إِذۡ هَمَّت طَّآئِفَتَانِ مِنكُمۡ أَن تَفۡشَلَا وَٱللَّهُ وَلِيُّهُمَاۗ وَعَلَى ٱللَّهِ فَلۡيَتَوَكَّلِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ

ইযহাম্মাত তাইফাতা-নি মিনকুম আন তাফশালা-ওয়াল্লা-হু ওয়ালিইয়ুহুমা-ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।উচ্চারণ

স্মরণ করো, যখন তোমাদের দুটি দল কাপুরুষতার প্রদর্শনী করতে উদ্যোগী হয়েছিল, ৯৫ অথচ আল্লাহ‌ তাদের সাহায্যের জন্য বর্তমান ছিলেন এবং মু’মিনদের আল্লাহরই ওপর ভরসা করা উচিত। তাফহীমুল কুরআন

যখন তোমাদেরই মধ্যকার দু’টি দল হিম্মত হারিয়ে ফেলার উপক্রম করেছিল। #%৫৬%# অথচ আল্লাহ তাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী ছিলেন। মুমিনদের তো আল্লাহরই উপর নির্ভর করা উচিত।মুফতী তাকী উসমানী

যখন তোমাদের দুই দল ভীরুতা প্রকাশের সংকল্প করেছিল এবং আল্লাহ সেই দলদ্বয়ের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন; এবং মু’মিনগণই আল্লাহর উপর নির্ভর করে থাকে।মুজিবুর রহমান

যখন তোমাদের দুটি দল সাহস হারাবার উপক্রম হলো, অথচ আল্লাহ তাদের সাহায্যকারী ছিলেন, আর আল্লাহর উপরই ভরসা করা মুমিনদের উচিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন তোমাদের মধ্যে দুই দলের সাহস হারানোর উপক্রম হয়েছিল অথচ আল্লাহ্ উভয়ের বন্ধু ছিলেন, আল্লাহ্ র প্রতিই যেন মু’মিনগণ নির্ভর করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন তোমাদের মধ্য থেকে দু’দল* পিছু হটার ইচ্ছা করল, অথচ আল্লাহ তাদের উভয়ের অভিভাবক। আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে।আল-বায়ান

যখন তোমাদের মধ্যকার দু’দল ভীরুতা প্রকাশ করতে মনস্থ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ উভয়ের বন্ধু ছিলেন, মু’মিনদের উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করা।তাইসিরুল

স্মরণ করো! তোমাদের মধ্যে থেকে দুইটি দল ভীরুতা দেখাবার মনস্থ করেছিল, আর আল্লাহ্ ছিলেন তাদের উভয়ের অভিভাবক, আর আল্লাহ্‌র উপরেই তাহলে বিশ্বাসীদের নির্ভর করা উচিত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯৫

এখানে বনু সাল্‌মা ও বনু হারেসার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সাথীদের ময়দান থেকে সরে পড়ার কারণে তারা সাহস হারিয়ে ফেলেছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুকাবিলার উদ্দেশ্যে যখন মদীনা মুনাওয়ারা থেকে বের হন, তখন তাঁর সঙ্গে সৈন্য সংখ্যা ছিল এক হাজার। কিন্তু মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাস্তা থেকে এই বলে তার তিনশ’ লোককে নিয়ে ফেরত চলে যায় যে, আমাদের মত ছিল শহরের ভেতর থেকে শত্রুদের প্রতিরোধ করা। কিন্তু আপনি আমাদের মতের বিরুদ্ধে শহরের বাইরে চলে এসেছেন। কাজেই আমরা এ যুদ্ধে শরীক হব না। এ পরিস্থিতিতে খাঁটি মুসলিমদের দু’টি গোত্রও হতোদ্যম হয়ে পড়ে। একটি গোত্র বনু হারিছা, অন্যটি বনু সালিমা। তাদের অন্তরে এই ভাবনা সৃষ্টি হল যে, তিন হাজার সৈন্যের মুকাবিলায় সাতশ’ লোক তো নিতান্তই কম। এরূপ ক্ষেত্রে যুদ্ধ করার চেয়ে ফিরে যাওয়াই শ্রেয়। কিন্তু পরক্ষণেই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সাহায্য করেন। ফলে তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এ আয়াতে সে দিকেই ইশারা করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২২. যখন তোমাদের মধ্যে দু'দলের সাহস হারাবার উপক্রম হয়েছিল অথচ আল্লাহ উভয়ের অভিভাবক ছিলেন(১), আর আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ নির্ভর করে।(২)

(১) অর্থাৎ তোমাদের দুটি দল ভীরুতা প্রকাশের সংকল্প করেছিল, অথচ আল্লাহ তাদের সহায় ছিলেন। এ দুই দল হলো আউস গোত্রের বনী হারেসা এবং খাযরাজ গোত্রের বনী সালমা। এরা উভয়ই আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের দেখাদেখি দুর্বলতা প্রদর্শন করেছিল। প্রকৃতপক্ষে নিজেদের মধ্যে দুর্বলতা ছিল না, বরং স্বদলের সংখ্যাল্পতা ও সাজ-সরঞ্জামের অভাব দেখেই তারা এ ধারণার বশবর্তী হয়ে পড়েছিল। তবে আয়াতের منكم বাক্যটি তাদের ঈমানের পূর্ণাঙ্গতারই সাক্ষ্য দিচ্ছে। এ গোত্রদ্বয়ের মধ্য থেকে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ বলতেন, “এ আয়াত যদিও আমাদের বনু হারেসা ও বনু সালামাকে উদ্দেশ্য করে নাযিল হয়েছিল এবং আয়াতে আমাদের প্রতি কঠোর বাণী উচ্চারিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু (وَاللَّهُ وَلِيُّهُمَا) ব্যাক্যাংশের সুসংবাদও আমাদের লক্ষ্য করেই উক্ত হয়েছে। এ কারণে এ আয়াত নাযিল না হওয়া আমাদের জন্য সুখকর ছিল না। (বুখারীঃ ৪০৫১, ৪৫৫৮, মুসলিমঃ ২৫০৫)

(২) আয়াতের শেষে বলা হয়েছেঃ আল্লাহর উপর ভরসা করাই মুসলিমদের কর্তব্য। এতে পরিস্কার বলা হয়েছে যে, সংখ্যাধিক্য ও সাজ-সরঞ্জাম ও অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করার পর ভরসা একমাত্র আল্লাহ পাকের উপরই করা দরকার। সাজ-সরঞ্জামের অভাব দেখেই বনী-হারেসা ও বনী সালমার মনে দুর্বলতা ও ভীরুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। আল্লাহর প্রতি ভরসা দ্বারা এর প্রতিকার করা হয়েছে। আল্লাহর প্রতি যথার্থ ভরসা ও আস্থাই এ জাতীয় কুমন্ত্রণার অমোঘ প্রতিকার। মূলত: তাওয়াক্কুল (আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভরসা) মানুষের প্রতি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। ইয়াদ ইবন গানম আল-আশ’আরী বলেন, ইয়ারমূকের যুদ্ধে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু পরপর পাঁচজনকে আমীর বানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, যুদ্ধ শুরু হলে একমাত্র আমীর হবে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ।

যুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধের ময়দান থেকে আমরা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লিখলাম; মৃত্যু আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের জন্য সাহায্য পাঠান। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটার উত্তরে লিখলেন, সাহায্য চেয়ে পাঠানো পত্র আমার হস্তগত হয়েছে। আমি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দেব যিনি সবচেয়ে বেশী সাহায্য করতে পারেন, যাঁর সেনাবাহিনী সদা প্রস্তুত, তিনি হচ্ছেন, আল্লাহ তা'আলা। সুতরাং তোমরা তার কাছেই সাহায্য চাও। কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদরের দিনে তোমাদের চেয়ে কম সংখ্যা ও অস্ত্র-সন্ত্র নিয়েও কাফেরদের উপর জয়লাভ করেছিলেন। অতএব, যখন আমার এ চিঠি আসবে তখন তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, এ ব্যাপারে আর আমার সাথে যোগাযোগ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা যুদ্ধ করলাম এবং যুদ্ধে জয়লাভ করলাম। (মুসনাদে আহমাদ ১/৪৯; সহীহ ইবন হিব্বান: ১১/৮৩-৮৪)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২২) যখন তোমাদের মধ্যে দু’টি দলের মনোবল হারাবার উপক্রম হয়েছিল(1) এবং আল্লাহ ছিলেন উভয়ের সহায়ক।(2) আর বিশ্বাসীদের উচিত, আল্লাহর উপরেই নির্ভর করা।

(1) এরা ছিল আউস ও খাযরাজ নামে দু’টি গোত্র (বানু-হারিসা ও বানু-সালামা)।

(2) এ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাঁদের সাহায্য করেন এবং মনের দুর্বলতাকে দূর করে তাঁদের সাহস বাড়িয়ে দেন।