মাছালু মা-ইউনফিকূনা ফী হা-যিহিল হায়া-তিদ্দুনইয়া-কামাছালি রীহিন ফীহাসিররুন আসা-বাত হারছা কাওমিন জালামু-আনফুছাহুম ফাআহলাকাতহু ওয়ামা-জালামাহুমুল্লা-হু ওয়ালা-কিন আনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।উচ্চারণ
তারা তাদের এই দুনিয়ার জীবনে যা কিছু ব্যয় করছে তার উপমা হচ্ছে এমন বাতাস যার মধ্যে আছে তুষার কণা। যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তাদের শস্যক্ষেতের ওপর দিয়ে এই বাতাস প্রবাহিত হয় এবং তাকে ধ্বংস করে দেয়। ৯১ আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেননি। বরং প্রকৃতপক্ষে এরা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে। তাফহীমুল কুরআন
তারা এ দুনিয়ার জীবনে যা-কিছু ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত এ রকম, যেমন হিমশীতল বায়ু এমন একদল লোকের শস্য-ক্ষেতে আঘাত হানে #%৫২%# ও তা ধ্বংস করে দেয়, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করেননি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করছে।মুফতী তাকী উসমানী
তারা পার্থিব জীবনে যা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত শৈত্যপূর্ণ ঝঞ্ঝা-বায়ুর অনুরূপ - যারা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করেছে - ওটা সেই সকল সম্প্রদায়ের শস্যক্ষেতে নিপতিত হয় এবং তা বিধ্বস্ত করে। এবং আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যাচার করেননি, বরং তারাই স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার করেছে।মুজিবুর রহমান
এ দুনিয়ার জীবনে যা কিছু ব্যয় করা হয়, তার তুলনা হলো ঝড়ো হাওয়ার মতো, যাতে রয়েছে তুষারের শৈত্য, যা সে জাতির শস্যক্ষেত্রে গিয়ে লেগেছে যারা নিজের জন্য মন্দ করেছে। অতঃপর সেগুলোকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের উপর কোন অন্যায় করেননি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এই পার্থিব জীবনে যা তারা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বায়ু, এটা যে জাতি নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে তাদের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে ও বিনষ্ট করে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি কোন জুলুম করেন নাই, তারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা দুনিয়ার জীবনে যা ব্যয় করে, তার উপমা সেই বাতাসের ন্যায়, যাতে রয়েছে প্রচন্ড ঠান্ডা, যা পৌঁছে এমন কওমের শস্যক্ষেতে, যারা নিজদের উপর যুলম করেছিল। অতঃপর তা শস্যক্ষেতকে ধ্বংস করে দেয়। আর আল্লাহ তাদের উপর যুলম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজদের উপর যুলম করে।আল-বায়ান
এ পার্থিব জীবনে তারা যা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বাতাসের মত যা নিজেদের প্রতি যুলমকারী সম্প্রদায়ের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে এবং তাকে নষ্ট করে। মূলতঃ তাদের প্রতি আল্লাহ কোন প্রকার যুলম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করে থাকে।তাইসিরুল
দুনিয়ার এই জীবনে তারা যা খরচ করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে বাতাসের দৃষ্টান্তের মতো যাতে রয়েছে কনকনে ঠান্ডা, এ ঝাপটা দিল সেই লোকদের ফসলে যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছে, কাজেই এ ধ্বংস করে দিল তা। আর আল্লাহ্ তাদের প্রতি অন্যায় করেন নি, বরং তারা তাদের নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছে।মাওলানা জহুরুল হক
৯১
এই উপমাটিতে শস্যক্ষেত মানে হচ্ছে জীবন ক্ষেত্র। আখেরাতে মানুষকে তার এই জীবনক্ষেতের ফসল কাটতে হবে। বাতাস বলতে মানুষের বাহ্যিক কল্যাণাকাংখাকে বুঝানো হয়েছে। যার ভিত্তিতে কাফেররা জনকল্যাণমূলক কাজ এবং দান খয়রাত ইত্যাদিতে অর্থ ব্যয় করে থাকে। আর তূষারকণা হচ্ছে, সঠিক ঈমান ও আল্লাহর বিধান অনুসৃতির অভাব, যার ফলে তাদের সমগ্র জীবন মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। এ উপমাটির সাহায্যে আল্লাহ একথা বলতে চাচ্ছেন যে, শস্যক্ষেতের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাতাস যেমন উপকারী তেমনি আবার এই বাতাসের মধ্যে যদি তূষারকণা থাকে তাহলে তা শস্যক্ষেতকে সবুজ শ্যামল করার পরিবর্তে ধ্বংস করে দেয়। ঠিক তেমনি দান-খয়রাত যদিও মানুষের আখেরাতের ক্ষেতের পরিচর্যা করে কিন্তু তার মধ্যে কুফরীর বিষ মিশ্রিত থাকলে তা লাভজনক হবার পরিবর্তে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। একথা সুস্পষ্ট যে, মানুষের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ এবং মানুষ যে ধন-সম্পদ ব্যয় করছে তার মালিকও আল্লাহ। এখন যদি আল্লাহর এই দাস তার মালিকের সার্বভৌম কর্তৃত্ব স্বীকার না করে অথবা তাঁর বন্দেগীর সাথে আর কারো অবৈধ বন্দেগী শরীক করে এবং আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ ব্যয় করে ও তাঁর রাজ্যের মধ্যে চলাফেরা ও বিভিন্ন কাজ কারবার করে তাঁর আইন ও বিধানের আনুগত্য না করে, তাহলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তার এ সমস্ত কাজ অপরাধে পরিণত হয়। প্রতিদান পাওয়া তো দূরের কথা বরং এই সমস্ত অপরাধ তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করার ভিত্তি সরবরাহ করে। তার দান খয়রাতের দৃষ্টান্ত হচ্ছেঃ কোন চাকর যেন তার মনিবের অনুমতি ছাড়াই তার অর্থ ভাণ্ডারের দরজা খুলে নিজের ইচ্ছামত যেখানে সঙ্গত মনে করলো সেখানে ব্যয় করে ফেললো।
কাফিরগণ দান-খয়রাত ইত্যাদি যা-কিছু করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিদান তাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেন। তাদের কুফরীর কারণে তারা আখিরাতে সেসব কাজের কোনও সওয়াব পাবে না। সুতরাং তাদের সেবামূলক কার্যক্রমের দৃষ্টান্ত হল শস্যক্ষেত্র, আর তাদের কুফরী কাজের দৃষ্টান্ত হিমশীতল ঝড়ো হাওয়া। সেই ঝড়ো হাওয়া যেমন মনোরম শস্যক্ষেত্রকে তছনছ করে দেয়, তেমনি তাদের কুফরও তাদের সেবামূলক কার্যক্রম ধ্বংস করে দেয়।
১১৭. এ পার্থিব জীবনে যা তারা ব্যয় করে তার দৃষ্টান্ত হিমশীতল বায়ু, যা আঘাত করে ঐ জাতির শস্যক্ষেতে, যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে; অতঃপর তা ধ্বংস করে দেয়। আর আল্লাহ্ তাদের প্রতি কোন যুলুম করেননি, তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করে।
(১১৭) তারা যা কিছু পার্থিব জীবনে ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত হিম-শীতল ঝঞ্জা বায়ুর মত, যা যে জাতি নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছে, তাদের শস্যক্ষেত্রকে আঘাত করে ও তা বিনষ্ট করে দেয়।(1) বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম করেন না, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করে থাকে।
(1) কিয়ামতের দিন কাফেরদের ধন-সম্পদ না কোন উপকারে আসবে, না তাদের সন্তান-সন্তুতি; এমন কি বাহ্যিকভাবে জন-সাধারণের কল্যাণ ও মঙ্গলের কাজে যে সব অর্থ ব্যয় করে, তাও ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর এর উদাহরণ হল, সেই প্রচন্ড ঠান্ডা অথবা গরম প্রবল ঝড়ো হাওয়ার মত, যা সবুজ-শ্যামল শস্যক্ষেতকে ধ্বংস করে দেয়। অত্যাচারী তো এই ক্ষেত দেখে বড়ই আনন্দবোধ করে এবং তার লাভের প্রতি চরম আশাবাদী থাকে, কিন্তু হঠাৎ করে তার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা মাটিতে মিশে যায়। এ থেকে জানা গেল যে, কল্যাণ ও মঙ্গলের কাজে অর্থ ব্যয়কারীদের দুনিয়াতে যতই প্রশংসা হোক না কেন, ঈমান না আনা পর্যন্ত আখেরাতে তারা এ সব কাজের কোনই প্রতিদান পাবে না। সেখানে আছে তাদের জন্য জাহান্নামের চিরন্তন শাস্তি।