শোনে না। আর শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। (সূরা ফাত্বির ১৪ আয়াত)
(3) অর্থাৎ, এটাও সম্ভব নয় যে, আখেরাতে তারা কারো ডাক শুনে তাকে আযাব থেকে মুক্তি দিতে পারবে অথবা সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে। যাদের অবস্থা এই, তারা কি উপাস্য হওয়ার যোগ্য যে, তাদের ইবাদত করা যাবে? (এই জন্য উলামাগণ বলেন, সাহায্যের জন্য গায়রুল্লাহকে আহবান করা তিনটি শর্তে বৈধ; (ক) তাকে জীবিত থাকতে হবে, (খ) উপস্থিত থাকতে হবে এবং (গ) সাড়া দেওয়া বা সাহায্য করার ক্ষমতা থাকতে হবে। নচেৎ তাকে আহবান করা বৃথা ও শিরক। -সম্পাদক)
(4) যেখানে সকলের হিসাব হবে এবং ভাল ও মন্দ আমল অনুযায়ী প্রতিদান ও শাস্তি দেওয়া হবে।
(5) অর্থাৎ, কাফের ও মুশরিকরা। যারা আল্লাহর অবাধ্যতায় সীমাতিক্রম করে। অনুরূপ যে মুসলিম খুব বেশী পাপকারী হবে, যার অবাধ্যতা ‘সীমালঙ্ঘন’এর পর্যায়ে পৌঁছে যাবে (এবং তা শিরক বা কুফরী না হয়ে কাবীরা গোনাহ হবে, আল্লাহ মাফ না করলে) তাকেও কিছুকাল জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করতে হবে। অতঃপর রসূল (সাঃ)-এর সুপারিশ অথবা আল্লাহর ইচ্ছায় তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।